‍ইতিহাস ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

বিংশ শতাব্দীতে একজন ইউরোপীয় নেতা বৈষম্যহীন। সমাজব্যবস্থায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। তিনি বিপ্লবের মাধ্যমে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বিভিন্ন সংস্কার সাধন করেন। তাঁর গৃহীত কর্মকাণ্ডের কারণে পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

  1. ক)

    মুসোলিনী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    কোন গ্রন্থকে নাৎসি বাইবেল বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে তোমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত নেতার কর্মকাণ্ড বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নেতাকে বিংশ শতাব্দীর মহাপুরুষ বলা হয় কেন? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বেনিতো মুসোলিনী ছিলেন ইতালির চরম জাতীয়তাবাদী নেতা এবং আধুনিক ফ্যাসিবাদের প্রবক্তা ও একনায়ক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অ্যাডলফ হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'মাইন কাম্ফ' (Mein Kampf বা 'আমার সংগ্রাম')-কে নাৎসি বাইবেল বলা হয়। এই গ্রন্থে নাৎসিবাদের মূল দর্শন, উগ্র জাতিবিদ্বেষ এবং হিটলারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ইউরোপীয় নেতা হলেন রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের রূপকার 'ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন'। ১৯১৭ সালে তাঁর নেতৃত্বে রাশিয়ায় অক্টোবর বিপ্লব সম্পন্ন হয় এবং তিনি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।

    লেনিনের গৃহীত প্রধান কর্মকাণ্ডসমূহ:
    ১. বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার: ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি তৎক্ষণাৎ ভূমি ডিক্রি জারি করে জমিদারদের জমি কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেন এবং ব্যাংক ও বড় বড় কলকারখানা জাতীয়করণ করেন।
    ২. যুদ্ধবিরতি চুক্তি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে রাশিয়াকে প্রত্যাহার করে ১৯১৮ সালে জার্মানির সাথে 'ব্রেস্ট-লিতোভস্কের সন্ধি' স্বাক্ষর করেন।
    ৩. যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ ও নতুন অর্থনৈতিক নীতি (NEP): গৃহযুদ্ধকালীন চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার জন্য লেনিন ১৯২১ সালে বাস্তবসম্মত 'নিউ ইকোনমিক পলিসি' (NEP) চালু করেন, যার ফলে অর্থনীতিতে দ্রুত প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
    ৪. সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা: ১৯২২ সালে তিনি বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক পরাশক্তি 'ইউএসএসআর' (সোভিয়েত ইউনিয়ন) গঠন করেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভ্লাদিমির লেনিনকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মহাপুরুষ বলা হয়, কারণ তিনি নিছক একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, বরং তিনি মানব ইতিহাসের গতিপথ সমাজতন্ত্রের আদর্শে সম্পূর্ণ নতুন দিকে পরিচালিত করেছিলেন।

    বিশ্লেষণ:
    ১. কার্ল মার্কসের তত্ত্বের বাস্তব রূপায়ণ: কার্ল মার্কস ও এঙ্গেলসের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের তাত্ত্বিক ধারণাকে তিনিই প্রথম সফল বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তবে রূপদান করেন এবং বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলেন।
    ২. শোষিত শ্রেণির মুক্তি: দীর্ঘদিনের জার আমলের স্বৈরতান্ত্রিক, সামন্তবাদী ও পুঁজিবাদী শোষণ থেকে কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণিকে মুক্ত করে সর্বহারাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন।
    ৩. সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা: লেনিনের সাম্রাজ্যবাদ সংক্রান্ত তত্ত্ব ও সোভিয়েত রাশিয়ার উত্থান এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ঔপনিবেশিক ও পরাধীন দেশগুলোর মুক্তি আন্দোলনকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
    ৪. দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি: তাঁর নেতৃত্বেই যুদ্ধবিধ্বস্ত রাশিয়া আধুনিক ও পরাশক্তি হওয়ার শক্ত ভিত্তি পায়, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

    সুতরাং, শোষিত মানুষের পক্ষে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অসামান্য অবদান এবং বিশ্বরাজনীতিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলার কারণে লেনিনকে বিংশ শতাব্দীর মহাপুরুষ গণ্য করা যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন