যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
ঘটনা-১: ডেঙ্গু জ্বর → পরীক্ষা-নিরীক্ষা → এডিস মশাঘটনা-২: দেশে মহামারি ছড়িয়ে পড়লে দাদি বললেন, দেশে খারাপ আত্মার আগমন ঘটেছে।
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ কয়টি?
- খ)(2)
চেতনার মৌলিক অবস্থাবলির কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না কেন?
- গ)(3)
ঘটনা-১ এ নির্দেশিত বিষয়টির সীমাবদ্ধতা বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
ঘটনা-১ ও ঘটনা-২ এ নির্দেশিত প্রকরণগুলোর মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদদের মতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ তিনটি (বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলীকরণ ও অন্তর্ভুক্তি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চেতনার মৌলিক অবস্থাবলি (যেমন—আনন্দ, বেদনা, সুখ, দুঃখ, তিক্ত স্বাদ ইত্যাদি) হলো চরম ও স্বয়ংসম্পূর্ণ সরল মানসিক অনুভূতি। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মূল কাজ হলো কোনো জটিল ও যৌগিক বিষয়কে তার উপাদান বা কারণের মধ্যে বিশ্লিষ্ট করা। কিন্তু মৌলিক চেতনা সরল হওয়ায় একে ক্ষুদ্রতর অংশে বিশ্লেষণ করা যায় না বা এর চেয়ে কোনো মৌলিক ধারণার অধীন করা যায় না; তাই এদের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ ডেঙ্গু জ্বরের পেছনের বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক কারণ হিসেবে এডিস মশাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা হয়েছে, যা 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'কে নির্দেশ করে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সবসময় কার্যকর হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতাগুলো হলো:
১. পরম বা সর্বোচ্চ নিয়মের ব্যাখ্যা প্রদানে অক্ষম: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বা কার্যকারণ নিয়মের মতো সর্বোচ্চ নিয়মাবলির ব্যাখ্যা দিতে পারে না।
২. চেতনার মৌলিক অনুভূতি ব্যাখ্যা করা যায় না: সুখ, দুঃখ, মিষ্টতা ইত্যাদির মতো মৌলিক মানসিক অবস্থাসমূহের ব্যাখ্যা দিতে পারে না।
৩. মনের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা অসম্ভব: আত্মা, অমরত্ব বা চেতনার মতো বিষয়সমূহ বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের আওতায় আসে না।
৪. বস্তুর মৌলিক ও নিজস্ব গুণাবলি: কোনো বস্তুর মৌলিক গুণ বা পরমাণুর অভ্যন্তরীণ পরম স্বাতন্ত্র্যের চরম উৎস ব্যাখ্যা করতে বিজ্ঞান সীমাবদ্ধ থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' এবং ঘটনা-২ এ 'লৌকিক ব্যাখ্যা' নির্দেশ করা হয়েছে। নিম্নে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দৃষ্টিভঙ্গি ও কারণ অনুসন্ধান: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার পেছনের বাস্তব, প্রাকৃতিক ও কার্যকারণ সম্পর্কযুক্ত নিয়ম উদ্ঘাটন করা হয় (যেমন—পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এডিস মশাকে ডেঙ্গুর কারণ হিসেবে পাওয়া)। পক্ষান্তরে, লৌকিক ব্যাখ্যায় অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক বা কাল্পনিক সত্তার ওপর নির্ভর করা হয় (যেমন—মহামারির কারণ হিসেবে খারাপ আত্মাকে দায়ী করা)।
২. ভিত্তি: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্ভর করে যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ওপর। অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হলো কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও চিরাচরিত অযৌক্তিক ধারণা।
৩. সার্বজনীনতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সর্বজনীন ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য; কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিনির্ভর, পরিবর্তনশীল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
৪. স্পষ্টতা ও সত্যতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সুনির্দিষ্ট, স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য সত্য প্রদান করে। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যা অস্পষ্ট, কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর।অতএব, ঘটনা-১ সত্য ও বিজ্ঞানের পথ নির্দেশ করে এবং ঘটনা-২ অন্ধ কুসংস্কার ও অবৈজ্ঞানিক লৌকিক ধারণাকে প্রকাশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও