ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল) • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।"
- ক)(1)
আবুল বরকত কে ছিলেন?
- খ)(2)
'তমদ্দুন মজলিস' কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চরণ দুটি তোমার পঠিত কোন আন্দোলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত আন্দোলন বাঙালিকে যে চেতনায় উজ্জীবিত করেছিল তা পর্যালোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবুল বরকত ছিলেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের একজন অন্যতম শহিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এম.এ. শ্রেণির ছাত্র।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'তমদ্দুন মজলিস' হলো ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠিত একটি ভাষাভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি সর্বপ্রথম সংগঠিতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ সংগঠনটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চরণ দুটি ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-কে স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এর প্রতিবাদে বাঙালি সমাজ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্মমভাবে গুলি চালায়। এতে বরকত, রফিক, সালাম, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। উদ্দীপকে উদ্ধৃত আব্দুল গাফফার চৌধুরীর বিখ্যাত গানটির চরণ দুটি একুশে ফেব্রুয়ারিতে রক্তদানের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি ও মহান ভাষা আন্দোলনকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে মহান ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গভীরভাবে উজ্জীবিত করেছিল।
ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার প্রথম সফল গণসংগ্রাম। ভাষার জন্য রক্তদানের মাধ্যমে বাঙালি জাতি বুঝতে পেরেছিল যে, ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি সম্ভব নয়। এ আন্দোলনের ফলে গড়ে ওঠে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি।
পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—বাঙালির প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনের মূলে প্রেরণা যুগিয়েছিল বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনা। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি আত্মমর্যাদাবোধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিরোধের শিক্ষা অর্জন করে, যা পরিশেষে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় রূপ নেয়। সুতরাং, ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও