ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • বিমা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব হাশেম তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দিয়ে বিমা করেন। সম্প্রতি এক দুর্ঘটনায় তাঁর গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাদাবি পেশ করার পর বিমাকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী বিমাদাবি প্রদান করে। গাড়ির ভগ্নাবশেষ বিক্রয় করে যে অর্থ পাওয়া যায় তা জনাব হাশেম দাবি করলেও বিমাকারী প্রতিষ্ঠান উক্ত অর্থ প্রদানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- ক)(1)
ঝুঁকি কী?
- খ)(2)
"কিছু কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ অযোগ্য" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব হাশেম কোন নীতির আলোকে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিমাদাবি লাভ করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিমাকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জনাব হাশেমের পরবর্তী দাবি প্রত্যাখ্যানের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রত্যাশিত ফলাফলের তুলনায় প্রকৃত ফলাফলের ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা অথবা আর্থিক ক্ষতির অনিশ্চয়তাকেই ঝুঁকি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ঝুঁকি মানুষের সচেতনতা, নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বা কোনো নির্দিষ্ট নীতি দ্বারা এড়ানো বা রোধ করা সম্ভব হয় না, সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ অযোগ্য ঝুঁকি বলে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন- ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়), যুদ্ধবিগ্রহ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কিংবা সরকারি নীতির আকস্মিক পরিবর্তন ইত্যাদি বাহ্যিক পরিবেশের ওপর মানুষের বা কোনো একক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি ও ক্ষতি পূর্বপরিকল্পনা দিয়ে পুরোপুরি প্রতিহত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাই বলা হয় "কিছু কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ অযোগ্য"।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব হাশেম 'ক্ষতিপূরণের নীতি' (Principle of Indemnity)-র আলোকে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিমাদাবি লাভ করেন।
ক্ষতিপূরণের নীতি অনুসারে, বিমা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো বিমাগ্রহীতাকে বিপদের পূর্বে যে আর্থিক অবস্থানে ছিলেন ঠিক সেই আর্থিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা, অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে দেওয়া নয়। জীবন বিমা ছাড়া নৌ, অগ্নি বা সাধারণ বিমার ক্ষেত্রে এই নীতি অপরিহার্যভাবে প্রযোজ্য হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব হাশেম তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য বিমা করেছিলেন। গাড়িটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুক্তি অনুযায়ী বিমাকারী প্রতিষ্ঠান তাঁকে ক্ষতিপূরণ বা বিমাদাবি পরিশোধ করে। যেহেতু গাড়ি বিমা একটি সাধারণ বা সম্পত্তি বিমা এবং এর মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি পূরণ করা হয়েছে, তাই এটি ক্ষতিপূরণের নীতির ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিমাকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জনাব হাশেমের পরবর্তী দাবি (ভগ্নাবশেষ বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রাপ্তির দাবি) প্রত্যাখ্যান করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। এটি বিমার 'স্থলাভিষিক্ততার নীতি' (Principle of Subrogation)-এর ভিত্তিতে যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
স্থলাভিষিক্ততার নীতি অনুযায়ী, কোনো বিমাকৃত সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হলে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান যদি বিমাগ্রহীতাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, তবে সেই ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ বা ভগ্নাবশেষের ওপর আর বিমাগ্রহীতার কোনো মালিকানা বা অধিকার থাকে না; বরং বিমাকারী প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে উক্ত সম্পত্তির মালিকানায় স্থলাভিষিক্ত হয়। বিমাগ্রহীতা যদি পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরও ভগ্নাবশেষ বিক্রির অর্থ দাবি করেন, তবে তা ক্ষতিপূরণের মূল নীতির পরিপন্থী হয় এবং এর মাধ্যমে বিমাগ্রহীতার অন্যায় আর্থিক সুবিধা বা মুনাফা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব হাশেমের গাড়িটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী তাঁর যাবতীয় ক্ষতিপূরণ/বিমাদাবি পরিশোধ করে। ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সাথে সাথে গাড়ির ভগ্নাবশেষের ওপর তাঁর আর কোনো অধিকার থাকে না এবং তা বিমা কোম্পানির সম্পত্তিতে পরিণত হয়। জনাব হাশেম উক্ত ভগ্নাবশেষ বিক্রয়ের অর্থ দাবি করলে বিমা প্রতিষ্ঠান তা প্রত্যাখ্যান করে।
সুতরাং, স্থলাভিষিক্ততার নীতির আলোকে বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের উক্ত প্রত্যাখ্যান আইনগত ও নৈতিক উভয় দিক থেকেই পুরোপুরি সঠিক ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও