সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
"আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।"-এই আত্মনির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে, সেই দিনই আমরা স্বাধীন হবো, তার আগে কিছুতেই নয়। নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেতো, তাহলে এই দেশ এতদিন পরাধীন থাকতো না।
- ক)(1)
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধটি লেখকের কোন গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
- খ)(2)
"রাষ্ট্র জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক।" কথাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলভাব ধারণ করতে পেরেছে কি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধটি আবুল ফজলের 'মানবতন্ত্র' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"রাষ্ট্র জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক"—কথাটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, একটি রাষ্ট্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, বরং তা সমগ্র জনগণের সম্মিলিত বিকাশ ও কল্যাণমুখী চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
লেখক আবুল ফজলের মতে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল নাগরিককে শাসন করা বা বাঁচিয়ে রাখা নয়, বরং তাদের মানবিক মর্যাদা ও সৃজনশীলতার বিকাশ নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র যদি নাগরিকদের ভেতর মানবিকতাবোধ, আত্মমর্যাদা এবং দায়িত্বশীল চেতনার বিকাশ ঘটাতে ব্যর্থ হয়, তবে সমাজ পঙ্গু হয়ে পড়ে। তাই ব্যক্তি ও সমাজের সম্মিলিত উন্নতি ও মানবিক চৈতন্যের সমষ্টিগত রূপই হলো রাষ্ট্র।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আত্মমর্যাদাবোধ, স্বাবলম্বন ও আত্মিক জাগরণের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক তুলে ধরেছেন যে, দান-খয়রাত বা পরমুখাপেক্ষিতা মানুষের মনুষ্যত্বকে খর্ব করে এবং হীনম্মন্য করে তোলে। প্রকৃত মানব-কল্যাণ মানুষের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলা এবং তাকে স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মধ্যে নিহিত।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, আত্মাকে চেনার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতা অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেখানে অন্য কারও ওপর অন্ধভাবে নির্ভর বা নিষ্ক্রিয় ভক্তি না করে নিজের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আত্মনির্ভরতা এবং নিজের শক্তির উপলব্ধিই 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের অন্তর্নিহিত স্বাবলম্বন ও মানবিক মর্যাদাবোধের শিক্ষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের একটি মৌলিক দিককে ধারণ করলেও প্রবন্ধের সমগ্র ভাবকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি।
উদ্দীপকে মূলত ব্যক্তির আত্মনির্ভরতা, পরনির্ভরশীলতা পরিহার এবং আত্মজাগরণের মাধ্যমে মুক্তি অর্জনের কথা বলা হয়েছে, যা দেশ ও জাতির স্বাধীনতার মূল শর্ত।
অন্যদিকে, 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল শুধু আত্মনির্ভরতার কথাই বলেননি, বরং মানব-কল্যাণের প্রচলিত সংকীর্ণ ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর মতে, দান-খয়রাত বা ভিক্ষা দেওয়া প্রকৃত মানব-কল্যাণ নয়; তা গ্রহীতাকে হীন ও ছোট করে। প্রকৃত মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সার্বিক বিকাশ, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে মানুষের প্রতি সমবেদনা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকবে। প্রবন্ধে যৌথ চেতনা, গণতান্ত্রিক মনোভাব এবং সমগ্র মানবজাতির সামগ্রিক মুক্তির বিষয়টি বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।
অতএব, উদ্দীপকে কেবল আত্মনির্ভরতা ও নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়ানোর বিষয়টি আসায় এটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের একটি অংশবিশেষকে ধারণ করে, কিন্তু প্রবন্ধের সামগ্রিক ও বহুমাত্রিক মানবিক দর্শনের সম্পূর্ণ প্রতিফলন এতে ঘটেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও