জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

শিক্ষক রুই মাছ সম্পর্কে পাঠাদানকালে বললেন, এদের দেহের অভ্যন্তরে বায়ুপূর্ণ এমন একটি বিশেষ অঙ্গ আছে যা পানিতে প্রাণিটির ভারসাম্য রক্ষা ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও প্রাণিটির রক্তসংবহন পদ্ধতি তোমাদের রক্তসংবহন পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্নতর

  1. ক)

    ফুলকা রেকার কী?

    (1)
  2. খ)

    ভেনাস হার্ট বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটির গঠন বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রুই মাছের ফুলকা আর্কের ভেতরের খাঁজে অবস্থিত কাঁটার মতো প্রবর্ধক বা কাঁটাযুক্ত অংশ, যা গলবিল থেকে খাদ্য ফুলকা প্রকোষ্ঠে প্রবেশে বাধা দেয়, তাকে ফুলকা রেকার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত (অক্সিজেনবিহীন/ডি-অক্সিজেনেটেড) রক্ত পরিবাহিত হয়, তাকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলে।
    মাছের হৃৎপিণ্ড একটি ভেনাস হার্ট। রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে সারাদেহ থেকে গৃহীত CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃৎপিণ্ডে আসে এবং হৃৎপিণ্ড তা ফুলকাতে পাঠায়। এদের হৃৎপিণ্ডের কোনো প্রকোষ্ঠেই অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত প্রবেশ করে না। কেবল শিরাস্থ বা অনক্সিজেনিত রক্ত সংবহন করায় একে ভেনাস হার্ট বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটি হলো রুই মাছের বায়ুথলি বা পটকা (Swim bladder)।
    বায়ুথলির গঠন নিম্নরূপ:
    ১. অবস্থান ও প্রকোষ্ঠ: এটি মেরুদণ্ডের নিচে ও পৌষ্টিকনালির ওপরের দিকে অবস্থিত একটি পাতলা প্রাচীরযুক্ত, চকচকে সাদা রঙের থলি। থলিটি একটি খাঁজ দ্বারা অগ্র ও পশ্চাৎ— দুটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। অগ্র প্রকোষ্ঠটি আকারে ছোট এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠটি লম্বাটে ও বড়।
    ২. প্রাচীর: বায়ুথলির প্রাচীর মূলত দুটি প্রধান স্তর নিয়ে গঠিত— বাইরের টিউনিকা এক্সটার্না (ঘন যোজক কলা নির্মিত) এবং ভেতরের টিউনিকা ইন্টার্না (মসৃণ পেশি ও রক্তজালিকা সমৃদ্ধ)।
    ৩. নিউম্যাটিক নালী: অগ্র প্রকোষ্ঠের অঙ্কীয় দেশ থেকে উৎপন্ন একটি সরু নালী (নিউম্যাটিক নালী) পটকাকে পৌষ্টিকনালির অন্ননালির সাথে যুক্ত রাখে। এ ধরনের মাছকে ফিজোস্টোমাস মাছ বলে।
    ৪. গ্যাস গ্রন্থি ও রেটি মিরাবিলিয়া: বায়ুথলির অভ্যন্তরীণ এপিথেলিয়ামে রক্তজালকসমৃদ্ধ বিশেষ 'রেড গ্ল্যান্ড' বা লাল গ্রন্থি থাকে। এতে সূক্ষ্ম রক্তনালীর একটি জালক থাকে, যাকে রেটি মিরাবিলিয়া (Rete mirabile) বলা হয়। অগ্র প্রকোষ্ঠের এই গ্রন্থি থেকে গ্যাস (O₂, CO₂, N₂) নিঃসৃত হয় এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠের রক্তজালিকা দ্বারা অতিরিক্ত গ্যাস শোষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটি হলো— রুই মাছের রক্তসংবহন পদ্ধতি মানুষের (আমাদের) রক্তসংবহন পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্নতর। উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ। নিচে এদের পার্থক্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সংবহনের প্রকৃতি: রুই মাছের রক্তসংবহন একক চক্রী (Single circulation)। অর্থাৎ একবারের সম্পূর্ণ আবর্তনে রক্ত হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল একবারই প্রবেশ ও নির্গত হয়। পক্ষান্তরে, মানুষের সংবহন দ্বি-চক্রী (Double circulation), যেখানে প্রতি চক্রে রক্ত হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দু'বার (পালমোনারি চক্র ও সিস্টেমিক চক্র) প্রবাহিত হয়।
    ২. পরিবাহিত রক্তের ধরন: রুই মাছের হৃৎপিণ্ড দিয়ে কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) সমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়, এজন্য একে 'ভেনাস হার্ট' বলে। হৃৎপিণ্ডে কখনোই অক্সিজেনযুক্ত রক্ত আসে না। অন্যদিকে মানুষের হৃৎপিণ্ডের ডান অংশে CO₂-যুক্ত রক্ত এবং বাম অংশে O₂-যুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয়। ফলে হৃৎপিণ্ডে দুই ধরনের রক্ত সর্বদা সম্পূর্ণ পৃথক থাকে।
    ৩. হৃৎপিণ্ডের গঠনগত প্রকোষ্ঠ: রুই মাছের হৃৎপিণ্ড মূলত দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠ (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং উপ-প্রকোষ্ঠ (সাইনাস ভেনোসাস ও বাল্বাস আর্টারিওসাস) নিয়ে গঠিত। কিন্তু মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি সুস্পষ্ট প্রকোষ্ঠ (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়) বিশিষ্ট।
    ৪. গ্যাস বিনিময়ের অঙ্গ: রুই মাছের হৃৎপিণ্ড থেকে CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত অঙ্কীয় মহাধমনি দিয়ে ফুলকাতে যায় এবং ফুলকা থেকে পরিশোধিত হয়ে সরাসরি ডর্সাল অ্যাওর্টার মাধ্যমে দেহকোষে চলে যায়। মানুষের ক্ষেত্রে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে যায় এবং ফুসফুস থেকে পুনরায় হৃৎপিণ্ডে ফিরে এসে অতঃপর সারা দেহে পরিবাহিত হয়।

    সুতরাং উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে রুই মাছের রক্তসংবহন মানুষের রক্তসংবহন অপেক্ষা মৌলিকভাবে ভিন্নতর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন