কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • কৃষি জলবায়ু • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব এবং ফসল জন্মানোর সময়ের উপর ভিত্তি করে শস্য মৌসুমকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা:
মৌসুম-১: এ সময়ে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। গম, আলু ও তৈলবীজ ফসল এ মৌসুমে চাষ করা হয়।
মৌসুম-২: এ সময়ে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। আমন ধান ও পাট এ মৌসুমে চাষ করা হয়।
উল্লিখিত ফসলসমূহ উৎপাদনে এক বিশেষ ধরনের বায়ু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে এ বায়ু গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

  1. ক)

    কৃষি জলবায়ু কী?

    (1)
  2. খ)

    ফসল উৎপাদনে বৃষ্টিপাত কী ধরনের প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ বায়ু দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মৌসুম দুটির তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ফসল উৎপাদন ও কৃষি কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের গড় অবস্থাকে কৃষি জলবায়ু বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৃষ্টিপাত হলো ফসলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পানির উৎস। পরিমিত বৃষ্টিপাত মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখে, বীজের অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পুষ্টি উপাদান গ্রহণে সহায়তা করে। তবে অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করে; যেমন খরা দেখা দিলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়, আবার অতিবৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা বা বন্যায় ফসল পচে নষ্ট হয়ে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ বায়ু দ্বারা বাংলাদেশের 'মৌসুমি বায়ু'কে (Monsoon Wind) বোঝানো হয়েছে।

    মৌসুমি বায়ু হলো একটি ঋতুভিত্তিক সাময়িক বায়ুপ্রবাহ, যা ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে—গ্রীষ্মকালে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মকালে এ বায়ু ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে আসার সময় প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে আসে, যার ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এই বৃষ্টিপাত আমন ধান ও পাটের মতো খরিপ ফসলের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য। অন্যদিকে শীতকালে এটি শুষ্ক স্থলভাগ দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হওয়ায় বৃষ্টিহীন ও শীতল আবহাওয়া সৃষ্টি করে, যা গম, আলু ও তৈলবীজের মতো রবি ফসলের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মৌসুম-১ হলো 'রবি মৌসুম' এবং মৌসুম-২ হলো 'খরিপ মৌসুম'। বাংলাদেশের কৃষিতে এ দুটি মৌসুমের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:

    ১. সময়কাল: রবি মৌসুম শুরু হয় আশ্বিন-কার্তিক থেকে ফাল্গুন-চৈত্র (অক্টোবর থেকে মার্চ) পর্যন্ত। অন্যদিকে খরিপ মৌসুম শুরু হয় চৈত্র-বৈশাখ থেকে ভাদ্র-আশ্বিন (এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত।
    ২. তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা: রবি মৌসুমে তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে কম থাকে ও দিন ছোট হয়। অপরদিকে খরিপ মৌসুমে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকে এবং দিন বড় হয়।
    ৩. বৃষ্টিপাত ও সেচ: রবি মৌসুমে বৃষ্টিপাত খুব কম হওয়ায় ফসল উৎপাদনে কৃত্রিম সেচের ওপর নির্ভর করতে হয়। অন্যদিকে খরিপ মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা প্রাকৃতিক পানির উৎস হিসেবে কাজ করে।
    ৪. ফসলের ধরন: রবি মৌসুমের প্রধান ফসল হলো গম, আলু, সরিষা, ডাল ও বিভিন্ন শীতকালীন শাকসবজি। খরিপ মৌসুমের প্রধান ফসল হলো আউশ ও আমন ধান, পাট এবং বিভিন্ন গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ফল।

    পরিশেষে, আবহাওয়া ও জলবায়ুগত এই ভিন্নতার কারণেই মৌসুম দুটির ফসল নির্বাচন ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন