গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মরড্যান্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    বস্ত্রের মাঝে নতুনত্ব আনয়নে রং ও ছাপার প্রয়োজনীয়তা লেখো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্রে ? চিহ্নিত স্থানটি বস্ত্রে নতুনত্ব আনয়নে কোন প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বস্ত্রের বাহ্যিক সৌন্দর্য বর্ধনে চিত্রে উপস্থাপিত বিষয়গুলোই কি যথেষ্ট? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে রাসায়নিক পদার্থ তন্তুর সাথে রঙের সংযোগ ঘটিয়ে রংকে স্থায়ী ও পাকা করতে সাহায্য করে, তাকে মরড্যান্ট (Mordant) বা বর্ণবন্ধক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বস্ত্রের স্বাভাবিক বর্ণহীনতা ও একঘেয়েমি দূর করে তা আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলার জন্য রং ও ছাপার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। রং বস্ত্রের বুননে একক বা মিশ্র রঙের আভা এনে এর দৃশ্যমান রূপ উন্নত করে। অন্যদিকে ছাপার মাধ্যমে বিভিন্ন নকশা ও মোটিফ ফুটিয়ে তুলে পোশাকে বৈচিত্র্য ও আভিজাত্য সৃষ্টি করা যায়। ফলে ব্যবহারকারীর রুচি ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী আধুনিক পোশাক তৈরি সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্রে '?' চিহ্নিত স্থানটি বস্ত্রে নতুনত্ব আনয়নে 'রঞ্জন' বা 'ডাইং' (Dyeing) প্রক্রিয়া ও রঙের প্রকারভেদকে নির্দেশ করে।

    উদ্দীপকের চিত্রে এসিড ডাই, বেসিক ডাই এবং ভেজিটেবল ডাই—এই তিনটি রঞ্জক বা রঙের প্রকার দেখানো হয়েছে। এই সবকটি উপাদানই বিভিন্ন প্রকার তন্তু ও বস্ত্রে রং প্রয়োগ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

    বস্ত্র রঞ্জন বা ডাইং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সুতা বা কাপড়ের মধ্যে স্থায়ীভাবে রং প্রবেশ করানো হয়। বিভিন্ন উৎসের তন্তুর (যেমন: প্রোটিন তন্তু, সেলুলোজ তন্তু ইত্যাদি) রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কারণে আলাদা আলাদা ডাই বা রঞ্জক ব্যবহার করা হয়। চিত্রে উল্লেখিত এসিড ডাই মূলত পশম ও রেশম তন্তুর জন্য, বেসিক ডাই উজ্জ্বল রঙের জন্য এবং ভেজিটেবল ডাই উদ্ভিদজাত তন্তুর ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, '?' চিহ্নিত স্থানটিতে মূলত রঙের শ্রেণিবিভাগ বা রঞ্জন উপাদানসমূহকে নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বস্ত্রের বাহ্যিক সৌন্দর্য বর্ধনে চিত্রে উপস্থাপিত বিষয়গুলো (রং বা ডাই) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়।

    চিত্রে ডাইং বা রঞ্জনের বিভিন্ন প্রকার (এসিড ডাই, বেসিক ডাই, ভেজিটেবল ডাই) দেখানো হয়েছে। পোশাকের বাহ্যিক সৌন্দর্য সৃষ্টিতে রঙের গুরুত্ব অনস্বীকার্য, কারণ এটি কাপড়ে উজ্জ্বলতা ও আকর্ষণ তৈরি করে। তবে একটি বস্ত্রের সামগ্রিক বাহ্যিক সৌন্দর্য কেবল রঙের ওপর নির্ভর করে না; বরং আরও বেশ কিছু প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে তা পূর্ণতা পায়।

    প্রথমত, বস্ত্রের মুদ্রণ বা ছাপা (Printing) কাপড়ে বিভিন্ন ধরনের নান্দনিক নকশা, ব্লক, বাটিক বা টাই-ডাই সৃষ্টি করে বৈচিত্র্য আনে। দ্বিতীয়ত, বয়নশৈলী বা টেক্সচার বস্ত্রের পৃষ্ঠের অনুভূতি ও ভিজ্যুয়াল সৌন্দর্য বাড়ায়। তৃতীয়ত, ফিনিশিং বা পরিসজ্জা প্রক্রিয়া (যেমন- ক্যালেন্ডারিং, মার্সারাইজেশন, সিল্কি ফিনিশ ইত্যাদি) কাপড়ের মসৃণতা ও ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে। চতুর্থত, সূচিশিল্প বা এমব্রয়ডারি, লেস, পাইপিং ইত্যাদির মতো পৃষ্ঠসজ্জাও বস্ত্রের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    অতএব, কেবল ডাই বা রঞ্জন প্রক্রিয়াই নয়, বরং ছাপা, উপযুক্ত পরিসজ্জা, বয়ন কৌশল ও অন্যান্য অলংকরণের সমন্বিত প্রয়োগেই বস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ বাহ্যিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তাই বলা যায়, চিত্রে উপস্থাপিত বিষয়গুলোই সৌন্দর্য বর্ধনে যথেষ্ট নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন