বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

10.

(ক) সারাংশ লেখ:যার ভিত্তি পচে গেছে, তাকে একদম উপড়ে ফেলে নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার উপর ইমারত যতবার খাড়া করা যাবে, ততবারই তা পড়ে যাবে। দেশের যারা শত্রু, দেশের যা-কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে প্রয়োজন হবে আগুনের সম্মার্জনা! আমার এমন গুরু কেউ নেই, যার খাতিরে সে আগুন-সত্যকে অস্বীকার করে কারুর মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেবে। আমি সে দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। আমি কোনোদিনই কারুর বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেব না, যদি তার সত্যতা তার প্রাণে সাড়া না দেয়। না বুঝে বোঝার ভণ্ডামি করে পাঁচজনের শ্রদ্ধা আর প্রশংসা পাবার লোভ আমি কোনোদিনই করব না।(খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর: স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) সারাংশ:

মিথ্যা, ভণ্ডামি ও জীর্ণতার ওপর কোনো মহৎ সৃষ্টি টিকে থাকতে পারে না। সমাজ বা জাতির সার্বিক কল্যাণে মিথ্যা ও কুসংস্কারকে সমূলে উৎপাটন করে সত্যের নতুন ভিত্তি স্থাপন করা জরুরি। কোনো অন্ধ মোহ, কৃত্রিম ভক্তি কিংবা প্রশংসার লোভে বিবেককে বিসর্জন না দিয়ে সর্বদা অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকাই শ্রেয়।

অথবা,

(খ) ভাব-সম্প্রসারণ:

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।

মূলভাব: পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করা নিঃসন্দেহে এক গৌরবোজ্জ্বল ও কঠিন কাজ। তবে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ ও চিরস্থায়ী করে রক্ষা করা আরও বহুগুণ বেশি কঠিন ও দায়িত্বপূর্ণ।

সম্প্রসারিত ভাব: স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত ও শ্রেষ্ঠ অধিকার। পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ যুগে যুগে তীব্র আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী লড়াই করেছে। চরম আত্মত্যাগ, অসীম সাহস এবং বিপুল প্রাণের বিনিময়ে দেশ বা জাতি পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। এই অর্জন অবশ্যই বীরত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জিত হলেই একটি জাতির সংগ্রাম শেষ হয়ে যায় না, বরং এক নতুনতর ও গভীরতর সংগ্রামের সূচনা হয়।

স্বাধীনতা অর্জন একটি সাময়িক ও উত্তাল প্রক্রিয়া হলেও স্বাধীনতা রক্ষা করা একটি নিরবচ্ছিন্ন ও আজীবন সাধনা। অর্জিত স্বাধীনতাকে ফলপ্রসূ ও সুরক্ষিত করতে হলে প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবিচল সংকল্প। স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে দেশে যদি দুর্নীতি, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, পারস্পরিক অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তবে সেই স্বাধীনতার মূল চেতনা বিনষ্ট হয়। এছাড়া সাম্রাজ্যবাদী ও আগ্রাসী বৈদেশিক শক্তির ষড়যন্ত্র থেকেও দেশকে সদা সতর্ক থেকে রক্ষা করতে হয়। জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম ও কঠোর পরিশ্রমের অভাবে অনেক সময় রক্তে কেনা স্বাধীনতাও অর্থহীন হয়ে পড়ে কিংবা পুনরায় শৃঙ্খলিত হয়।

মন্তব্য: স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা কেবল ভূখণ্ড রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; জনগণের মৌলিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তা সার্থক হয়। তাই স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তাকে টিকিয়ে রাখা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করা অনেক বেশি দূরূহ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন