অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
স্থূল জন্মহার কি?
- খ)(2)
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্র লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপক উল্লিখিত ab এবং ac রেখা দ্বারা গণিতের কোন ধরনের হার নির্দেশিত হয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্বটি বাংলাদেশে কতটুকু প্রাসঙ্গিক? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি এক হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে যতজন জীবিত শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate বা CBR) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের বা অঞ্চলের প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে যত লোক বাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
জনসংখ্যার ঘনত্ব (D) = মোট জনসংখ্যা (P) / মোট ভূমির আয়তন (A)
এখানে,
D = Density of Population (জনসংখ্যার ঘনত্ব)
P = Total Population (মোট জনসংখ্যা)
A = Total Land Area (মোট ভূমির আয়তন)। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ab রেখা দ্বারা গাণিতিক হার (Arithmetic Progression) এবং ac রেখা দ্বারা জ্যামিতিক হার (Geometric Progression) নির্দেশিত হয়েছে।
ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক বা সমান্তর হারে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক বা গুণোত্তর হারে।
১. ab রেখা (খাদ্য উৎপাদন): চিত্রে দেখা যায়, প্রতি ২৫ বছর পর পর খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ২ থেকে ক্রমান্বয়ে ৩, ৪, ৫ এভাবে গাণিতিক হারে বা সমান্তর ধারায় বৃদ্ধি পায়। সমান্তর প্রগতি হলো এমন একটি বৃদ্ধি যেখানে দুটি ক্রমিক পদের অন্তর সর্বদা সমান থাকে। ফলে এটি একটি সরলরেখা (ab) তৈরি করেছে।
২. ac রেখা (জনসংখ্যা বৃদ্ধি): অন্যদিকে, জনসংখ্যা প্রতি ২৫ বছরে দ্বিগুণ হারে অর্থাৎ ২, ৪, ৮, ১৬ এভাবে জ্যামিতিক বা গুণোত্তর হারে বৃদ্ধি পায়। গুণোত্তর প্রগতিতে প্রতিটি পদ পূর্ববর্তী পদের একটি নির্দিষ্ট গুণক হারে বাড়ে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির রেখাটি (ac) ঊর্ধ্বমুখী বক্ররেখা ধারণ করেছে।
অতএব, উদ্দীপকের ab রেখা গাণিতিক হার এবং ac রেখা জ্যামিতিক হার নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে থমাস রবার্ট ম্যালথাস প্রদত্ত জনসংখ্যা তত্ত্বটি নির্দেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তত্ত্বটির উপযোগিতা ও প্রাসঙ্গিকতা মিশ্র প্রকৃতির, অর্থাৎ এটি আংশিক সত্য হলেও সার্বিকভাবে প্রযোজ্য নয়।
প্রাসঙ্গিকতার পক্ষে যুক্তি:
১. অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও ভূমির সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। কৃষিযোগ্য ভূমির পরিমাণ সীমিত এবং ক্রমহ্রাসমান। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে ভূমির ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
২. খাদ্যের সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: অতীতে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি, অপুষ্টি এবং প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ম্যালথাসের ভাষায় 'প্রাকৃতিক নিরোধ') দেখা গেছে।অপ্রাসঙ্গিকতার পক্ষে যুক্তি:
১. কৃষিতে বৈপ্লবিক প্রযুক্তি: ম্যালথাস কৃষিতে ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন বিধির কার্যকারিতা বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজ, রাসায়নিক সার, সেচ ব্যবস্থার বিস্তার ও কৃষিপ্রযুক্তির ফলে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে জনসংখ্যার সাথে সংগতি রেখে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে চাল উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ।
২. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস: শিক্ষা, সচেতনতা এবং পরিবার পরিকল্পনার সফল প্রয়োগের ফলে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রুত কমে এসেছে (বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১.২২%), যা ম্যালথাসীয় তত্ত্বে ভাবা হয়নি।
৩. মানবসম্পদে রূপান্তর: আধুনিক ধারণায় জনসংখ্যাকে কেবল ভোক্তা হিসেবে না দেখে জনসম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।পরিশেষে বলা যায়, ম্যালথাসের তত্ত্বটি অতীতের বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অনেকাংশে প্রযোজ্য ছিল এবং ভূমির সীমাবদ্ধতার বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে আজও এর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। তবে আধুনিক কৃষি বিপ্লব ও জন্ম নিয়ন্ত্রণের সফলতার কারণে তত্ত্বটি বর্তমান বাংলাদেশে পুরোপুরি কার্যকর নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও