ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মুঘল আমলে ভারতবর্ষে ফারসি ভাষায় সরকারি কার্যাবলি পরিচালিত হতো। কিন্তু ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা দখলের পর ইংরেজি ভাষা চালু করে। ভারতে তারা ইংরেজি শিক্ষার স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে, অফিস আদালতসহ সবখানে ইংরেজি ভাষা চালু করা হয়। ফলে ভারতের মুসলমানদের একটি বৃহৎ অংশ ইংরেজি না জানার কারণে চাকুরি হারান। দিল্লির বাদশাহ নাসির উদ্দিন সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করতেন। তিনি ব্যক্তিগত ও সাংসারিক প্রয়োজনে সরকারি কোষাগার হতে কোনো অর্থ খরচ করতেন না। তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। ধর্মভীরু শাসক হলেও পরধর্মের প্রতি তিনি সহনশীল ছিলেন। তিনি অমুসলিমদের উপর থেকে করের বোঝা কমিয়ে দিয়ে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেন।
- ক)(1)
হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফ কে ছিলেন?
- খ)(2)
সুলাইমানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যাবলির সাথে কোন উমাইয়া খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বাদশাহ নাসির উদ্দিনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ খলিফা কি উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফ ছিলেন উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ও আল-ওয়ালিদের শাসনামলের এক অত্যন্ত দক্ষ, কঠোর ও প্রতাপশালী সেনাপতি এবং ইরাকের গভর্নর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা সুলাইমান বিন আব্দুল মালিককে 'মিফতাহুল খাইর' বা 'আশীর্বাদের চাবি' বলা হয়। কারণ তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের কঠোর নীতি পরিহার করেন, কারাগারে বন্দি নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি দেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফের অত্যাচারী কর্মচারীদের বরখাস্ত করেন এবং মৃত্যুর পূর্বে একজন সৎ ও খোদাভীরু ব্যক্তি হিসেবে হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজকে পরবর্তী খলিফা হিসেবে মনোনীত করে যান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যাবলির সাথে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের 'আরবিকরণ' বা প্রশাসনিক সংস্কারনীতির সাদৃশ্য রয়েছে।
খলিফা আব্দুল মালিকের পূর্বে উমাইয়া সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশের প্রশাসনিক হিসাবপত্র ও সরকারি কাজ স্থানীয় গ্রিক, রোমান, কপ্টিক ও পারস্য ভাষায় পরিচালিত হতো। আব্দুল মালিক সাম্রাজ্যের ঐক্য, শাসনব্যবস্থার সংহতি ও মুসলিমদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরবি ভাষাকে সাম্রাজ্যের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ও সরকারি দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেন। ফলে সরকারি চাকরিতে আরবি ভাষা জানা অপরিহার্য হয়ে পড়ে এবং অ-আরবিভাষীরা সংকটে পড়েন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে এসে প্রচলিত ফারসি ভাষার পরিবর্তে সর্বত্র ইংরেজি ভাষা চালু করে, ফলে ইংরেজি না জানার কারণে মুসলমানরা চাকরি হারায়। সাম্রাজ্যের দাপ্তরিক ভাষা পরিবর্তন করে একটি একক ভাষা চালুর এই পদক্ষেপের কারণে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির পদক্ষেপের সাথে খলিফা আব্দুল মালিকের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে আরবি চালুর সাদৃশ্য ফুটে ওঠে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দিল্লির বাদশাহ নাসির উদ্দিনের জীবন ও আচরণের সাথে উমাইয়া খলিফা হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ (ওমর-২)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। তবে বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে তাঁকে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য সরাসরি এককভাবে দায়ী করা যায় না।
হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ ছিলেন খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শের অনুসারী একজন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ও প্রজাদরদি খলিফা। তিনি বিলাসবহুল রাজকীয় রীতি ত্যাগ করে সাদামাটা জীবনযাপন করতেন, অমুসলিমদের জিজিয়া ও খারাজ শিথিল করেছিলেন এবং মাওয়ালিদের (অ-আরব মুসলিম) উপর থেকে অন্যায্য কর প্রত্যাহার করে সমান মর্যাদা দেন। এর ফলে রাজস্ব আদায়ে কিছু ভাটা পড়ে এবং উমাইয়া অভিজাতদের রাজনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়।
কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, তাঁর অতি-উদার ও সামরিক অভিযানহীন শান্তির নীতি উমাইয়া সামরিক শক্তিকে কিছুটা দুর্বল করেছিল এবং রাজকোষের আয় হ্রাস পেয়েছিল, যা পরবর্তী দুর্বল খলিফাদের সময়ে উমাইয়া শাসনের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে তোলে।
কিন্তু উমাইয়া বংশের প্রকৃত পতনের কারণ ছিল তাঁর পরবর্তী অযোগ্য ও চরিত্রহীন খলিফাদের বিলাসিতা, অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ, উমাইয়া-হাশেমি দ্বন্দ্ব, গোত্রীয় কোন্দল (মুদারিয় বনাম হিমারিয়) এবং সুসংগঠিত আব্বাসীয় প্রচার ও বিদ্রোহ। ওমর বিন আব্দুল আজিজ মাত্র আড়াই বছর শাসন করেছিলেন এবং তাঁর সময়ে রাজ্যে ন্যায়বিচার ও প্রভূত জনকল্যাণ সাধিত হয়েছিল। অতএব, তাঁর মহৎ ও কল্যাণকর নীতিসমূহ উমাইয়া পতনের প্রত্যক্ষ বা মূল কারণ ছিল না; বরং তাঁর পরবর্তী শাসকদের অযোগ্যতা ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতই ছিল সাম্রাজ্যের পতনের মূল কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও