‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. জনের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ করে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবল আগ্রহ। কিন্তু তার দেশে এর কোনো সুযোগ নেই। সেখানে সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তার ফেসবুক বন্ধু মি. ব্রাউন নিজ উদ্যোগে বিনিয়োগ করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে তার প্রতিষ্ঠানের অনেক বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন। কিন্তু সেখানে শ্রেণিবৈষম্য এবং শ্রমিক শোষণ বিদ্যমান।

  1. ক)

    ব্যষ্টিক অর্থনীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    নির্বাচন সমস্যাটি মূলত কী কারণে উদ্ধৃত? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে মি. জনের দেশের অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মি. জন এবং মি. ব্রাউনের অর্থব্যবস্থার মিশ্রণ ঘটিয়ে কি অর্থব্যবস্থা তৈরি করা যায়? সেই অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতির যে শাখায় অর্থনীতির প্রতিটি একক, যেমন—নির্দিষ্ট একজন ভোক্তা, একটি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বা একটি নির্দিষ্ট বাজারের আচরণ ও কার্যকলাপ পৃথক ও ক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনা করা হয়, তাকে ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের জীবনে অভাব অসীম কিন্তু সেই অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও উপকরণ অত্যন্ত সীমিত বা অপ্রতুল। সম্পদের এই দুষ্প্রাপ্যতার (scarcity) কারণে মানুষ তার সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। ফলে বহুবিধ অভাবের মধ্য থেকে গুরুত্ব ও তীব্রতা অনুযায়ী সবচেয়ে জরুরি অভাবগুলো আগে বাছাই বা নির্বাচন করতে হয়। তাই মূলত সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং অভাবের ভিন্ন মাত্রার তীব্রতার কারণেই অর্থনীতিতে ‘নির্বাচন’ সমস্যাটির সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত মি. জনের দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সেখানে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ বা উদ্যোগের কোনো সুযোগ নেই। এটি নির্দেশ করে যে, মি. জনের দেশটি ‘সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা’ (Socialist/Command Economy) দ্বারা পরিচালিত।

    মি. জনের দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. সম্পদের রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক মালিকানা: এখানে উৎপাদনের উপকরণগুলোর (ভূমি, শ্রম, মূলধন, সংগঠন) উপর ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না; রাষ্ট্রের বা সমাজের সর্বজনীন মালিকানা থাকে।
    ২. কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা: দেশের সকল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত (কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কার জন্য উৎপাদিত হবে) একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়।
    ৩. মুনাফার অনুপস্থিতি ও সামাজিক কল্যাণ: ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকে না। উৎপাদনের মূল লক্ষ্য থাকে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।
    ৪. ভোক্তার স্বাধীনতার অভাব: ভোক্তা ইচ্ছামতো দ্রব্য ভোগের স্বাধীনতা পায় না, সরকার যা উৎপাদন ও বণ্টন করে তা-ই গ্রহণ করতে হয়।
    ৫. শ্রেণিভেদ ও শোষণহীন সমাজ: ব্যক্তিগত মালিকানা না থাকায় সমাজে পুঁজিপতি ও শ্রমিকের শ্রেণিভেদ এবং অর্থনৈতিক শোষণ থাকে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. জনের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এবং মি. ব্রাউনের ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার (যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগ, মুনাফা থাকলেও শোষণ ও শ্রেণিবৈষম্য বিদ্যমান) সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ‘মিশ্র অর্থব্যবস্থা’ (Mixed Economy) গড়ে তোলা যায়।

    মিশ্র অর্থব্যবস্থা হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তি উদ্যোগ ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ—উভয়ের সহাবস্থান দেখা যায়। এই অর্থব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান: এ ব্যবস্থায় বৃহৎ, মৌলিক ও কৌশলগত শিল্পসমূহ (যেমন—প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ইত্যাদি) সরকারি খাতে থাকে এবং অন্যান্য শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়।
    ২. সম্পদের দ্বৈত মালিকানা: ব্যক্তি তার নিজস্ব সম্পদের মালিকানা ভোগ করতে পারে এবং পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাও বহাল থাকে।
    ৩. ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মুনাফার স্বীকৃতি: বেসরকারি খাতে ব্যক্তি নিজের পছন্দমতো বিনিয়োগ করতে পারে এবং মুনাফা অর্জনের সুযোগ পায়।
    ৪. সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ রোধ: বাজার প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিক শোষণ বা ক্ষতিকর দ্রব্যের উৎপাদন রোধ করতে সরকার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ আরোপ করে।
    ৫. সামাজিক নিরাপত্তা: সমাজের দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, ফলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মতো চরম শ্রেণিবৈষম্য কমে আসে।
    ৬. ভোক্তার সীমিত স্বাধীনতা: ভোক্তা স্বাধীনভাবে দ্রব্য নির্বাচন করতে পারে, তবে সরকার ক্ষতিকর দ্রব্য বা মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।

    সুতরাং, ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের ত্রুটিগুলো দূর করে এ দুটির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মিশ্র অর্থব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়বিচার দুটোই নিশ্চিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন