‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ফয়সাল সাহেব দীর্ঘদিন মক্কায় অবস্থান করেন । দেশে ফিরে তিনি এলাকার মানুষের অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড দেখে ধর্মীয় সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন। মুসলমান সমাজের অবহেলিত, নির্যাতিত অবস্থা দেখে তিনি দুঃখ পান । তিনি এলাকাবাসীকে সংগঠিত করে ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেন ।

  1. ক)

    মজলুম জননেতা কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    তিতুমীর কেন বাঁশের কেল্লা স্থাপন করেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ফয়সাল সাহেবের সাথে ইতিহাসের কোন মহৎ বক্তির মিল খুঁজে পাওয়া যায়? তাঁর পরিচালিত আন্দোলনের লক্ষ্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলন তৎকালীন মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নবজাগরণের সূচনা করেছিল। তুমি কি বিষয়টির সাথে একমত? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মজলুম জননেতা ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশ শাসন এবং স্থানীয় হিন্দু জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার প্রতিহত করতে তিতুমীর ১৮৩১ সালে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা স্থাপন করেন। আধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁর অনুসারীদের একত্রিত ও সুরক্ষিত রেখে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল এই বাঁশের কেল্লার উদ্দেশ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ফয়সাল সাহেবের সাথে ইতিহাসের মহান সংস্কারক হাজী শরীয়তুল্লাহর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

    হাজী শরীয়তুল্লাহ দীর্ঘকাল মক্কায় অবস্থান করে ধর্মীয় জ্ঞান লাভ করেন এবং দেশে ফিরে তৎকালীন বাংলার মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত কুসংস্কার দূরীকরণে 'ফরায়েজী আন্দোলন' শুরু করেন।
    তাঁর পরিচালিত আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্যসমূহ ছিল:
    ১. ইসলামে নির্দেশিত ফরজ বা অবশ্যকরণীয় বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করা এবং অনৈসলামিক কুসংস্কার ও বিদআত বর্জন করা।
    ২. নির্যাতিত, শোষিত মুসলিম কৃষক ও তাঁতীদের অধিকার রক্ষা করা এবং হিন্দু জমিদার ও ইংরেজ নীলকরদের অন্যায় কর ও শোষণের হাত থেকে তাদের রক্ষা করা।
    ৩. ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে নৈতিকতা, আত্মমর্যাদাবোধ ও ঐক্য সৃষ্টি করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত যে ফরায়েজী আন্দোলন তৎকালীন মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নবজাগরণের সূচনা করেছিল।

    নিম্নোক্ত যুক্তির আলোকে বিষয়টি স্পষ্ট করা হলো:
    ১. আত্মমর্যাদা ও অধিকার সচেতনতা: হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলন অবহেলিত ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত বাঙালি মুসলিম সমাজকে নিজ ধর্মের মূল শিক্ষায় ফিরিয়ে আনে। এর ফলে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ তাদের মানবিক অধিকার ও আত্মমর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।

    ২. জমিদারি ও ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: এই আন্দোলন মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করে জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে দীর্ঘদিনের ভীতি কাটিয়ে তারা নিজেদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়।

    ৩. রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ: হাজী শরীয়তুল্লাহর পর তাঁর পুত্র দুদু মিয়া এই আন্দোলনকে সুসংগঠিত রাজনৈতিক রূপ দেন। এটি সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের চেতনা সঞ্চার করে, যা পরবর্তীতে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণা জুগিয়েছিল।

    অতএব, কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে ফরায়েজী আন্দোলন মুসলিম সমাজে নবজাগরণের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন