যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
মিতু রিতুকে বলল, গত বছর যেসব শিক্ষার্থী যুক্তিবিদ্যা বিষয় নিয়েছিল, তারা সবাই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেছে। রিতু বলল, তাহলে তো ভবিষ্যতে যারা যুক্তিবিদ্যা বিষয় নিবে তারা সবাই ভাল ফলাফল করবে।
- ক)(1)
আরোহ কী?
- খ)(2)
যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ প্রকৃত আরোহ নয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মিতু ও রিতুর বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়কে নির্দেশ করে তা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ পূর্বক মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কতিপয় বিশেষ বস্তু বা ঘটনার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে আরোহ অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিসাম্যমূলক আরোহে কোনো বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে যাওয়ার জন্য ‘আরোহমূলক লম্ফ’ (Inductive Leap) থাকে না, তাই এটি প্রকৃত আরোহ নয়।
যে অনুমানে আরোহের প্রধান লক্ষণ বা আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে। কিন্তু যুক্তিসাম্যমূলক আরোহে একটি বিশেষ যুক্তি যে নীতির ওপর ভিত্তি করে সত্য হয়, সমজাতীয় অন্যান্য যুক্তিও সেই একই কারণে সত্য বলে ধরে নিয়ে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে কোনো অজানা তথ্যে উত্তরণ বা পর্যবেক্ষণমূলক লম্ফ থাকে না, বরং এটি একটি নিগমনমূলক প্রক্রিয়া। এজন্য যুক্তিবিদ মিল যুক্তিসাম্যমূলক আরোহকে আরোহাভাস বা অপ্রকৃত আরোহ বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিতু ও রিতুর বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের 'আরোহ অনুমান' বিশেষ করে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য ‘আরোহমূলক লম্ফ’ (Inductive Leap) বা 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ'-কে নির্দেশ করে।
কয়েকটি বিশেষ ঘটনার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করাই হলো আরোহ। উদ্দীপকে মিতু অতীতে (গত বছর) যুক্তিবিদ্যা নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের বিশেষ দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে এবং তার ওপর ভিত্তি করে রিতু ভবিষ্যতে যুক্তিবিদ্যা নেওয়া সকল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। জানা থেকে অজানায় বা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে গমন করাই হলো আরোহমূলক লম্ফ।
উদাহরণস্বরূপ: ‘আমরা অতীতে যত বক দেখেছি সবই সাদা, অতএব সব বক হয় সাদা’—এখানে অতীত পর্যবেক্ষণ থেকে একটি সার্বিক নিয়ম বা সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। ঠিক একইভাবে উদ্দীপকে মিতু ও রিতু বিশেষ কিছু শিক্ষার্থীর ফলাফলের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যৎ সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা আরোহের প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো আরোহ অনুমান (বিশেষত অবৈজ্ঞানিক আরোহ ও আরোহমূলক লম্ফ)। নিম্নে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণপূর্বক মতামত তুলে ধরা হলো:
১. সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন: আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি সর্বদা একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য হয়। এটি শুধু উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে প্রকাশ করে না, বরং নতুন তথ্য প্রদান করে। উদ্দীপকেও 'ভবিষ্যতের সকল শিক্ষার্থী ভালো ফল করবে'—এমন একটি সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২. বিশেষ থেকে সার্বিকে গমন: এই অনুমানে জানা থেকে অজানা, প্রত্যক্ষ থেকে অপ্রত্যক্ষ কিংবা বিশেষ কিছু দৃষ্টান্ত থেকে একটি সার্বিক সত্যে পৌঁছানো হয়। উদ্দীপকে গত বছরের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল দেখে ভবিষ্যতে সবার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য বলে ধরা হয়েছে।
৩. আরোহমূলক লম্ফ: আরোহের মূল প্রাণ হলো আরোহমূলক লম্ফ বা জানা থেকে অজানায় উত্তরণ। উদ্দীপকে মিতুর দেওয়া অতীত তথ্যের ভিত্তিতে রিতু ভবিষ্যৎ বা অজানার দিকে উল্লম্ফন ঘটিয়েছে।
৪. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম: বৈজ্ঞানিক আরোহে কার্যকারণ সম্বন্ধ এবং প্রকৃতির একরূপতা নীতির ওপর নির্ভর করা হয়। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে কোনো সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়া সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে, যা অবৈজ্ঞানিক আরোহের লক্ষণ।
মতামত: উদ্দীপকে রিতুর গৃহীত সিদ্ধান্তটি আরোহের স্বভাবসুলভ লক্ষণে গঠিত হলেও কেবল এক বছরের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে 'সবাই' ভালো ফলাফল করবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া শতভাগ নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য। কারণ যুক্তিবিদ্যা পড়লেই ভালো ফল হবে—এদের মধ্যে কোনো প্রমাণিত কার্যকারণ নিয়ম আবিষ্কার করা হয়নি। সুতরাং, উদ্দীপকে প্রকাশিত বিষয়টি আরোহ অনুমানের বৈশিষ্ট্য বহন করলেও এর সিদ্ধান্তটি কেবল সম্ভাব্য সত্য হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও