বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

4.

(ঘ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা

ভূমিকা:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি বাংলাদেশ। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা এ দেশের রূপ-বৈচিত্র্য যেকোনো মানুষকে মুগ্ধ করে। আধুনিক বিশ্বে পর্যটন একটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং লাভজনক শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বখ্যাত দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এসব সম্পদকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানসমূহ:
১. কক্সবাজার: বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সমুদ্রসৈকত।
২. কুয়াকাটা: যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উভয়ই অবলোকন করা যায়।
৩. সুন্দরবন: বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল।
৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি): সবুজ পাহাড়, ঝরনা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি।
৫. সিলেট অঞ্চল: চা-বাগান, জাফলং, বিছনাকান্দি ও রত্নগর্ভা হাওর।
৬. প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, ময়নামতী, মহাস্থানগড় ও ষাটগম্বুজ মসজিদ।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের প্রধান সমস্যাসমূহ:
১. অবকাঠামোগত ঘাটতি: মানসম্মত রাস্তাঘাট, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব।
২. প্রচার ও বিপণনের অভাব: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পর্যটন স্থানগুলোর কার্যকর প্রচারণার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
৩. পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার অভাব: পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং পেশাদার গাইডের অভাব।
৪. নীতি ও পরিকল্পনার অপর্যাপ্ততা: একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনার ধীর বাস্তবায়ন।
৫. পরিবেশ দূষণ: পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ দূষণের ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

সমস্যা সমাধানে করণীয়:
১. যোগাযোগ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন ঘটানো।
২. আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারণা বাড়ানো।
৩. ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিধি ও তৎপরতা বৃদ্ধি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানো।
৫. পরিবেশবান্ধব 'ইকো-ট্যুরিজম' ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া।

সম্ভাবনা:
পর্যটন শিল্পের যথাযথ বিকাশ ঘটলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। স্থানীয় সংস্কৃতি, হস্তশিল্প ও লোকজ ঐতিহ্যের বিস্তার ঘটবে এবং জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

উপসংহার:
প্রকৃতি বাংলাদেশকে অকৃপণ হাতে সাজিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে পর্যটন শিল্প বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন