অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে জড়িত। বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি বাংলাদেশের আমদানি এবং রপ্তানি বাণিজ্যে পরিবর্তনের ধারা লক্ষ করছেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত দ্রব্যের পাশাপাশি অপ্রচলিত দ্রব্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও লক্ষ করলেন যে, বিশ্বায়নের ফলে বাংলাদেশের উৎপাদিত দ্রব্যের প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে।
- ক)(1)
বিশ্বায়ন কী?
- খ)(2)
"বিশ্বায়ন ও তথ্য প্রযুক্তির মধ্যে সম্পর্ক সমমুখী"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে মি. আহমেদ বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিবর্তনের যে ধারা লক্ষ করেছেন তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে বিশ্বায়নের নেতিবাচক প্রভাব আছে কি? আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পুরো বিশ্ব একটি উন্মুক্ত ও একক বাজারে বা বৈশ্বিক গ্রামে (Global Village) পরিণত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির মধ্যে সমমুখী অর্থাৎ ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ ও অগ্রগতির ফলেই বিশ্বায়ন দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইন্টারনেট, কম্পিউটার, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বের এক প্রান্তের তথ্য, পণ্য ও সেবার চাহিদা মুহূর্তেই অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও তথ্যের আদান-প্রদান তত সহজ ও দ্রুততর হচ্ছে, যা বিশ্বায়নের প্রক্রিয়াকে বেগবান করছে। অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ঘটলে বিশ্বায়ন তরান্বিত হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির স্থবিরতায় বিশ্বায়নের গতি কমে যায়। তাই বলা হয়, এদের সম্পর্ক সমমুখী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. আহমেদ বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পণ্য কাঠামোর পরিবর্তনের ধারা লক্ষ করেছেন, যা প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি অপ্রচলিত পণ্যের আধিক্য বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।
স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল পাট ও পাটজাত দ্রব্যের মতো প্রচলিত পণ্য। তবে বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ধারায় উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী কাঁচা পাট বা চা ইত্যাদি প্রচলিত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং অপ্রচলিত পণ্য যেমন—তৈরি পোশাক (RMG), নিটওয়্যার, হিমায়িত খাদ্য (চিংড়ি), ওষুধ, চামড়াজাত দ্রব্য, হালকা প্রকৌশল সামগ্রী এবং সিরামিক পণ্যের রপ্তানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে আমদানির ক্ষেত্রেও মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং জ্বালানি তেলের অনুপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্দীপকে মি. আহমেদ বৈদেশিক বাণিজ্যের এই পণ্যভিত্তিক রূপান্তর ও বহুমুখীকরণ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে বিশ্বায়নের উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। উদ্দীপকেও উল্লেখ রয়েছে যে, বিশ্বায়নের ফলে বাংলাদেশের উৎপাদিত দ্রব্য তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশ্বায়নের নেতিবাচক দিকগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. অসম প্রতিযোগিতা: উন্নত দেশগুলোর আধুনিক প্রযুক্তি ও ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্যের সাথে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং নবীন শিল্পগুলো অসম প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না।
২. দেশীয় শিল্পের ক্ষতি: অবাধ বাণিজ্যের সুযোগে সস্তা ও উন্নতমানের বিদেশি পণ্য দেশের বাজারে প্রবেশ করায় অনেক দেশীয় শিল্প রুগ্ণ হয়ে পড়ে বা বন্ধ হয়ে যায়।
৩. আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা: বিশ্বায়নের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির যেকোনো মন্দা বা সংকট (যেমন—বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বা অর্থনৈতিক মন্দা) সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৪. ব্রেন ড্রেন বা মেধা পাচার: আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত সুযোগের কারণে দেশের অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নত দেশে স্থায়ীভাবে চলে যায়, যার ফলে দেশীয় উন্নয়ন ব্যাহত হয়।
৫. বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি: আমদানির তুলনায় রপ্তানির সক্ষমতা সীমিত থাকায় প্রায়ই বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রতিকূল বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়।সুতরাং, বিশ্বায়নের কিছু ইতিবাচক সুবিধা থাকলেও যথাযথ সুরক্ষানীতি ও দক্ষতার অভাব থাকলে বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে এর ক্ষতিকর বা নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত প্রবল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও