সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নারী নেত্রীদিপা এক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, আমাদের দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সামাজিক উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি এমন একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করেন, যাদের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক এবং মাতৃসূত্রীয় পরিবার। তাদের গোত্রগুলো ক্ষুদ্র হয় বলে সদস্যদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক নির্ণয় করা সহজ। এদের বিশ্বাস মৃত্যুর পর তাদের আত্মা 'চিকমাং'নামক স্থানে চলে যায়।
- ক)(1)
হেডম্যান কোন নৃগোষ্ঠীর মৌজা প্রধান?
- খ)(2)
জুম চাষ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের দিপা কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুন্ত? ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পারিবারিক ও অর্থনৈতিক জীবনধারা মূল্যায়ন করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হেডম্যান চাকমা নৃগোষ্ঠীর মৌজা প্রধান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জুম চাষ হলো পাহাড়ি অঞ্চলের বিশেষ এক ধরনের সনাতন ও স্থানান্তরিত চাষাবাদ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে পাহাড়ের ঢালের বন-জঙ্গল ও গাছপালা কেটে শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এরপর পোড়া ছাই মাটির সাথে মিশিয়ে বর্ষার শুরুতে দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসাথে ধান, তুলা, তিল, ভুট্টা ইত্যাদির বীজ বপন করা হয়। সাধারণত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি নৃগোষ্ঠী এ পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দিপার উল্লেখিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীটি হলো 'গারো' নৃগোষ্ঠী।
গারোদের সমাজ মূলত মাতৃসূত্রীয়। গারো সমাজে মা হলেন পরিবারের প্রধান এবং পরিবারের যাবতীয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন কনিষ্ঠ কন্যা বা 'নকনা'। গারো সমাজে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট গোত্র বা 'চাট্টি' ও উপগোত্র বা 'মাহারি' রয়েছে, যার ফলে সদস্যদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক নির্ণয় করা সহজ হয়। এছাড়া গারোদের ঐতিহ্যবাহী লোকবিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা শান্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে 'চিকমাং' নামক এক পবিত্র পাহাড়ে বা স্থানে গমন করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, মাতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা, রক্তসম্পর্ক নির্ণয়যোগ্য ক্ষুদ্র গোত্র এবং মৃত্যুর পর আত্মা 'চিকমাং'-এ চলে যাওয়ার বিশ্বাস—এসব বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্টভাবে গারো নৃগোষ্ঠীর সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির সাথে মিলে যায়। সুতরাং, উদ্দীপকে দিপা গারো নৃগোষ্ঠীর কথাই তুলে ধরেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পারিবারিক ও অর্থনৈতিক জীবনধারা অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
পারিবারিক জীবনধারা:
১. মাতৃপ্রধান পরিবার: গারোদের পরিবার ব্যবস্থা মাতৃসূত্রীয় ও মাতৃপ্রধান। পরিবারের যাবতীয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় মা থেকে কন্যা। সাধারণত পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে (নকনা) মূল সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী হয়।
২. বিবাহের রীতি ও বাসস্থান: বিয়ের পর বর কনের বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে, যাকে মাতৃবাস বা ঘরজামাই প্রথা বলা হয়। তবে আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে বর্তমানে কিছু পরিবারে পিতৃতান্ত্রিক বা নয়াবাস প্রথার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
৩. গোত্র ও আত্মীয়তা: গারোদের কয়েকটি প্রধান মাতৃগোত্র রয়েছে, যেমন—সাংমা, মারাক, মোমিন, শিরা ইত্যাদি। একই গোত্রের মধ্যে বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (বহির্বিবাহ ভিত্তিক সমাজ)।অর্থনৈতিক জীবনধারা:
১. কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি: গারোদের অর্থনৈতিক জীবনের মূল ভিত্তি হলো কৃষিকাজ। সমতলের গারোরা সাধারণ কৃষিকাজ এবং পাহাড়ের গারোরা ঐতিহ্যবাহী জুম চাষ করে থাকে।
২. প্রধান ফসল: তাদের প্রধান কৃষিজ ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, আদা, হলুদ, আনারস, কলা, মরিচ ইত্যাদি। বিশেষ করে মধুপুর ও পাহাড়ি অঞ্চলের গারোরা আনারস ও কলার বাণিজ্যিক চাষ করে প্রচুর অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে।
৩. কুটির শিল্প ও পেশা পরিবর্তন: গারো নারীরা পরিবারের কৃষি কাজের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পোশাক (দকবান্দা, দকসারি ইত্যাদি) বয়নে দক্ষ। বর্তমানকালে শিক্ষার প্রসারের ফলে গারো তরুণ-তরুণীরা আধুনিক চাকরি, নার্সিং, শিক্ষকতা এবং বিভিন্ন এনজিও বা সরকারি-বেসরকারি পেশায় যুক্ত হয়ে তাদের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করছে।পরিশেষে বলা যায়, গারোদের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক বন্ধন এবং কৃষিনির্ভর জীবিকা আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিবর্তিত হলেও তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্য আজও বজায় রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও