পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' রাষ্ট্রের জনগণ জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদেশি শাসন থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে। এখন এই রাষ্ট্রের মানুষ সামাজিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের জীবন উপভোগ করছে।
- ক)(1)
"Man is born free, but everywhere he is in chain." উক্তিটি কার?
- খ)(2)
মানুষ কেন আইন মান্য করে?
- গ)(3)
'ক' রাষ্ট্রের জনগণ কোন ধরনের স্বাধীনতা লাভ করেছে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি কীভাবে অন্য স্বাধীনতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"Man is born free, but everywhere he is in chain." উক্তিটি ফরাসি দার্শনিক জঁ-জ্যাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau)-র।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষ সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আইন মান্য করে।
আইন সমাজের সবলদের হাত থেকে দুর্বলদের রক্ষা করে এবং সাম্য প্রতিষ্ঠা করে। মানুষ আইনের শাস্তির ভয় যেমন করে, তেমনি আইনের কল্যাণকর রূপ ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেও স্বেচ্ছায় তা মেনে চলে। আইন না থাকলে সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত, ফলে স্বাধীন ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক' রাষ্ট্রের জনগণ 'জাতীয় স্বাধীনতা' লাভ করেছে।
জাতীয় স্বাধীনতা বলতে বোঝায় একটি জাতির বিদেশি শাসন ও আধিপত্য থেকে মুক্ত হয়ে নিজস্ব সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার অধিকার। জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করলে একটি রাষ্ট্র বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নীতি নির্ধারণে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদেশি শাসন থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে। কোনো জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করাই হলো জাতীয় স্বাধীনতার প্রতিফলন। অতএব, 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জাতীয় স্বাধীনতা হলো সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত সকল প্রকার স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সামাজিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা: কোনো দেশ পরাধীন থাকলে সেখানকার জনগণ সামাজিক মর্যাদা ও সমতা ভোগ করতে পারে না। জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের ফলেই বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং ব্যক্তিজীবন উন্নত করা সম্ভব হয়।
২. রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা: পরাধীন জাতির জনগণের সরকার গঠন, ভোটদান বা রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকে না। জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠিত হয়, যেখানে নাগরিকরা তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
৩. অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিকাশ: বিদেশি শাসকগোষ্ঠী সর্বদা পরাধীন দেশকে শোষণ করে সম্পদ পাচার করে। জাতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হলে দেশের সম্পদ জাতীয় উন্নয়নে ব্যয় হয় এবং শোষণমুক্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।
৪. মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা: একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে নিজস্ব সংবিধানের মাধ্যমে জনগণের বাক-স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়, যা পরাধীন রাষ্ট্রে কখনোই সম্ভব নয়।উদ্দীপকেও দেখা যায়, জাতীয় স্বাধীনতা লাভের পরই 'ক' রাষ্ট্রের মানুষ সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের জীবন উপভোগ করতে পারছে।
সুতরাং বলা যায়, জাতীয় স্বাধীনতাই অন্য সকল স্বাধীনতার প্রধান ভিত্তি ও পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও