যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পদযোগ্য শব্দ কী?
- খ)(2)
যুক্তিবাক্যের জন্য ‘সংযোজক' গুরুত্বপূর্ণ— বুঝিয়ে লেখ ।
- গ)(3)
ধারণা-৩ এ উল্লেখিত শব্দগুলো যুক্তিবাক্যে পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে কি? উত্তরের পক্ষে ব্যাখ্যা দাও ।
- ঘ)(4)
ধারণা-১ ও ধারণা-২ এ উল্লেখিত শব্দগুলো কোন কোন পদকে চিহ্নিত করে তা উল্লেখ কর এবং পদের পার্থক্য দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শব্দ অন্য কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়াই কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, সেগুলোকে পদযোগ্য শব্দ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবাক্যের মূল কাঠামো গঠিত হয় উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং সংযোজক নিয়ে। এর মধ্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি প্রকাশ করে ‘সংযোজক’।
সংযোজক মূলত ‘হয়’ বা ‘নয়’ রূপ বর্তমান কালের ‘হওয়া’ ক্রিয়াপদের রূপ হিসেবে কাজ করে। এটি উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদকে যুক্ত করে এবং বাক্যটি ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক তা নির্দেশ করে। সংযোজক ছাড়া দুটি বিচ্ছিন্ন পদের মধ্যে কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক বা অর্থপূর্ণ অবধারণ গঠিত হতে পারে না। তাই যুক্তিবাক্যের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে সংযোজক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, উদ্দীপকের ধারণা-৩ এ উল্লেখিত শব্দগুলো ('আহ্!', 'মরিমরি!') সরাসরি কোনো যুক্তিবাক্যে পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না।
যুক্তিবিদ্যায় শব্দকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে: পদযোগ্য শব্দ, সহ-পদযোগ্য শব্দ এবং পদ-অযোগ্য শব্দ। যেসব শব্দ কখনো নিজে নিজে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হতে পারে না এবং অন্য কোনো শব্দের সাথে যুক্ত হয়েও পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না, সেগুলোকে পদ-অযোগ্য শব্দ বলে।
উদ্দীপকের 'আহ্!', 'মরিমরি!' শব্দগুলো মূলত আবেগসূচক বা বিস্ময়সূচক অব্যয়। এ ধরনের শব্দ দ্বারা কেবল মানুষের তাৎক্ষণিক আবেগ, অনুভূতি বা ভাব প্রকাশ পায়, কিন্তু কোনো অর্থপূর্ণ ধারণা বা বক্তব্য প্রকাশ পায় না। যেহেতু এরা কোনো নির্দিষ্ট অর্থ নির্দেশ করতে পারে না এবং কোনো অবস্থাতেই যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হওয়ার ক্ষমতা রাখে না, তাই এরা পদ-অযোগ্য শব্দ এবং যুক্তিবাক্যে পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ধারণা-১ এ উল্লেখিত শব্দগুলো ('বই', 'চেয়ার', 'কলম') হলো 'নিরপেক্ষ পদ' (বা অনপেক্ষ পদ) এবং ধারণা-২ এ উল্লেখিত শব্দগুলো ('ছাত্র-শিক্ষক', 'রাজা-প্রজা') হলো 'সাপেক্ষ পদ'।
যে পদের অর্থ বোঝার জন্য অন্য কোনো পদের সাহায্য বা সম্পর্কের প্রয়োজন হয় না, তাকে নিরপেক্ষ বা অনপেক্ষ পদ বলে। যেমন— বই, চেয়ার, কলম ইত্যাদি পদগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে নিজেদের অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
অন্যদিকে, যে পদের অর্থ পুরোপুরি প্রকাশ করার জন্য বা বোঝার জন্য অনিবার্যভাবে অন্য কোনো পদের উপর নির্ভর করতে হয়, তাকে সাপেক্ষ পদ বলে। যেমন— 'শিক্ষক' পদটির অর্থ 'ছাত্র' ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং 'রাজা' পদটির অর্থ 'প্রজা' ছাড়া অর্থহীন।নিরপেক্ষ পদ ও সাপেক্ষ পদের মধ্যে পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. অর্থের স্বয়ংসম্পূর্ণতা: নিরপেক্ষ পদের অর্থ স্বয়ংসম্পূর্ণ, এটি বোঝার জন্য অন্য কোনো পদের দরকার পড়ে না। কিন্তু সাপেক্ষ পদ নিজ অর্থে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; এর অর্থ বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট অন্য পদের প্রয়োজন হয়।
২. পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: নিরপেক্ষ পদগুলো পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না (যেমন— বই ও চেয়ারের মধ্যে কোনো অনিবার্য নির্ভরশীলতা নেই)। পক্ষান্তরে, সাপেক্ষ পদগুলো যুগলভাবে বিদ্যমান থাকে এবং পরস্পরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল (যেমন— পিতা ছাড়া সন্তান হতে পারে না)।
৩. বাস্তব উপস্থিতি: নিরপেক্ষ পদগুলো এককভাবেই চিন্তা বা বাস্তব ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে নির্দেশিত হতে পারে। অন্যদিকে, সাপেক্ষ পদের একটির অস্তিত্বের ধারণা অন্যটির উপস্থিতিকে অপরিহার্য করে তোলে।সুতরাং, উদ্দীপকের ধারণা-১ নিরপেক্ষ পদ এবং ধারণা-২ সাপেক্ষ পদের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও