যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সাদৃশ্যানুমান কাকে বলৈ? ا

    (1)
  2. খ)

    আরোহমূলক লম্ফকে কেন আরোহের প্রাণ বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    ছক-১ এ 'ক' চিহ্নটি যে বিষয়কে নির্দেশ করে তার বৈশিষ্ট্যলো আলোচনা করো

    (3)
  4. ঘ)

    ছক-২ এর 'খ' এর সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ্য করে যদি অনুমান করা হয় যে তাদের একটির কোনো বিশেষ গুণ থাকলে অপরটিরও সেই গুণ থাকবে, তবে তাকে সাদৃশ্যানুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরোহমূলক লম্ফ হলো জানা থেকে অজানা, প্রত্যক্ষ থেকে অপ্রত্যক্ষ কিংবা বিশেষ থেকে সার্বিকে পদার্পণ করার মানসিক প্রক্রিয়া। আরোহ অনুমানের মূল লক্ষ্য হলো কয়েকটি দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা। এই জানা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অজানার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি ছাড়া কোনো সার্বিক সিদ্ধান্ত গঠন সম্ভব নয়। আরোহমূলক লম্ফ না থাকলে অনুমানটি আরোহ না হয়ে অবরোহ বা সাধারণ নিরীক্ষণে পরিণত হয়। তাই যুক্তিবিদ বেন আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বা মূল বৈশিষ্ট্য বলে অভিহিত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক-১ এ 'প্রকৃত আরোহ'-এর তিনটি শাখার মধ্যে বৈজ্ঞানিক আরোহ ও সাদৃশ্যানুমান উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং ছক-১ এর 'ক' চিহ্নটি অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে।

    অবৈজ্ঞানিক আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন: অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তটি সবসময় একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য হয়।
    ২. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভরশীলতা: এটি কেবল প্রকৃতির একরূপতা বা নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে।
    ৩. কার্যকারণ সম্পর্কের অনুপস্থিতি: এতে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয় না।
    ৪. অনুকূল অভিজ্ঞতাভিত্তিক: অবৈজ্ঞানিক আরোহ সম্পূর্ণভাবে বাধাহীন বা প্রতিকূল দৃষ্টান্তহীন অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। কোনো ব্যতিরেকী দৃষ্টান্ত না পেলে অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত টানা হয়।
    ৫. সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত: কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত না থাকায় অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সুনিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য হয়ে থাকে।
    ৬. আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতি: এতে জানা থেকে অজানা বা বিশেষ থেকে সার্বিকে যাওয়ার 'আরোহমূলক লম্ফ' বিদ্যমান থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক-২ এ 'অপ্রকৃত আরোহ'-এর তিনটি রূপের মধ্যে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ ও ঘটনা-সংযোজন উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং ছক-২ এর 'খ' চিহ্নটি 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (বা নিখুঁত আরোহ)-কে নির্দেশ করে।

    নিম্নে পূর্ণাঙ্গ আরোহ ('খ') এবং বৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. আরোহমূলক লম্ফ: বৈজ্ঞানিক আরোহে কয়েকটি দৃষ্টান্ত দেখে সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়, তাই এতে 'আরোহমূলক লম্ফ' উপস্থিত থাকে। পক্ষান্তরে, পূর্ণাঙ্গ আরোহে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি দৃষ্টান্ত আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, ফলে এতে কোনো আরোহমূলক লম্ফ থাকে না।
    ২. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের কোনো সুযোগ বা প্রয়োজন থাকে না।
    ৩. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির কোনো প্রত্যক্ষ প্রয়োগ নেই।
    ৪. প্রকৃতির প্রকারভেদ: আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য উপস্থিত থাকায় যুক্তিবিদ মিলের মতে বৈজ্ঞানিক আরোহ হলো একটি 'প্রকৃত আরোহ'। পক্ষান্তরে, আরোহমূলক লম্ফ না থাকায় পূর্ণাঙ্গ আরোহ হলো একটি 'অপ্রকৃত আরোহ'।
    ৫. দৃষ্টান্তের সংখ্যা: বৈজ্ঞানিক আরোহে অসীম বা অনির্দিষ্ট সংখ্যক দৃষ্টান্তের ক্ষেত্রে সীমিত কয়েকটি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহ কেবল সীমিত বা গণনাযোগ্য দৃষ্টান্তের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা সম্ভব।
    ৬. সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিয়মসিদ্ধ হওয়ায় সুনিশ্চিত কিন্তু সার্বিক সংশ্লেষক; পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্তও নিশ্চিত, তবে এটি কার্যত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার সমষ্টিমাত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন