অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি দেশের সরকার নিজ দেশের জনগণ, ব্যাংক ব্যবস্থা, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। আবার বিদেশি ব্যক্তি, সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ গ্রহণ করতে পারে। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, ঘাটতি বাজেটে অর্থায়ন, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণ সর্বোচ্চকরণ ইত্যাদি লক্ষ্যে কোনো দেশ এ দুটি উৎস থেকে প্রায়শই ঋণ নিয়ে থাকে। তবে উভয় উৎস থেকে গৃহীত ঋণের সুবিধা যেমন রয়েছে তেমন অসুবিধাও রয়েছে।

  1. ক)

    আয়কর কী?

    (1)
  2. খ)

    সরকারি ঋণ কি ভারহীন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ঋণ গ্রহণের কোন দুটি উৎসের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঋণের উৎস দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিচারে কোনটি উত্তম? যুক্তিসহ মন্তব্য করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর সরকার কর্তৃক আরোপিত প্রত্যক্ষ করকে আয়কর বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সরকারি ঋণ সম্পূর্ণ ভারহীন নয়, কারণ ঋণ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে আসল ও সুদের অর্থ পরিশোধের জন্য সরকারকে জনগণের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করতে হয়। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর করের আর্থিক ভার বাড়ে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে সুদাসল পরিশোধের মাধ্যমে দেশ থেকে জাতীয় সম্পদ বিদেশে স্থানান্তরিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌম নীতিতে বিদেশি ঋণদাতার শর্তের প্রভাব পড়ে, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভার সৃষ্টি করে। তাই সরকারি ঋণ ভারহীন নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সরকারি অর্থায়নের দুটি প্রধান উৎসের কথা বলা হয়েছে:
    ১. অভ্যন্তরীণ ঋণ: দেশের অভ্যন্তরের নাগরিক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকার সিকিউরিটিজ, ট্রেজারি বিল ও সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে অভ্যন্তরীণ ঋণ বলে। উদ্দীপকে নিজ দেশের জনগণ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত ঋণের কথা উল্লেখ করে অভ্যন্তরীণ ঋণকে নির্দেশ করা হয়েছে।
    ২. বৈদেশিক ঋণ: বিদেশি সরকার, বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক কিংবা আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা (যেমন- বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি) থেকে সরকার যে ঋণ সংগ্রহ করে, তাকে বৈদেশিক ঋণ বলে। উদ্দীপকে বিদেশি ব্যক্তি, সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত ঋণের কথা উল্লেখ করে বৈদেশিক ঋণকে নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি ঋণের দুটি উৎস হলো অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বৈদেশিক ঋণ। এই দুটির তুলনামূলক বিচারে সার্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে 'অভ্যন্তরীণ ঋণ' অধিক উত্তম। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:

    ১. জাতীয় সম্পদ দেশে থাকা: অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের ক্ষেত্রে দেশের সম্পদ দেশের মধ্যেই থেকে যায়। এটি এক নাগরিকের হাত থেকে অন্য নাগরিকের হাতে হস্তান্তরিত হয় মাত্র। কিন্তু বৈদেশিক ঋণের সুদাসল পরিশোধ করতে গিয়ে দেশের জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে চলে যায়, যা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।

    ২. শর্তহীন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা: বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা দাতা দেশগুলো কঠোর ও অসম শর্ত চাপিয়ে দেয়, যা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে এমন কোনো বাহ্যিক রাজনৈতিক বা নীতিগত চাপের সুযোগ থাকে না।

    ৩. বিনিময় হারের ঝুঁকি না থাকা: অভ্যন্তরীণ ঋণ দেশীয় মুদ্রায় গ্রহণ ও পরিশোধ করা হয়, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কোনো ঝুঁকি থাকে না। বিপরীতে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সময় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটলে ঋণ পরিশোধের বোঝা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

    তবে এটি সত্য যে, বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ কখনো কখনো অপরিহার্য। তবুও ঝুঁকি, নির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের বিবেচনায় সামগ্রিকভাবে অভ্যন্তরীণ ঋণই বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অধিক নিরাপদ ও উত্তম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন