গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মিতু ক্লাসে খুব চুপচাপ থাকে। তাকে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হলে, সে ভালোভাবে শুনতে পায় না। বেশিরভাগ সময় সে ইশারা ইঙ্গিত এর মাধ্যমে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করে। অপরদিকে রাতুল কারো সাথে কথা বলে না, কেউ ডাকলেও সাড়া দেয় না। যে কোনো একটি খেলা বারবার খেলতে থাকে। রাতুলের মা তার ছেলের পড়াশোনার ব্যাপারে বেশ উদ্বিগ্ন।

  1. ক)

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    "শালদুধ শিশুর জীবনের প্রথম টিকা"— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মিতুর মধ্যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধিতার লক্ষণ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "রাতুলের মতো শিশুর ক্ষেত্রে দরকার তাদের উপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতি ও যত্ন"—উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব শিশুর শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিগত বা ইন্দ্রিয়গত বৈশিষ্ট্য সাধারণ শিশুর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন এবং যাদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষার জন্য বিশেষ ধরনের যত্ন ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন হয়, তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সন্তান প্রসবের পর মায়ের স্তন থেকে প্রথম যে ঘন, আঠালো ও হলুদ রঙের দুধ নির্গত হয় তাকে শালদুধ বলে। শালদুধে প্রচুর পরিমাণে রোগ প্রতিরোধক উপাদান বা অ্যান্টিবডি (যেমন- IgA) থাকে, যা নবজাতকের পরিপাকতন্ত্রকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ভবিষ্যতে নানা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। তাই শালদুধকে শিশুর জীবনের প্রথম প্রাকৃতিক টিকা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মিতুর মধ্যে শ্রবণ ও বাক-প্রতিবন্ধিতার লক্ষণ ফুটে উঠেছে।

    শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা শব্দ সঠিকভাবে শুনতে পায় না বা একেবারেই শোনে না। এর ফলে তারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শেখে না এবং যোগাযোগ রক্ষার জন্য ইশারা-ইঙ্গিতের ওপর নির্ভর করে। উদ্দীপকে মিতু ক্লাসে চুপচাপ থাকে, কোনো প্রশ্ন করলে ভালোভাবে শুনতে পায় না এবং কথা বলার পরিবর্তে ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে। এ লক্ষণগুলো তার শ্রবণ ও বাক-প্রতিবন্ধিতার স্পষ্ট পরিচায়ক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রাতুলের আচরণ অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারের লক্ষণ নির্দেশ করে। রাতুলের মতো অটিস্টিক শিশুদের বিকাশের জন্য উপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতি ও বিশেষ যত্ন অপরিহার্য—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    রাতুলের মধ্যে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় অনিচ্ছা (কারো সাথে কথা না বলা, ডাকে সাড়া না দেওয়া) এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ (একই খেলা বারবার খেলা) দেখা যাচ্ছে, যা অটিজমের মূল বৈশিষ্ট্য। সাধারণ শিক্ষাদান পদ্ধতিতে এই শিশুরা খাপ খাইয়ে নিতে পারে না।

    এদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা ব্যবস্থা, যেমন—ভিজ্যুয়াল এইডস বা ছবির মাধ্যমে শিক্ষা, ধাপে ধাপে নির্দেশনা এবং পুনরাবৃত্তিমূলক শিখন পদ্ধতি প্রয়োজন। পাশাপাশি স্নেহপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ, ধৈর্যশীল আচরণ এবং স্পিচ ও অকুপেশনাল থেরাপির মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। তাই রাতুলের মতো শিশুর সার্বিক বিকাশে বিশেষ শিক্ষাদান পদ্ধতি ও নিয়মিত যত্ন একান্ত আবশ্যক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন