ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র • মূলধন ব্যয় • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র প্রশ্ন

নবোদয় কোম্পানি ১০%১০% কুপন সুদযুক্ত ২০২০ বছর মেয়াদি বন্ড ইস্যু করেছে। যার প্রতিটির লিখিত মূল্য ১০০০১০০০ টাকা এবং বাজার মূল্য ১১০০১১০০ টাকা। কোম্পানির করের হার ৪০%৪০%। অন্যদিকে পদ্মা কোম্পানির মূলধনের উৎসসমূহের ভার ও কর পরবর্তী ব্যয় নিম্নরূপ: পদ্মা কোম্পানি ১৪%১৪% মুনাফার প্রত্যাশায় একটি প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মূলধনের উৎসভারকর পরবর্তী ব্যয়
সাধারণ শেয়ার৬০%৬০%১৫%১৫%
অগ্রাধিকার শেয়ার১০%১০%১০%১০%
ঋণ মূলধন৩০%৩০%৬%৬%
  1. ক)

    মূলধন ব্যয় কী?

    (1)
  2. খ)

    উত্তরণ ব্যয় কীভাবে নতুন সাধারণ শেয়ারের ব্যয়কে প্রভাবিত করে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    নবোদয় কোম্পানির ইস্যুকৃত বন্ডের কর-পরবর্তী ব্যয়ের হার নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    পদ্মা কোম্পানির বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো কোম্পানি তার বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত আয় মেটানোর জন্য যে তহবিল সংগ্রহ করে, সেই তহবিলের জন্য কোম্পানিকে সর্বনিম্ন যে হারে ব্যয় নির্বাহ করতে হয়, তাকে মূলধন ব্যয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উত্তরণ ব্যয় হলো নতুন সিকিউরিটিজ বা শেয়ার বিক্রির সময় সংঘটিত বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ (যেমন— অবলেখক কমিশন, আইনি ফি, দালালি ইত্যাদি)।

    নতুন সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে শেয়ারের বিক্রয়মূল্য থেকে এই উত্তরণ ব্যয় বাদ দিয়ে শেয়ারের নিট প্রাপ্তি মূল্য (NPONPO বা P0P_0) পাওয়া যায়। ফলে প্রতি শেয়ারের নিট প্রাপ্তির পরিমাণ কমে যায়। সূত্র অনুযায়ী, নিট প্রাপ্তি মূল্য কমলে ভগ্নাংশের হর ছোট হয়ে যায়, যার ফলে নতুন সাধারণ শেয়ারের ব্যয়ের হার (KeK_e) বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ উত্তরণ ব্যয় সাধারণ শেয়ারের মূলধন ব্যয়কে বাড়িয়ে দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নবোদয় কোম্পানির বন্ডের তথ্যাবলি:
    লিখিত বা অভিহিত মূল্য (FVFV) = ১,০০০ টাকা
    বাজার মূল্য (SVSV) = ১,১০০ টাকা
    কুপন সুদের হার = ১০%
    বার্ষিক সুদ (II) = ১,০০০ ×\times ১০% = ১০০ টাকা
    মেয়াদ (nn) = ২০ বছর
    করের হার (TT) = ৪০% বা ০.৪০

    এখানে কর-পূর্ব ঋণ ব্যয় (KdK_d বা YTMYTM):
    Kd=I+FV−SVnFV+SV2×১০০K_d = \frac{I + \frac{FV - SV}{n}}{\frac{FV + SV}{2}} \times ১০০
    =১০০+১,০০০−১,১০০২০১,০০০+১,১০০২×১০০= \frac{১০০ + \frac{১,০০০ - ১,১০০}{২০}}{\frac{১,০০০ + ১,১০০}{২}} \times ১০০
    =১০০+−১০০২০২,১০০২×১০০= \frac{১০০ + \frac{-১০০}{২০}}{\frac{২,১০০}{২}} \times ১০০
    =১০০−৫১,০৫০×১০০=৯৫১,০৫০×১০০=৯.০৫%= \frac{১০০ - ৫}{১,০৫০} \times ১০০ = \frac{৯৫}{১,০৫০} \times ১০০ = ৯.০৫\%

    অতএব, নবোদয় কোম্পানির ইস্যুকৃত বন্ডের কর-পরবর্তী ব্যয়ের হার (KdtK_{dt}):
    Kdt=Kd×(১−T)K_{dt} = K_d \times (১ - T)
    =৯.০৫%×(১−০.৪০)= ৯.০৫\% \times (১ - ০.৪০)
    =৯.০৫%×০.৬০=৫.৪৩%= ৯.০৫\% \times ০.৬০ = ৫.৪৩\%

    সুতরাং, নবোদয় কোম্পানির কর-পরবর্তী বন্ড ব্যয়ের হার ৫.৪৩%।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পদ্মা কোম্পানির বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়নের জন্য কোম্পানির সামগ্রিক মূলধন ব্যয় বা ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় (WACCWACC) নির্ণয় করা প্রয়োজন।

    উদ্দীপক অনুসারে বিভিন্ন উৎসের ভার ও কর-পরবর্তী ব্যয়:
    ১. সাধারণ শেয়ারের ভার (WeW_e) = ৬০% = ০.৬০, ব্যয় (KeK_e) = ১৫%
    ২. অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার (WpW_p) = ১০% = ০.১০, ব্যয় (KpK_p) = ১০%
    ৩. ঋণ মূলধনের ভার (WdW_d) = ৩০% = ০.৩০, কর-পরবর্তী ব্যয় (KdK_d) = ৬%

    পদ্মা কোম্পানির ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় (WACCWACC):
    WACC=(We×Ke)+(Wp×Kp)+(Wd×Kd)WACC = (W_e \times K_e) + (W_p \times K_p) + (W_d \times K_d)
    =(০.৬০×১৫%)+(০.১০×১০%)+(০.৩০×৬%)= (০.৬০ \times ১৫\%) + (০.১০ \times ১০\%) + (০.৩০ \times ৬\%)
    =৯%+১%+১.৮%= ৯\% + ১\% + ১.৮\%
    =১১.৮%= ১১.৮\%

    পদ্মা কোম্পানির সামগ্রিক মূলধন ব্যয় হলো ১১.৮%। অপরদিকে, কোম্পানিটির নতুন প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত মুনাফার হার ১৪%।

    যেহেতু প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত মুনাফার হার (১৪%) সামগ্রিক মূলধন ব্যয়ের (১১.৮%) চেয়ে বেশি, তাই প্রকল্পটি গ্রহণ করলে কোম্পানিটির অতিরিক্ত নিট মুনাফা সৃষ্টি হবে এবং শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। অতএব, পদ্মা কোম্পানির বিনিয়োগের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও লাভজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন