ভূগোল ২য় পত্র • শিল্প • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
অধিকাংশ নারীকর্মী দ্বারা পরিচালিত একটি রপ্তানিমুখী শিল্প। যা ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে বিকাশ লাভ করেছে। শিল্পটি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
- ক)(1)
বিশ্বের প্রধান কার্পাস বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশের নাম লেখো।
- খ)(2)
বাংলাদেশ সারশিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
বাংলাদেশের মানচিত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত স্থানে শিল্পটির অবস্থান চিহ্নিত করো ।
- ঘ)(4)
“শিল্পটি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে”– বাক্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চীন বিশ্বের প্রধান কার্পাস বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে সারশিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। দেশে গ্যাসের অপ্রতুলতা এবং পর্যাপ্ত নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হওয়া সার উৎপাদনে প্রধান অন্তরায়। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব, পুরনো প্রযুক্তি ও কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস এবং চাহিদার তুলনায় কমসংখ্যক কারখানা থাকার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলস্বরূপ, বিপুল অভ্যন্তরীণ কৃষি চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশ সারশিল্পে এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো বাংলাদেশের ‘তৈরি পোশাক শিল্প’ (RMG)।
পরীক্ষায় বাংলাদেশের একটি রূপরেখা মানচিত্র অঙ্কন করে নিম্নোক্ত অঞ্চলগুলোকে নির্দেশ করতে হবে:
১. ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে চিহ্নিত করতে হবে। এটি দেশের প্রাচীনতম ও প্রধান পোশাক শিল্পাঞ্চল।
২. গাজীপুর: ঢাকা জেলার ঠিক উত্তরে অবস্থিত প্রধান পোশাক কারখানা ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
৩. চট্টগ্রাম: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কর্ণফুলী নদীর তীরে বন্দর নগরীতে অবস্থিত প্রধান রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প এলাকা চিহ্নিত করতে হবে।মানচিত্রে প্রতীক বা চিহ্নের সাহায্যে (যেমন: বিশেষ ডট বা শেড) স্থানগুলো স্পষ্ট করে লেবেল করতে হবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি হলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প (Readymade Garments Industry)। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এ শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের মোট জাতীয় রপ্তানি আয়ের শতকরা ৮০ ভাগের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই শিল্প থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়তা করে।
২. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এ খাতে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিকের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব হ্রাস করতে এবং অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে আয়ের ধারায় আনতে পোশাক শিল্প অসামান্য অবদান রেখেছে।
৩. নারীর ক্ষমতায়ন: পোশাক কারখানার শ্রমিকদের একটি বিশাল অংশ নারী। গ্রামীণ নারীরা শহরে এসে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখছে।
৪. সহযোগী বা লিংকেজ শিল্পের বিকাশ: পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং, বীমা, শিপিং, প্যাকেজিং, পরিবহন, এক্সেসরিজ ইত্যাদি বহুবিধ সহযোগী ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে।
৫. মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বৃদ্ধি: দেশের জিডিপিতে এ শিল্পের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি।
অতএব, প্রশ্নোক্ত বাক্যটি যথার্থ; তৈরি পোশাক শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিশাল কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও