উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব রহিম তার উৎপাদিত শসা স্থানীয় বাজারে ১০ টাকা কেজি দরে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করেন। ফড়িয়ারা আবার ঢাকার পাইকারদের কাছে বিক্রি করে। পাইকাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। এভাবে নানা হাত ঘুরে যখন ঐ শসা ভোক্তাদের কাছে আসে তখন তারা ৪৫ টাকা কেজি দরে কেনে। অথচ উৎপাদনকারী কৃষক মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন।
- ক)(1)
কৃষিজাত পণ্য কী?
- খ)(2)
পাইকারী ব্যবসায় বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব রহিম কোন ধরনের বণ্টন প্রণালি ব্যবহার করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আমাদের দেশের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি কাজের মাধ্যমে জমি চাষাবাদ করে প্রকৃতি থেকে যে সকল পণ্য সরাসরি উৎপাদিত বা আহরিত হয়, সেগুলোকে কৃষিজাত পণ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ব্যবসায় প্রক্রিয়ায় উৎপাদক বা আমদানিকারকের কাছ থেকে অধিক পরিমাণে বা পাইকারি হারে পণ্য ক্রয় করে তা খুচরা ব্যবসায়ী বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিকট পুনঃবিক্রয় করা হয়, তাকে পাইকারী ব্যবসায় বলে।
পাইকাররা সাধারণত সরাসরি চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রি করেন না। তারা বৃহৎ পরিসরে পণ্য সংগ্রহ, গুদামজাতকরণ ও অর্থায়নের দায়িত্ব পালন করেন এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়মিত সরবরাহ করে উৎপাদক ও খুচরা ব্যবসায়ীর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব রহিম পরোক্ষ বা বহুধাপবিশিষ্ট দীর্ঘ বণ্টন প্রণালি ব্যবহার করেন।
যে বণ্টন প্রণালিতে উৎপাদক ও চূড়ান্ত ভোক্তার মাঝে একাধিক মধ্যস্থব্যবসায়ী (যেমন: ফড়িয়া, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী ইত্যাদি) কাজ করে, তাকে পরোক্ষ বা দীর্ঘ বণ্টন প্রণালি বলে। এ প্রণালিতে উৎপাদক সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রি না করে মধ্যস্থব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রহিম তার উৎপাদিত শসা সরাসরি ভোক্তার কাছে না পৌঁছে দিয়ে প্রথমে স্থানীয় বাজারে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করেন। ফড়িয়ারা বিক্রি করে ঢাকার পাইকারদের কাছে, পাইকাররা আবার খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এবং পরিশেষে খুচরা বিক্রেতা তা ভোক্তার কাছে পৌঁছায়। অর্থাৎ এখানে 'উৎপাদক → ফড়িয়া → পাইকার → খুচরা ব্যবসায়ী → ভোক্তা' এই তিন স্তরের দীর্ঘ মধ্যস্থতাকারী শিকল ব্যবহৃত হয়েছে, যা একটি চিরাচরিত পরোক্ষ বণ্টন প্রণালি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমাদের দেশের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পেছনে দীর্ঘ মধ্যস্থতাকারী শিকল এবং বিপণন অবকাঠামোর অভাবই প্রধান কারণ, যা উদ্দীপকের পরিস্থিতি থেকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রহিম কঠোর পরিশ্রম করে উৎপাদিত শসা স্থানীয় বাজারে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হন। অথচ সেই শসা হাতবদল হয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত ভোক্তার টেবিলে যখন পৌঁছায়, তখন তার দাম দাঁড়ায় প্রতি কেজি ৪৫ টাকা। এই অতিরিক্ত ৩৫ টাকার সিংহভাগই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে, যার কোনো সুফল প্রাথমিক উৎপাদনকারী কৃষক পান না।
আমাদের দেশে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার মূল কারণগুলো হলো:
১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য: ফড়িয়া, দালাল, আড়তদার ও পাইকারদের অতি মুনাফালোভী হাতবদল কৃষকের ন্যায্য অংশ কেড়ে নেয়।
২. সংরক্ষণের অভাব: পচনশীল শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ বা যথাযথ গুদাম নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে কৃষক কম দামেই দ্রুত পণ্য ছেড়ে দেন।
৩. পরিবহন ও সরাসরি বিপণন সুবিধার অভাব: প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সরাসরি বড় বাজারে পণ্য পাঠানোর সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা না থাকা।
৪. আর্থিক অসচ্ছলতা ও তথ্যের অভাব: কৃষক তাৎক্ষণিক নগদ অর্থের প্রয়োজনে স্থানীয় ফড়িয়াদের নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন এবং বাজারের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে অনবহিত থাকেন।পরিশেষে বলা যায়, মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিক্য এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সমবায়ী বিপণন এবং সরাসরি বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও