বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

চন্ডিগড় শহরের উপকণ্ঠে বাড়ি ভাড়া নেয় সুরেশ ও কল্যাণী ব্যানার্জী। তাদের এক সন্তান শান্ত। স্বামী-স্ত্রী চাকুরিজীবী হওয়ায় শান্তাকে দেখাশোনার জন্য গ্রাম থেকে আনা হয় আট বছর বয়সী দরিদ্র অনিতাকে। সারাদিনের খাটুনিতে অনিতার শ্রান্ত শরীরে ঘুম চলে আসে সন্ধ্যারাতে। কল্যাণীর ধারণাঅনিতার খাবারের পরিমাণ আরও কমালে ওর ঘুম আসবে না। তাই অনিতার খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেয় কল্যাণী। কম খেতে খেতে অনিতা শীর্ণকায় হয়ে পড়ে। শান্তর উচ্ছিষ্ট সে চুরি করে খায়। এটা জানতে পেরে কল্যাণী অনিতার উপর নির্যাতন চালায়, তওবা করায় এবং উপদেশ দেয় যে চুরি করে খাওয়া পাপ। ফ্রিজে ভর্তি করা খাবার, শান্ত খাওয়ার ভয়ে পালিয়ে বেড়ায় আর অনিতা শান্তর উচ্ছিষ্টের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

  1. ক)

    কাকে ইতঃপূর্বে যথোচিত পুরস্কার দেওয়া গিয়েছে বলে কমলাকান্ত মনে করল?

    (1)
  2. খ)

    সকল দুশ্চিন্তা পরিত্যাগ করিয়া ধর্মাচরণে মন দাও'- কে, কেন বলেছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের অনিতা 'বিড়াল' প্রবন্ধের কোন শ্রেণিকে স্মরণ করিয়ে দেয়- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ভাবার্থ 'বিড়াল' প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কমলাকান্তের মনে হয়েছিল যে, নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে (বা ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়নকে) ইতঃপূর্বে যথোচিত পুরস্কার দেওয়া গিয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি প্রসন্ন গোয়ালিনীকে উদ্দেশ্যে করে কমলাকান্ত নিজের কাল্পনিক ও দার্শনিক ভাবনায় বলেছিল।

    বিড়ালের যুক্তিতর্কে কমলাকান্ত যখন সমাজের ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও চুরির মূল কারণ অনুধাবন করে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল, তখন সে ক্ষণিক আত্মপক্ষ সমর্থনের উদ্দেশ্যে এবং বিড়ালের ক্ষতিকর সংস্কার দূর করার ভঙ্গিতে এমন সান্ত্বনা দেয়। মূলত ধনীদের কৃপণতা ও সামাজিক অসাম্য নিয়ে বিড়ালের দেওয়া অকাট্য যুক্তির মুখে কমলাকান্ত কোনো সদুত্তর না পেয়ে প্রচলিত ধর্মতত্ত্ব ও নিষ্ক্রিয় অধ্যাত্মবাদের আড়ালে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এ কথা বলেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের অনিতা 'বিড়াল' প্রবন্ধের সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, নিঃস্ব, ক্ষুধার্ত ও শোষিত শ্রমজীবী দরিদ্র শ্রেণিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    'বিড়াল' প্রবন্ধে বিড়াল চরিত্রটির মাধ্যমে লেখক মানবসমাজের সেইসব বঞ্চিত ও ক্ষুধার্ত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করিয়েছেন, যাদের পেটের ক্ষুধা মেটানোর ন্যূনতম অধিকার সমাজ স্বীকার করে না। প্রাচুর্যের ভিড়ে ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তারা গরিবকে একমুঠো অন্ন দেয় না, যার ফলে ক্ষুধার জ্বালায় দরিদ্রদের চুরি করতে বাধ্য হতে হয়। উদ্দীপকের অনিতাও ঠিক সেই দরিদ্র ও শোষিত শ্রেণির প্রতীক। সে অমানুষিক পরিশ্রম করা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত খাবার পায় না। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে যখন সে শান্তর ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করে, তখন তাকে উল্টো শাস্তি ও চুরির অপরাধের মুখোমুখি হতে হয়। সুতরাং অনিতা 'বিড়াল' প্রবন্ধের ক্ষুধার্ত সর্বহারা শ্রেণিরই এক বাস্তব রূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ভাবার্থ এবং 'বিড়াল' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় অভিন্ন—উভয় ক্ষেত্রেই সমাজের বিত্তবানদের নিষ্ঠুর শোষণ, বৈষম্য এবং বঞ্চিত শ্রেণির প্রতি মেকি নীতিবাগিশ মানসিকতার তীব্র সমালোচনা ফুটে উঠেছে।

    'বিড়াল' প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেখিয়েছেন যে, সমাজে ধনীদের ঘরে খাবারের কোনো অভাব নেই; এমনকি উদ্বৃত্ত খাবার নষ্ট হলেও তারা ক্ষুধার্ত দরিদ্রকে দিতে চায় না। কিন্তু ক্ষুধার তাড়নায় একজন নিঃস্ব মানুষ যখন কিছু খেয়ে ফেলে, তখন সমাজের ধনী ও ধার্মিক ব্যক্তিরা তাকে 'চোর' আখ্যা দিয়ে নির্মম শাস্তি দেয় এবং ধর্মের বুলি আওড়ায়। বিড়ালের জবানিতে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, সমাজে যদি অন্নের সুষম বণ্টন থাকত, তবে কেউ চোর হতে বাধ্য হতো না। অতএব চোরের অপরাধের চেয়ে ধনীদের কৃপণতা ও শোষণ অনেক বড় অপরাধ।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, কল্যাণীর ফ্রিজ খাবারে ঠাসা এবং তার নিজের সন্তান শান্ত না খেয়ে পালালেও গৃহকর্মে নিয়োজিত ক্ষুধার্ত আট বছরের অনিতাকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় না। অনিতা যখন উচ্ছিষ্ট চুরি করে খায়, তখন তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং চুরির বিরুদ্ধে ধর্মের উপদেশ দেওয়া হয়। এটি 'বিড়াল' প্রবন্ধে ব্যক্ত সুবিধাবাদী ধনী সমাজের ভণ্ডামি ও অমানবিক মানসিকতারই হুবহু প্রতিফলন।

    অতএব, উদ্দীপকের ভাবার্থ ধনী শ্রেণির নির্দয় রূপ ও বঞ্চিতের অবদমিত যন্ত্রণার দিক থেকে 'বিড়াল' প্রবন্ধের মূল চেতনার সার্থক মূল্যায়ন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন