সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

১৯৭২ সাল থেকে একটি সংস্থা বাংলাদেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নমূলক অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সাথে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের উন্নয়নকে সুসংহত ও ফলপ্রসূ করতে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তাছাড়া এটি মানবসম্পদ উন্নয়নেও অন্যন্য ভূমিকা রাখছে।

  1. ক)

    মানবতা, পক্ষপাতহীনতা নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা কোন সংস্থার মূলনীতি?

    (1)
  2. খ)

    ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম "লিঙ্গ সমতা আনয়ন" বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটির বিবৃত কার্যক্রমের বিশেষত্ব কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে সুসংহত ও ফলপ্রসূ করতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে সে সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবতা, পক্ষপাতহীনতা, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের (Red Cross and Red Crescent Movement) মূলনীতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম 'লিঙ্গ সমতা আনয়ন' বলতে পরিবার ও সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করে উভয়ের সমান সুযোগ, অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করাকে বোঝায়। এর মাধ্যমে নারীশিক্ষা বিস্তার, নারী নির্যাতন রোধ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পরিবার ও সমাজকে নারীবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সচেতনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি হলো 'ইউএনডিপি' (United Nations Development Programme - UNDP)। এর বিবৃত কার্যক্রমের প্রধান বিশেষত্ব হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক রূপদান, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন।

    ইউএনডিপি ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে টেকসই মানব উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। উদ্দীপকে বর্ণিত কার্যক্রমের বিশেষত্ব হলো:
    ১. সুশাসন ও গণতন্ত্রায়ন: ইউএনডিপি কেবল বস্তুগত ত্রাণ বা অনুদানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা এবং বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সহায়তা প্রদান করে।
    ২. প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য।
    ৩. মানবসম্পদ ও নীতিগত সহায়তা: টেকসই উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে এ সংস্থাটি কারিগরি ও আর্থিক বিশেষজ্ঞ সেবা প্রদান করে থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে সুসংহত ও ফলপ্রসূ করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়। এ বিষয়ে আমার সুচিন্তিত মতামত নিচে উপস্থাপন করা হলো:

    ১. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: ইউএনডিপি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত পল্লি উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সুসংহত করতে কাজ করছে, যা টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক।

    ২. সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা: সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ, নির্বাচন কমিশনকে কারিগরি সহায়তা ও বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার জন্য গ্রাম আদালত প্রকল্প এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে ইউএনডিপির ভূমিকা প্রশংসনীয়।

    ৩. পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা: দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে সংস্থাটি জোরালো ভূমিকা রাখছে।

    ৪. নারীর ক্ষমতায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: নারীর অধিকার সংরক্ষণ, সমতা অর্জন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইউএনডিপি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

    সার্বিকভাবে, ইউএনডিপির কার্যক্রম কেবল তাৎক্ষণিক সংকট মোচনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোগত ও নীতিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি নির্মাণ করছে। তাই তাদের কার্যক্রম বাংলাদেশের টেকসই অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন