ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

দেশটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনে নিপতিত হয়। উক্ত শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু আন্দোলন সংঘটিত হয়। এক পর্যায়ে একই সময়ে সারাদেশব্যাপী ব্যাপক গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিচক্ষণতার অভাবে ও ঔপনিবেশিক শক্তির উন্নত অস্ত্র বলে এ আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করা হয়। উত্ত গণ-অসন্তোষ ব্যর্থ হলেও ঔপনিবেশিক শক্তির ক্ষমতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। দেশের মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে ওঠে। নতুন রাজনৈতিক শক্তির উন্মেষ ঘটে, যা ঔপনিবেশিক শাসন থেকে জনগণের মুক্তির পথ প্রশস্ত করে।

  1. ক)

    ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কোথায় অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    নবাব আবদুল লতিফের সংস্কারের মূল লক্ষ্য কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে উনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে ভারতবর্ষের কোন ঘটনার সামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ভারতের কলকাতায় (হুগলি নদীর তীরে) অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব আবদুল লতিফের সংস্কারের মূল লক্ষ্য ছিল পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়কে আধুনিক ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা এবং তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার পুনরুদ্ধার করা। এর মাধ্যমে তিনি মুসলিম সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত ও আধুনিক যুগের উপযোগী করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে উনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে ভারতবর্ষে সংঘটিত ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের (বা মহাবিদ্রোহের) সামঞ্জস্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের জন্য সারাদেশে একযোগে ব্যাপক গণ-অসন্তোষ তৈরি হয়। তবে যোগ্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব ও ব্রিটিশদের উন্নত অস্ত্রবলের কাছে তা কঠোরভাবে দমিত ও ব্যর্থ হয়।

    ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় শোষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় সিপাহি ও সাধারণ জনগণ একতাবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশবিরোধী মহাবিদ্রোহে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের অভাব এবং ইংরেজদের আধুনিক সামরিক শক্তির কারণে এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। উদ্দীপকের এই চিত্রটি হুবহু ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ভারতবর্ষের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায়।

    উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, গণ-অসন্তোষটি ব্যর্থ হলেও তা ঔপনিবেশিক শক্তির ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দেয় এবং জনগণের রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি করে মুক্তির পথ সুগম করে। একইভাবে, ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম:

    ১. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান: এই বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাসের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের (রানি ভিক্টোরিয়া) অধীনে চলে যায়।
    ২. জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও রাজনৈতিক সচেতনতা: সিপাহি বিদ্রোহই প্রথম ভারতীয়দের মনে পরাধীনতার গ্লানি ও মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে। এটি পরবর্তীতে আধুনিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথ তৈরি করে।
    ৩. নতুন রাজনৈতিক শক্তির উন্মেষ: বিদ্রোহ-পরবর্তী সময়ে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান ঘটে এবং নিখিল ভারত জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মতো রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়।

    সুতরাং, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয়দের স্বাধীনতা অর্জনের পথপ্রদর্শক হিসেবে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন