অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. 'X' কোরবানির ঈদে ঢাকা থেকে তার দাদার বাড়িতে এসেছে। তার দাদা একটি বড় গরু কোরবানি দিল। ঈদের দিন তার আনন্দ ধরে না। সে দেখে এক জায়গায় অনেক গরু-ছাগল কোরবানি হলো। কোরবানির পর চামড়ার বিশাল মজুদ গড়ে উঠল। অথচ দেশে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের তেমন ব্যবস্থা নেই, দক্ষ শ্রমিক নেই, উপযুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য নেই, শিল্পপতি পর্যাপ্ত ঋণ পায় না। তাই চামড়া শিল্পের বিকাশ কম এবং স্বল্পমূল্যে চামড়াসমূহ বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য সরকার চামড়া শিল্পের বিকাশে প্রশিক্ষণ, বাজার সম্প্রসারণ, শিল্প নগরী স্থাপনসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ফলে আস্তে আস্তে চামড়া শিল্পের উন্নয়ন ঘটছে।

  1. ক)

    শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লিখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে চামড়া শিল্পের সমস্যাসমূহ আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের দ্রুত উন্নয়নে সরকারের আর কী কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কারখানাভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থায় কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্যকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অধিক উপযোগী চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করার অর্থনৈতিক কর্মপ্রক্রিয়াকে শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য হলো:
    ১. শ্রমিকের সংখ্যা ও ধরন: কুটির শিল্পে প্রধানত পরিবারের সদস্যদের শ্রম ব্যবহৃত হয় এবং নিয়োজিত জনবল সাধারণত ১৫ জনের কম থাকে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র শিল্পে পরিবারের বাইরে বেতনভুক্ত শ্রমিক নিয়োজিত থাকে এবং উৎপাদন খাতে শ্রমিকের সংখ্যা সাধারণত ৩১ থেকে ১২০ জন হয়ে থাকে।
    ২. মূলধনের পরিমাণ: কুটির শিল্পে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্যমান সাধারণত ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার নিচে থাকে। পক্ষান্তরে, ক্ষুদ্র শিল্পে মূলধনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি (উৎপাদনমুখী শিল্পে ৭৫ লাখ থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কোরবানির ঈদের পর বিপুল পরিমাণ চামড়া মজুদের প্রেক্ষাপটে চামড়া শিল্পের বিভিন্ন বাস্তব সংকট প্রতিফলিত হয়েছে।

    উদ্দীপকের আলোকে চামড়া শিল্পের প্রধান সমস্যাসমূহ হলো:
    ১. প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাব: দেশে আধুনিক ট্যানারি ও চামড়া যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো বা প্রযুক্তির ব্যাপক সংকট রয়েছে।
    ২. দক্ষ শ্রমিকের অভাব: চামড়া ছাড়ানো, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে, ফলে অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।
    ৩. উপযুক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের সংকট: প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক কেমিক্যাল স্থানীয়ভাবে অপ্রতুল এবং আমদানিনির্ভর।
    ৪. পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব: শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সময়মতো পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অভাব থাকায় তারা চামড়া ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণে সংকটে পড়েন।
    এসবের ফলে চামড়া শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পণ্যের ন্যায্যমূল্য মিলছে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চামড়া শিল্পের বিকাশে সরকারের প্রশিক্ষণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং শিল্প নগরী স্থাপনের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে এ শিল্পের দ্রুত ও টেকসই উন্নয়নে সরকারের আরও কিছু সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    সরকারের করণীয় পদক্ষেপসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. পরিবেশবান্ধব ট্যানারি ও সিইটিপি স্থাপন: সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (CETP) পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এলডব্লিউজি (LWG) সনদ অর্জনে সহায়তা দেওয়া।
    ২. সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান: কোরবানির সময় ট্যানারি মালিক ও পাইকারদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ও জামানতবিহীন স্বল্পসুদে ঋণ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
    ৩. চামড়া সংরক্ষণে লবণ ও কেমিক্যালের সরবরাহ: কাঁচা চামড়া নষ্ট হওয়া রোধে সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত লবণ ও রাসায়নিকের ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ ও মনিটরিং করা।
    ৪. বিকল্প রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান: আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি এবং শুল্ক সুবিধা আদায়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।
    ৫. আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ: চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে ফিনিশড চামড়া ও পণ্য প্রস্তুত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ দেওয়া।

    পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত পদক্ষেপসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে চামড়া শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাতে পরিণত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন