যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
রাবেয়া বললো, "মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।" রোদেলা বললো, "মানুষ হলো এমন জীব যার দুটি পা, দুটি হাত আছে; সে কথা বলে, হাসে, কাঁদে এবং তার মনুষ্যত্ববোধ আছে।"
- ক)(1)
সংজ্ঞেয় পদ কী?
- খ)(2)
পরতম জাতিকে সংজ্ঞা দেওয়া যায় না কেন?
- গ)(3)
রোদেলার বক্তব্যে পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে রাবেয়া ও রোদেলার বক্তব্য দুটির পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পদের সংজ্ঞা নির্দেশ করা হয়, তাকে সংজ্ঞেয় পদ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরতম জাতিকে সংজ্ঞা দেওয়া যায় না কারণ পরতম জাতির ঊর্ধ্বে কোনো উচ্চতর বা ব্যাপকতর জাতি থাকে না। যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী কোনো পদের সংজ্ঞা দিতে হলে তার আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। পরতম জাতির চেয়ে বড় কোনো জাতি না থাকায় এর কোনো আসন্নতম জাতি নির্ণয় করা সম্ভব নয়, ফলে একে সংজ্ঞায়িত করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রোদেলার বক্তব্যে পাঠ্যপুস্তকের 'বর্ণনা' (Description) বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় কোনো পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থ প্রকাশ না করে তার উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ অথবা উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণের মিশ্রণে যে গুণ প্রকাশ করা হয়, তাকে বিবরণ বা বর্ণনা বলে। বর্ণনায় পদের মৌলিক বা আবশ্যিক গুণ না দিয়ে বাহ্যিক ও পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ থাকে।
উদ্দীপকে রোদেলা 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা না দিয়ে বলেছে, "মানুষ হলো এমন জীব যার দুটি পা, দুটি হাত আছে; সে কথা বলে, হাসে, কাঁদে এবং তার মনুষ্যত্ববোধ আছে।" এখানে হাত-পা থাকা, কথা বলা বা হাসা-কাঁদা মানুষের অবান্তর লক্ষণ ও উপলক্ষণ মাত্র; এটি কোনো জাত্যর্থ নয়। সুতরাং, রোদেলার বক্তব্যটি সংজ্ঞার পরিবর্তে 'বর্ণনা'র দৃষ্টান্তকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাবেয়া ও রোদেলার বক্তব্য দুটির মধ্যে যুক্তিবিদ্যার 'যৌক্তিক সংজ্ঞা' ও 'বিবরণ বা বর্ণনা'র পার্থক্য সূচিত হয়েছে। নিম্নে এদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. স্বরূপগত পার্থক্য: রাবেয়ার বক্তব্যে 'সংজ্ঞা' প্রকাশিত হয়েছে, কারণ সে মানুষ পদের প্রকৃত জাত্যর্থ (জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি) নির্দেশ করেছে। পক্ষান্তরে, রোদেলার বক্তব্যে 'বর্ণনা' প্রকাশিত হয়েছে, কারণ সে জাত্যর্থের পরিবর্তে অবান্তর লক্ষণ ও উপলক্ষণ উল্লেখ করেছে।
২. নিয়মের ভিত্তি: যৌক্তিক সংজ্ঞা কঠোর নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সংজ্ঞায় আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। অন্যদিকে, বর্ণনার কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই; এতে যেকোনো উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করা যায়।
৩. পদের পরিধি: সংজ্ঞা কেবল জাতি বা উপজাতিবাচক পদের ক্ষেত্রে সম্ভব। কিন্তু বর্ণনা যেকোনো পদ—এমনকি বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রেও দেওয়া যায়।
৪. বৈজ্ঞানিক মূল্য: যৌক্তিক সংজ্ঞার বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক মূল্য অত্যন্ত বেশি, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট পদের অর্থ সুস্পষ্ট করে। অন্যদিকে, বর্ণনার ব্যবহারিক গুরুত্ব থাকলেও বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলনামূলক কম।
পরিশেষে বলা যায়, রাবেয়ার বক্তব্যটি যথাযথ যৌক্তিক সংজ্ঞা এবং রোদেলার বক্তব্যটি একটি লৌকিক বর্ণনা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও