ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

উসমানের প্রতিষ্ঠিত এশিয়া মাইনরের ছোট উসমানীয় শাসনকে সুলতান ২য় মুরাদ এক বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত করেন তার সৌভাগ্য যে বেশ কিছু রণনিপুণ সেনাপতির কর্মক্ষমতা তিনি কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তার সাম্রাজ্যকে ইউরোপ এশিয়া ও আফ্রিকায় বিস্তৃত করে সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্টা করেছিলেন। তবে তার এই রাজ্য বিজয়ে দেশের যেই স্থিতিশীলতা এবং অর্থের যে প্রয়োজন ছিল, তার ব্যবস্থা পূর্ববর্তী সম্রাট, তার পিতা রেখে গিয়েছিলেন।

  1. ক)

    সিন্ধু বিজয়ী নেতার নাম কি?

    (1)
  2. খ)

    সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সুলতান ২য় মুরাদের পিতার সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কাজের সামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো উদ্দীপকের ২য় মুরাদের সাম্রাজ্য বিস্তারে সেনাপতিদের অবদানের মতোই খলিফা আল ওয়ালিদও সুযোগ্য সেনাপতিদের সহায়তা পেয়েছিলেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে ব্যাখ্যা দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির নাম মুহাম্মদ বিন কাসিম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল সিংহলের রাজা কর্তৃক খলিফা আল-ওয়ালিদ এবং হাজ্জাজ বিন ইউসুফের জন্য প্রেরিত আটটি উপহারবাহী জাহাজ সিন্ধুর দেবল বন্দরে জলদস্যু কর্তৃক লুণ্ঠিত হওয়া এবং জাহাজে থাকা মুসলিম নারী ও শিশুদের বন্দি করা। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধুর রাজা দাহিরের কাছে এর ক্ষতিপূরণ ও বন্দিদের মুক্তি দাবি করলে দাহির জলদস্যুদের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধু অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সুলতান ২য় মুরাদের পিতার সাথে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের কাজের সামঞ্জস্য রয়েছে।

    উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা দূর করে সাম্রাজ্যে শান্তি ও স্থায়িত্ব ফিরিয়ে এনেছিলেন খলিফা আব্দুল মালিক। তিনি আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করেন, স্বতন্ত্র ইসলামিক মুদ্রা প্রবর্তন করেন এবং শাসনব্যবস্থা সুসংহত করেন। আব্দুল মালিকের রেখে যাওয়া এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করেই তাঁর পুত্র খলিফা আল-ওয়ালিদ পরবর্তীতে বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ কারণে আব্দুল মালিককে উমাইয়া বংশের 'প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা' বলা হয়।

    উদ্দীপকে সুলতান ২য় মুরাদের সাম্রাজ্য বিস্তারে তাঁর পূর্ববর্তী সম্রাট পিতার রেখে যাওয়া দেশের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রাচুর্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের সফলতার পেছনেও তাঁর পিতা খলিফা আব্দুল মালিকের সুদৃঢ় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন একইভাবে ভূমিকা রেখেছিল। তাই ২য় মুরাদের পিতার কর্মকাণ্ড খলিফা আব্দুল মালিকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের সুলতান ২য় মুরাদের সাম্রাজ্য বিস্তারে রণনিপুণ সেনাপতিদের অবদানের মতোই উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদও অসাধারণ ও সুযোগ্য সেনাপতিদের সহায়তা পেয়েছিলেন।

    খলিফা আল-ওয়ালিদের শাসনকাল (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) উমাইয়া সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক বিস্তারের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিগণিত হয়। তিনি স্বয়ং রাজধানী দামেস্কে অবস্থান করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও তাঁর সাম্রাজ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ—এই তিন মহাদেশে বিস্তৃত হয়েছিল যোগ্য ও বিশ্বস্ত সেনাপতিদের বীরত্বপূর্ণ অভিযানের মাধ্যমেই।

    তাঁর সময়ে মধ্য এশিয়ায় কুতায়বা বিন মুসলিম বোখারা, সমরকন্দ, ফারগানা প্রভৃতি অঞ্চল জয় করেন। সিন্ধু ও ভারতীয় সীমান্তে মাত্র সতেরো বছর বয়সী তরুণ সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু ও মুলতান জয় করে ইসলামের পতাকা উত্তোলন করেন। অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকায় মুসা বিন নুসাইর এবং ইউরোপের স্পেনে তারিক বিন যিয়াদ অভূতপূর্ব বীরত্ব প্রদর্শন করে ভিসিগথ রাজ্য জয় করেন এবং ইউরোপে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।

    উদ্দীপকে যেমন সুলতান ২য় মুরাদের বহু সেনাপতির কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় সাম্রাজ্য বিস্তারের কথা বলা হয়েছে, খলিফা আল-ওয়ালিদের ক্ষেত্রেও তা হুবহু প্রযোজ্য। যোগ্য সেনাপতিদের মেধা, সাহসিকতা ও রণকৌশলই আল-ওয়ালিদের খিলাফতকে এক বিশ্বজয়ী সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করেছিল। সুতরাং প্রদত্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন