জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মেন্ডেলের সূত্রগুলোর দু'টি ব্যতিক্রম এর অনুপাত দেয়া আছে। যার প্রথম অনুপাত ২:১২ : ১ এবং দ্বিতীয় অনুপাত ১৩:৩১৩ : ৩।
- ক)(1)
ব্যাক ক্রস কী?
- খ)(2)
মেন্ডেলের কৃতকার্য হওয়ার কারণগুলো লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অনুপাতটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় অনুপাতটি হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেকোনো সংকর বা F₁ জনুর জীবের সাথে তার পিতৃ-মাতৃ বংশীয় (P₁) যেকোনো একটি বিশুদ্ধ জনকের সংকরায়নকে ব্যাক ক্রস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেন্ডেলের জিনতত্ত্ব গবেষণায় সফল বা কৃতকার্য হওয়ার কারণসমূহ:
১. উপযুক্ত উদ্ভিদ নির্বাচন: মেন্ডেল মটরশুঁটি (Pisum sativum) নির্বাচন করেছিলেন, যা একবর্ষজীবী, দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম এবং সহজে কৃত্রিম পরাগায়ন ঘটানো যায়।
২. বিশুদ্ধ লক্ষণ ও হিসাবরক্ষণ: তিনি প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশুদ্ধ লক্ষণযুক্ত উদ্ভিদ নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং সংকরায়নের প্রতিটি ধাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ গাণিতিক ও পরিসংখ্যানিক হিসাব সংরক্ষণ করেছিলেন। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অনুপাতটি হলো ২:১ (মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ৩:১ অনুপাতের ব্যতিক্রম)। এটি লিথাল জিন (Lethal gene) বা মরণ জিনের কারণে ঘটে থাকে।
ব্যাখ্যা:
যেসব জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট ভ্রূণ বা জীবের মৃত্যু ঘটে, সেগুলোকে লিথাল জিন বলে। উদাহরণস্বরূপ, ইঁদুরের গায়ের হলুদ বর্ণের ক্ষেত্রে লিথাল জিনের প্রভাব দেখা যায়। ফরাসি জিনতত্ত্ববিদ লুসিয়েন কুয়েনো (Lucien Cuénot) এটি আবিষ্কার করেন।
ইঁদুরের হলুদ রঙের জন্য দায়ী প্রকট জিন 'Y' এবং অ্যাগউটি বা বাদামি রঙের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন 'y'। যখন দুটি সংকর হলুদ বর্ণের ইঁদুরের (Yy × Yy) মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানো হয়, তখন F₁ জনুতে জেনোটাইপ পাওয়া যায়:- ১টি YY (হোমোজাইগাস হলুদ)
- ২টি Yy (হেটারোজাইগাস হলুদ)
- ১টি yy (বিশুদ্ধ অ্যাগউটি বা বাদামি)
এখানে প্রকট লিথাল জিন 'Y' হোমোজাইগাস অবস্থায় (YY) ভ্রূণাবস্থায় ইঁদুরটির মৃত্যু ঘটায়। ফলে জীবিত ইঁদুরের মধ্যে কেবল ২ ভাগ হেটারোজাইগাস হলুদ (Yy) এবং ১ ভাগ অ্যাগউটি (yy) বেঁচে থাকে। এর ফলে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১ এর পরিবর্তে ২:১ হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় অনুপাতটি হলো ১৩:৩, যা মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের (৯:৩:৩:১) একটি ব্যতিক্রম। এটি 'প্রকট এপিস্ট্যাসিস' (Dominant Epistasis) বা 'প্রকট-প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস' (Inhibitory gene action)-এর ফলস্বরূপ ঘটে।
কারণ বিশ্লেষণ:
একটি প্রকট জিন যখন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক প্রকট জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়, তখন তাকে ইনহিবিটরি জিন বা দমনকারী জিন বলে। মুরগির পালকের রঙের ক্ষেত্রে এটি পরিলক্ষিত হয়।ধরা যাক,
- পালক রঙিন করার জন্য দায়ী প্রকট জিন = C
- সাদা পালকের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = c
- রঙ প্রকাশে বাধা প্রদানকারী ইনহিবিটরি জিন = I
- কোনো বাধা না দেওয়া প্রচ্ছন্ন অ্যালিল = i
এখানে 'I' জিন উপস্থিত থাকলে তা 'C' জিনের প্রকাশকে সম্পূর্ণ বাধা দেয়, ফলে মুরগির পালক সাদা হয়। কেবল জিনোটাইপে 'C' উপস্থিত এবং 'I' অনুপস্থিত (যেমন: C_ii) থাকলে পালক রঙিন হবে।
দুটি হেটারোজাইগাস সাদা মোরগ-মুরগির (CcIi × CcIi) মধ্যে ক্রস ঘটালে F₂ জনুতে নিম্নরূপ ১৬টি কম্বিনেশন সৃষ্টি হয়:
১. C_I_ (৯টি) : এখানে C জিন থাকলেও I জিনের উপস্থিতির কারণে পালক সাদা হয়।
২. ccI_ (৩টি) : এখানে রঙিন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় C জিন নেই, ফলে পালক সাদা হয়।
৩. ccii (১টি) : এখানেও C জিন নেই, তাই পালক সাদা হয়।
৪. C_ii (৩টি) : এখানে C জিন উপস্থিত এবং বাধা প্রদানকারী I জিন অনুপস্থিত, ফলে এই ৩টি মুরগির পালক রঙিন হয়।সুতরাং, সাদা পালকযুক্ত মুরগি হয় (৯ + ৩ + ১) = ১৩টি এবং রঙিন পালকযুক্ত মুরগি হয় ৩টি। অতএব, ইনহিবিটরি জিনের উপস্থিতির কারণেই F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত ১৩:৩ হয়ে থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও