যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
যুক্তিবাক্য কাকে বলে?
- খ)(2)
কোনো অবধারণই যুক্তিবাক্য নয়? বুঝিয়ে লেখ ।
- গ)(3)
১নং চিত্র কোন যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে ? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
২নং চিত্রের নির্দেশিত যুক্তিবাক্যের সাথে ৩নং চিত্রের যুক্তিবাক্যের মৌলিক পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি পদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিকে ভাষায় প্রকাশ করলে তাকে যুক্তিবাক্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রশ্নটি মূলত ভুল ধারণার ইঙ্গিত বহন করে, কারণ কোনো অবধারণই যুক্তিবাক্য নয়—এ কথাটি সঠিক নয়। বরং প্রতিটি যুক্তিবাক্যই আসলে ভাষায় প্রকাশিত অবধারণ।
অবধারণ হলো দুটি ধারণার মধ্যকার সম্পর্কের একটি মানসিক প্রক্রিয়া বা প্রত্যক্ষণ। এই মানসিক প্রক্রিয়া যখন ভাষায় প্রকাশ লাভ করে, তখন তাকে যুক্তিবাক্য বলা হয়। তবে মনের মধ্যকার অপ্রকাশিত কোনো অবধারণ যুক্তিবাক্য নয়। সুতরাং সব যুক্তিবাক্য অবধারণ হলেও সব অবধারণ যুক্তিবাক্য নয়, কেবল প্রকাশিত অবধারণই যুক্তিবাক্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১নং চিত্রে উদ্দেশ্য পদ 'ক' ভরাট (ব্যাপ্য) এবং বিধেয় পদ 'খ' খালি (অব্যাপ্য) নির্দেশ করা হয়েছে। সুতরাং, ১নং চিত্রটি সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে।
যুক্তিবিদ্যায় পদের ব্যাপ্তি অনুসারে চার প্রকার নিরপেক্ষ যুক্তিবাক্যের ব্যাপ্তির নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্যে (A বাক্য) উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে সামগ্রিকভাবে স্বীকার করা হয়, ফলে এর উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য হয়। কিন্তু বিধেয় পদটি কেবল উদ্দেশ্যের শ্রেণিভুক্ত হওয়ার কারণে আংশিকভাবে গৃহীত হয়, বিধেয়ের সামগ্রিক ব্যক্ত্যর্থ গ্রহণ করা হয় না। ফলে A যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ অব্যাপ্য থাকে।
চিত্র ১-এ দেখা যাচ্ছে, উদ্দেশ্য পদ 'ক'-এর ক্ষেত্রটি রেখাঙ্কিত/ভরাট, যা পদের ব্যাপ্যতা বোঝায় এবং বিধেয় পদ 'খ'-এর ক্ষেত্রটি খালি, যা অব্যাপ্যতা নির্দেশ করে। কাজেই এটি নিঃসন্দেহে 'A' যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ২নং চিত্রে উভয় পদ 'ক' ও 'খ' খালি (অর্থাৎ উভয় পদই অব্যাপ্য) দেখানো হয়েছে, যা বিশেষ সদর্থক বা 'I' যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ৩নং চিত্রে উদ্দেশ্য পদ 'ক' খালি (অব্যাপ্য) এবং বিধেয় পদ 'খ' ভরাট (ব্যাপ্য) দেখানো হয়েছে, যা বিশেষ নঞর্থক বা 'O' যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে। নিম্নে 'I' ও 'O' যুক্তিবাক্যের মৌলিক পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গুণের দিক থেকে পার্থক্য: ২নং চিত্রে নির্দেশিত 'I' যুক্তিবাক্যটি একটি সদর্থক বাক্য, যেখানে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে কোনো গুণের সম্পর্কের উপস্থিতি স্বীকার করা হয় (যেমন: কিছু মানুষ হয় সৎ)। অপরদিকে, ৩নং চিত্রে নির্দেশিত 'O' যুক্তিবাক্যটি একটি নঞর্থক বাক্য, যেখানে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে সম্পর্কের অস্বীকৃতি প্রকাশ পায় (যেমন: কিছু মানুষ নয় সৎ)।
২. পদের ব্যাপ্তির পার্থক্য: 'I' যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই অব্যাপ্য। কারণ এখানে উদ্দেশ্যের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে গ্রহণ করা হয় না এবং সদর্থক হওয়ায় বিধেয় পদটিও অব্যাপ্য থাকে (চিত্র ২)। বিপরীতে, 'O' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদটি বিশেষ হওয়ায় অব্যাপ্য থাকে, কিন্তু নঞর্থক যুক্তিবাক্য হওয়ায় এর বিধেয় পদটি ব্যাপ্য হয় (চিত্র ৩)।
৩. বিরোধিতার সম্পর্ক: গুণ ও পরিমাণের সম্পর্কের বিচারে 'I' এবং 'O' যুক্তিবাক্যের মধ্যে অধীন-বিপরীত বিরোধিতা (Sub-contrary opposition) বিদ্যমান।
অতএব, চিত্র ২ ও চিত্র ৩-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে গুণ ও বিধেয় পদের ব্যাপ্তির নিরিখে যুক্তিবাক্য দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও