বাংলা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

10.

(ক) সারাংশ লেখ:বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়। তাই, বারবার সেদিকে তাকানো প্রয়োজন। মাটির রস টেনে নিয়ে নিজেকে মোটাসোটা করে তোলাতেই বৃক্ষের কাজের সমাপ্তি নয়। তাকে ফুল ফোটাতে হয়, ফল ধরাতে হয়। নইলে তার জীবন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই বৃক্ষকে সার্থকতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা, সজীবতা ও সার্থকতার এমন জীবন্ত দৃষ্টান্ত আর নেই।অথবা,(খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর:মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) সারাংশ:

বৃক্ষ শুধু নিজের বৃদ্ধির জন্য রস আহরণ করে না; বরং ফুল ফুটিয়ে ও ফল দিয়ে নিজের জীবনকে সার্থক করে তোলে। মানবজীবনের তাৎপর্যও কেবল আত্মকেন্দ্রিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। নিঃস্বার্থ পরোপকার ও সৃষ্টির কল্যাণে আত্মনিয়োগের মাধ্যমেই মানুষের সার্থকতা অর্জিত হয়। বৃক্ষ আমাদের সেই নিঃস্বার্থ পরার্থপরতার শিক্ষা দেয়।


অথবা,

(খ) ভাব-সম্প্রসারণ:

মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়।

মূলভাব: মানুষের পার্থিব জীবনের স্থায়িত্ব বা আয়ুষ্কাল নয়, বরং তার কল্যাণকর ও মহৎ কর্মই তাকে মানবসমাজে চিরস্মরণীয় করে রাখে।

সম্প্রসারিত ভাব: মানুষের জীবনকাল অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃতির নিয়মে একদিন সবাইকে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হয়। জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়কে সাধারণত বয়স দিয়ে পরিমাপ করা হয়। কিন্তু একজন মানুষ পৃথিবীতে কত বছর বেঁচে ছিল, তা দিয়ে তার জীবনের সার্থকতা বিচার করা যায় না। শতবর্ষ বেঁচে থেকেও একজন মানুষ যদি সমাজের, দেশের কিংবা মানবতার কোনো উপকারে না আসে, তবে তার সেই দীর্ঘ জীবন অর্থহীন ও নিষ্ফল। পক্ষান্তরে, অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও যদি কেউ মানবকল্যাণে আত্মোৎসর্গ করে মহৎ কোনো কীর্তি স্থাপন করে যান, তবে তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন।

জগতে মহামানবদের জীবন পর্যালোচন করলে দেখা যায়, তাঁরা অনেকেই স্বল্পায়ু ছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দ, সুকান্ত ভট্টাচার্য, জন কিটস প্রমুখ মনীষী স্বল্পকালীন জীবনেই নিজ নিজ কর্মের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন এবং অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁদের আয়ুষ্কাল হয়তো সংক্ষিপ্ত ছিল, কিন্তু তাঁদের কর্মের পরিধি ছিল সীমাহীন ও কালজয়ী। কর্মহীন দীর্ঘ জীবন মানুষকে পশুজীবনের চেয়ে উন্নত করতে পারে না। মহৎ কর্মের মাধ্যমেই মানুষের জীবনের প্রকৃত উৎকর্ষ ও সার্থকতা প্রকাশিত হয়।

মন্তব্য: পরিশেষে বলা যায়, নশ্বর পৃথিবীতে মানুষের স্থূল দেহ বিলীন হয়ে গেলেও তার সৎকর্ম অবিনশ্বর থাকে। সুতরাং বয়স নয়, বরং সৃষ্টিশীল ও কল্যাণকর কাজের মধ্য দিয়েই মানুষ যুগ-যুগান্তরে বেঁচে থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন