বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

রতন তার ছোট ভাইকে নিয়ে একদিন পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চেপে উড়ে উড়ে মঙ্গলগ্রহে গিয়ে নামে। সেখানে অদ্ভুত আকৃতির অসংখ্য প্রাণী দেখে তারা বিমোহিত হয়। সেখানে একটি বাগানে প্রবেশ করতেই নীল রঙের তিন বা বিশিষ্ট একদল প্রাণী তাদের আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার তাগিদে রতন তার ছোট ভাইকে সেখানে রেখেই পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় উঠে বসে। নিমিষেই সে একাকী মঙ্গলগ্রহ থেকে স্বস্থানে ফিরে এসে পঙ্খীরাজ থেকে নামতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং ঘুম ভাঙতেই স্বপ্ন হারিয়ে যায়।

  1. ক)

    'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পে উল্লিখিত সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    মানুষ নিজেরাই নিজেকে ধ্বংস করে"- কীভাবে?

    (2)
  3. গ)

    রতন একাকী মঙ্গল গ্রহ থেকে স্বস্থানে ফিরে আসার কারণটি 'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পের পিঁপড়া আর মঙ্গল গ্রহের অদ্ভুত প্রাণীগুলো যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পে উল্লিখিত সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহের নাম পৃথিবী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ বিবেকহীনভাবে নিজেদের তৈরি মারাত্মক মারণাস্ত্র ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করার মাধ্যমে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে।
    'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পে কিউরেটরদ্বয় লক্ষ্য করেন যে, মানুষ নিজেদের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান জীব হিসেবে দাবি করলেও তারা বোমার মতো ভয়ঙ্কর বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করে নিজেদেরই ধ্বংস করার প্রস্তুতি নিয়েছে। একইসাথে তারা পরিবেশ দূষণ ও প্রকৃতি ধ্বংস করছে, যা তাদের চরম অজ্ঞতা ও আত্মঘাতী স্বভাবকে প্রকাশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রতন একাকী মঙ্গল গ্রহ থেকে স্বস্থানে ফিরে আসার মূল কারণ হলো স্বার্থপরতা ও চরম আত্মরক্ষার তাগিদ, যা 'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পের মানুষের স্বভাবজাত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়।

    'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পে মানুষের স্বার্থপরতা, পরস্পর হানাহানি এবং প্রকৃতি ও জীবজগতের প্রতি নির্দয় আচরণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ নিজের স্বার্থ বা আত্মরক্ষার জন্য যেকোনো বিবেকহীন কাজ করতে পারে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রতন তার ছোট ভাইকে নিয়ে কল্পনায় মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণ করলেও বিপদের মুহূর্তে সে ভাইকে ফেলে একাকী পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে পালিয়ে আসে। আত্মরক্ষার চরম মুহূর্তে ভাইয়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ভুলে গিয়ে শুধু নিজের প্রাণ বাঁচানোর এই যে স্বার্থপর মানসিকতা, তা গল্পের মানুষের আত্মকেন্দ্রিক ও ক্ষতিকর স্বভাবকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মঙ্গল গ্রহের নীল রঙের তিন পা বিশিষ্ট প্রাণীগুলোর আক্রমণাত্মক আচরণ আর 'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পের সুশৃঙ্খল ও পরোপকারী পিঁপড়াদের চরিত্র এক নয়; বরং তারা সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী হওয়ায় উক্তিটি যথার্থ নয়।

    'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পে কিউরেটরদ্বয় শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে যোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রাণী হিসেবে পিঁপড়াকে নির্বাচন করে। কারণ পিঁপড়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, পরিশ্রমী, নিঃস্বার্থ ও সামাজিক জীব। তারা নিজেদের মধ্যে কোনো হানাহানি করে না এবং পরিবেশ ধ্বংস না করে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে পারস্পরিক সহযোগিতায় বসবাস করে।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকে বর্ণিত মঙ্গল গ্রহের অদ্ভুত প্রাণীগুলো বাগানে প্রবেশ করা মাত্রই বিনা প্ররোচনায় রতন ও তার ভাইয়ের ওপর আক্রমণ চালায়। তাদের এই আক্রমণাত্মক আচরণে হিংস্রতা ও অসহিষ্ণুতা প্রকাশ পেয়েছে, যা কোনোভাবেই পিঁপড়ার শান্তিপ্রিয় ও সুশৃঙ্খল স্বভাবের প্রতিনিধিত্ব করে না। পিঁপড়া যেখানে সৃষ্টিশীল ও সহযোগী, উদ্দীপকের প্রাণীরা সেখানে ধ্বংসাত্মক ও আক্রমণকারী।

    অতএব, বৈশিষ্ট্য ও আচরণের দিক থেকে উদ্দীপকের মঙ্গল গ্রহের প্রাণী এবং গল্পের পিঁপড়াদের একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলা যায় না; বরং তারা একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন