সমাজকর্ম ২য় পত্র • মৌলিক মানবিক চাহিদা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
মৌল মানবিক চাহিদা কয়টি?
- খ)(2)
মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে চিত্তবিনোদন কেন প্রয়োজন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থান কোন মৌলিক চাহিদাকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণভাবে মৌল মানবিক চাহিদা ৬টি (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা ও মানসিক ক্লান্তি দূর করে মানুষের মনে নতুন উদ্যম ও আনন্দ ফিরিয়ে আনার জন্য চিত্তবিনোদন প্রয়োজন।
মানুষ কেবল জৈবিক সত্তা নয়, সামাজিক ও মানসিক সত্তাও বটে। একঘেয়েমি, মানসিক চাপ ও হতাশা দূর করতে বিনোদন বা খেলাধুলা, গান-বাজনা, ভ্রমণ ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিত্তবিনোদনের অভাবে মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বের বিকাশ ব্যাহত হয়। তাই সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের জন্য চিত্তবিনোদন একটি অপরিহার্য মৌল মানবিক চাহিদা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে 'খাদ্য' নির্দেশ করছে।
মানুষ বেঁচে থাকার জন্য যেসব অপরিহার্য উপাদান প্রয়োজন, তার মধ্যে খাদ্য অন্যতম প্রধান জৈবিক চাহিদা। খাদ্য গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো দেহের বৃদ্ধি সাধন, শারীরিক গঠন ঠিক রাখা, ক্ষয়পূরণ করা, তাপ ও শক্তি উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, '?' চিহ্নিত বিষয়ের সাথে শারীরিক গঠন, দেহের ক্ষয়পূরণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবিক বিকাশ যুক্ত রয়েছে। পুষ্টিকর খাদ্যই মানুষের শারীরিক গঠন মজবুত করে, দৈনন্দিন ক্ষয়পূরণ করে এবং রোগবালাই থেকে শরীরকে রক্ষা করে। পাশাপাশি সুস্থ শরীরে সুস্থ মন ও মেধার বিকাশ অর্থাৎ সামগ্রিক মানবিক বিকাশ খাদ্যের ওপরই নির্ভরশীল। সুতরাং উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত মৌলিক চাহিদাটি হলো 'খাদ্য'।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত মৌল মানবিক চাহিদাটি হলো 'খাদ্য'। বাংলাদেশে খাদ্যের চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভর্তুকি: সরকার খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের সার, বীজ, বিদ্যুৎ ও সেচকাজে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করছে। উচ্চফলনশীল (উফশী) ও প্রতিকূল পরিবেশসহনশীল জাতের বীজ উদ্ভাবন ও বিতরণ করা হচ্ছে।
২. সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ: কৃষকদের সুবিধার্থে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে বিশেষ কৃষিঋণ বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৩. ন্যায্যমূল্যে খাদ্য বিতরণ (ওএমএস): দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির (OMS) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি: দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ভিজিডি (VGD), ভিজিএফ (VGF), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
৫. খাদ্য মজুত ও আধুনিক সংরক্ষণাগার: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার খাদ্য মজুত ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক সাইলো ও গুদাম নির্মাণ করেছে।
সুতরাং বলা যায়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের খাদ্যের মৌলিক চাহিদা মেটানো এবং টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার উৎপাদন থেকে বণ্টন পর্যন্ত বহুমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও