পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রশাসনিক সুবিধার্থে ‘ক’ অঞ্চলটি দুই ভাগে ভাগ করা হয়। অবশ্য এর পিছনে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণও বিদ্যমান ছিল ।
- ক)(1)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে গঠিত হয়?
- খ)(2)
বেঙ্গল প্যাক্ট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের কোন ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনাটি ভারতবর্ষের রাজনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করে? আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং তৎকালীন মুসলিম নেতৃবৃন্দের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাকে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' (বা বঙ্গীয় চুক্তি) বলা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল স্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যে আইনসভা ও স্থানীয় সংস্থাসমূহে জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যার বাংলা প্রেসিডেন্সিকে প্রশাসনিক সুবিধার কারণ দেখিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। তবে এই বিভাজনের পেছনে ব্রিটিশদের প্রশাসনিক সুবিধার পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল, যা ছিল 'ভাগ কর এবং শাসন কর' (Divide and Rule) নীতির বাস্তবায়ন। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' অঞ্চলের প্রশাসনিক কারণে দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং এর পেছনে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ থাকার বিবরণটি হুবহু ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গভঙ্গ ভারতবর্ষের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী এবং যুগান্তকারী প্রভাব ফেলেছিল। নিচে তা আলোচনা করা হলো:
১. মুসলিম জাগরণ ও মুসলিম লীগের জন্ম: বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায় শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রশাসনে নতুন সুযোগ লাভ করে। নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালে গঠিত হয় 'সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ', যা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন ধারার সৃষ্টি করে।
২. হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও স্বদেশী আন্দোলন: কংগ্রেস ও হিন্দু নেতৃবৃন্দ একে ভারতের অখণ্ডতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখে এর তীব্র বিরোধিতা করে। ফলে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন ও স্বদেশী আন্দোলনের সূচনা ঘটে, যা পরবর্তীতে চরমপন্থী রাজনীতির জন্ম দেয়।
৩. সাম্প্রদায়িক বিভাজন: এই ঘটনার ফলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্রিটিশদের কূটকৌশল কার্যকর হয় এবং ভারতীয় রাজনীতিতে দ্বিজাতিতত্ত্বের পটভূমি তৈরি হয়।
পরিশেষে, বঙ্গভঙ্গ কেবল একটি প্রশাসনিক সংস্কার ছিল না, বরং এটি ভারতীয় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক চেতনা ও পৃথক রাজনৈতিক ধারার উন্মেষ ঘটিয়ে উপমহাদেশের ভবিষ্যৎ মানচিত্র নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও