জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ক্যাপসিড কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সারসিনা বলতে কী বুঝায়?

    (2)
  3. গ)

    A-র ভৌত গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    B কে ব্যবহার করে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি আনা সম্ভব উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাইরাসের নিউক্লিক অ্যাসিডকে (DNA বা RNA) ঘিরে রাখা প্রোটিন নির্মিত আবরণকে ক্যাপসিড বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সারসিনা হলো গোলাকার বা কক্কাস ব্যাকটেরিয়ার একটি বিশেষ বিন্যাস, যেখানে ব্যাকটেরিয়ার কোষগুলো তিনটি তলে বিভাজিত হয়ে আটটি বা তার গুণিতক সংখ্যক কোষে ঘনকের মতো গুচ্ছ গঠন করে অবস্থান করে। যেমন: Sarcina lutea।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চিহ্নিত 'A' অংশটি হলো ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লিওয়েড বা মূল ক্রোমোজোমাল ডিএনএ (DNA)।

    ওয়াটসন ও ক্রিক প্রদত্ত মডেল অনুযায়ী ডিএনএ-এর ভৌত গঠন নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
    ১. ডিএনএ অণু একটি দ্বিসূত্রক, পেঁচানো সিঁড়ির মতো গঠন (ডাবল হেলিক্স), যা ডানাবর্তে কুণ্ডলিত থাকে।
    ২. প্রতিটি সূত্র ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগার এবং ফসফেটের পর্যায়ক্রমিক সংযোগে গঠিত, যা সূত্রের প্রধান কাঠামো বা মেরুদণ্ড তৈরি করে।
    ৩. সিঁড়ির ধাপগুলোর প্রতিটি জোড় নাইট্রোজেনাস বেস নিয়ে গঠিত। এতে চার ধরনের বেস থাকে: অ্যাডেনিন (A), গুয়ানিন (G), সাইটোসিন (C) এবং থাইমিন (T)। একটি পিউরিন সর্বদা একটি পিরিমিডিনের সাথে যুক্ত হয়; অর্থাৎ A দুটি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা T-এর সাথে (A=T) এবং G তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা C-এর সাথে (G≡C) যুক্ত থাকে।
    ৪. হেলিক্সের প্রতিটি পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য ৩৪ Å (৩.৪ nm) এবং একটি পূর্ণ প্যাঁচে ১০ জোড়া মনোনিউক্লিওটাইড থাকে। ফলে পাশাপাশি দুটি সিঁড়ির ধাপের মধ্যকার দূরত্ব ৩.৪ Å (০.৩৪ nm)।
    ৫. সম্পূর্ণ হেলিক্স বা ডিএনএ অণুর ব্যাস প্রায় ২০ Å (২ nm)। সূত্র দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী বা অ্যান্টি-প্যারালাল (একটি ৫'→৩' হলে অন্যটি ৩'→৫') হিসেবে বিন্যস্ত থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চিহ্নিত 'B' অংশটি হলো প্লাজমিড (ব্যাকটেরিয়ার ক্রোমোজোমবহির্ভূত স্ব-প্রজননশীল দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার ডিএনএ অনু)। রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ প্লাজমিডকে সবচেয়ে কার্যকর বাহক (ভেক্টর) হিসেবে ব্যবহার করে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নতি সাধন সম্ভব।

    কৃষিক্ষেত্রে প্লাজমিডের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন: Bacillus thuringiensis নামক ব্যাকটেরিয়ার বিটি (Bt) জিন প্লাজমিডের মাধ্যমে ফসলে স্থানান্তর করে বিটি-তুলা, বিটি-বেগুন ইত্যাদি ট্রান্সজেনিক পোকা-প্রতিরোধী ফসল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা কীটনাশকের ব্যবহার কমায়।
    ২. রোগ প্রতিরোধী জাত তৈরি: প্লাজমিড ভেক্টর ব্যবহারের মাধ্যমে ভাইরাস, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী বিভিন্ন ফসলের জাত (যেমন: ব্লাইট প্রতিরোধী আলু, মোজাইক ভাইরাস প্রতিরোধী পেঁপে ও টমেটো) তৈরি করা হচ্ছে।
    ৩. প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল জাত উদ্ভাবন: প্লাজমিডের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত জিন প্রবেশ করিয়ে লবণাক্ততা, খরা, বন্যা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহনশীল ফসলের নতুন জাত সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে।
    ৪. পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফসল (বায়োফর্টিফিকেশন): ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস (Golden Rice) এবং উচ্চমাত্রার আয়রন ও জিংকযুক্ত শস্য তৈরিতে প্লাজমিড বাহক হিসেবে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে।
    ৫. নাইট্রোজেন সংবন্ধন ক্ষমতা বৃদ্ধি: নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী জিন (nif-জিন) প্লাজমিডের মাধ্যমে খাদ্যশস্যে স্থানান্তরের গবেষণা চলছে, যা সফল হলে জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার বহুলাংশে হ্রাস পাবে।

    অতএব, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাহক হিসেবে প্লাজমিড (B)-কে ব্যবহার করে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি আনা সম্পূর্ণ বাস্তব ও সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন