গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ্য করো:
A: মসলিনের উত্তরসূরী
B: তন্তুর রাণী। কোকুন পোকা থেকে তৈরি
C: স্বদেশী আন্দোলনের সাথে জড়িত
- ক)(1)
খাসিয়া মেয়েদের ব্যবহৃত পোশাকের নাম লেখো।
- খ)(2)
মনিপুরি মেয়েদের পোশাকের দুটি অংশ থাকে—বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে A চিহ্নিত বস্ত্রটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঐতিহাসিক পটভূমির দিক থেকে B ও C চিহ্নিত বস্ত্রের ভিন্নতা রয়েছে—উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাসিয়া মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম 'কাজিম পিন' (বা জিমপিন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনিপুরি মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত—শরীরের নিম্নাংশের জন্য 'ইনাফি' বা বিশেষ ধরণের বোনা স্কার্ট বা ঘাগড়াসদৃশ 'লাহিং'/'ফানেক' এবং শরীরের ঊর্ধ্বাংশের জন্য চাদরসদৃশ পাতলা বস্ত্র বা ওড়না যা 'ইনাফি' নামে পরিচিত। এই দুটি অংশের সমন্বয়ে মণিপুরি নারীদের পোশাক সম্পূর্ণ হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে A চিহ্নিত বস্ত্রটি হলো জামদানি, যা ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত মসলিনের উত্তরসূরী হিসেবে পরিচিত। জামদানি বস্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. জামদানি সম্পূর্ণ কটন বা সুতি সুতা দিয়ে হাতে তৈরি (হস্তচালিত তাঁতে বোনা) ঐতিহ্যবাহী মিহি বস্ত্র।
২. এর জমিন পাতলা, স্বচ্ছ এবং এতে সরাসরি তাঁতে বোনার সময়ই অতিরিক্ত নকশার সুতা (সুতি, রেশম বা জরি) দিয়ে জ্যামিতিক নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।
৩. এতে কোনো কৃত্রিম প্রিন্ট ব্যবহার করা হয় না; নকশাগুলো বস্ত্রের বুননের ভেতর সুনিপুণভাবে প্রোথিত থাকে।
৪. জামদানির নকশায় সাধারণত বুটিদার, তেরছা, জলছাপ, করাত বা পান্না হাজার প্রভৃতি বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যবাহী মোটিফ দেখা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে B চিহ্নিত বস্ত্রটি হলো রেশম বা সিল্ক (কোকুন পোকা থেকে তৈরি) এবং C চিহ্নিত বস্ত্রটি হলো খদ্দর বা খাদি (স্বদেশী আন্দোলনের সাথে জড়িত)। ঐতিহাসিক পটভূমির দিক থেকে এই দুটি বস্ত্রের মধ্যে সুস্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে।
প্রথমত, রেশম বা সিল্কের ইতিহাস প্রাচীনকাল থেকে বিলাসিতা, রাজকীয় আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রাচীন চীনে রেশম চাষের সূচনা হলেও কালক্রমে বাংলার রাজশাহী অঞ্চলে উন্নতমানের রেশম চাষ ও রেশমি বস্ত্র তৈরি শুরু হয়, যা অত্যন্ত মসৃণ, চকচকে ও বিলাসবহুল বস্ত্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এর বিকাশ ঘটেছে প্রধানত রাজকীয় পোশাক ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে।
দ্বিতীয়ত, খদ্দর বা খাদির ঐতিহাসিক পটভূমি রাজনৈতিক সচেতনতা, আত্মনির্ভরশীলতা ও সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত। ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধী বিদেশি বস্ত্র বর্জন করে দেশীয় চরকায় কাটা সুতা দিয়ে তৈরি মোটা সুতি খাদি বস্ত্র ব্যবহারের ডাক দেন। এটি ছিল অর্থনৈতিক আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
সুতরাং, রেশম যেখানে রাজকীয় প্রাচুর্য ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিকশিত হয়েছিল, সেখানে খাদি গড়ে উঠেছিল স্বাধীনতা সংগ্রাম, রাজনৈতিক আন্দোলন ও আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক হিসেবে। অতএব, ঐতিহাসিক পটভূমির দিক থেকে B ও C চিহ্নিত বস্ত্রের মধ্যে সুস্পষ্ট ভিন্নতা বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও