অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. 'ক' একদিন খবরের কাগজ পড়ছিলেন। সেখানে একটি খবরের প্রতি তার দৃষ্টি আটকে যায়। খবরে বলা হয় বগুড়ায় মহাস্থানগড় বাজারের সবজির দামের সঙ্গে ঢাকার কাওরান বাজারের সবজির দামে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। খবরের আরও জানতে পারেন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের দৌরাত্ম্য কৃষকদের সচেতনতার অভাব ইত্যাদি কারণে দামের এই পার্থক্য সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমান সরকার এইসব সমস্যা সমাধানে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করছে।
- ক)(1)
জীবন নির্বাহী খামার কী?
- খ)(2)
দীর্ঘমেয়াদি কৃষি ঋণ কৃষি উন্নয়নের ভিত্তি- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সমস্যাসমূহ আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কি যথেষ্ট? উদ্দীপকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খামারে কৃষক প্রধানত পরিবারের ভরণপোষণ বা জীবন ধারণের উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য উৎপাদন করে থাকে, তাকে জীবন নির্বাহী খামার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিতে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যেমন—জমি ক্রয়, গভীর নলকূপ স্থাপন, ভারী কৃষি যন্ত্রপাতি (ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার) ক্রয়, স্থায়ী সেচ ব্যবস্থা নির্মাণ প্রভৃতির জন্য পাঁচ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য যে ঋণ দেওয়া হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বলে। এ ধরনের ঋণ কৃষির উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি করে আধুনিকায়নে স্থায়ী ভূমিকা রাখে। তাই দীর্ঘমেয়াদি কৃষি ঋণকে কৃষি উন্নয়নের ভিত্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বগুড়ার মহাস্থানগড় বাজার এবং ঢাকার কাওরান বাজারের সবজির দামের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের নানাবিধ সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকের আলোকে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সমস্যাসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. অনুন্নত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা: গ্রামে উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ও কম খরচে শহরের বড় বাজারে প্রেরণের জন্য প্রয়োজনীয় সড়ক ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।
২. মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের দৌরাত্ম্য: ফড়িয়া, পাইকার, আড়তদার ইত্যাদি মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণি কৃষকের কাছ থেকে কম দামে পণ্য কিনে ভোক্তার কাছে চড়া দামে বিক্রি করে, যার ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।
৩. কৃষকদের সচেতনতা ও তথ্যের অভাব: বাজারদর সম্পর্কে কৃষকদের অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবের কারণে স্থানীয় বাজারে তারা নামমাত্র মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
৪. গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণের অভাব: পচনশীল কৃষিপণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য হিমাগার বা আধুনিক গুদামের অপ্রতুলতা রয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ সমস্যা সমাধানে সরকার রাস্তাঘাট নির্মাণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করছে। তবে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে শুধু এগুলোই যথেষ্ট নয়।
কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:
১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস: সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয়ের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
২. পর্যাপ্ত হিমাগার ও গুদাম নির্মাণ: পচনশীল শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপন করা।
৩. তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও বাজার মনিটরিং: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকদের প্রতিদিনের বাজারদর সম্পর্কে অবগত রাখা এবং বাজারে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো।
৪. সমবায় বাজার ব্যবস্থা চালু: কৃষকদের সমবায়ের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও বিক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে তাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৫. সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণ: অভাবের তাড়নায় ফসল কাটার সাথে সাথে কম দামে বিক্রি ঠেকাতে কৃষককে সহজে ঋণ সুবিধা প্রদান করা।অতএব, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভাঙা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সমবায় বিপণন নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি পুরোপুরি নিশ্চিত হবে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও