সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

শফিক গত ঈদের ছুটিতে নরসিংদীতে বেড়াতে গিয়ে বেলাব থানা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শন করেছে।

  1. ক)

    মহাস্থানগড় কোন জেলায় অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    লৌহকে কেন আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয়? বুঝিয়ে দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শফিকের পরিদর্শনকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কোনটি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস রচনায় উক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহাস্থানগড় বগুড়া জেলায় অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লৌহের আবিষ্কার মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছে। লৌহ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতি, কলকারখানা, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক অবকাঠামো তৈরি সম্ভব হয়েছে। বর্তমান শিল্প ও যান্ত্রিক সভ্যতার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লৌহ ও ইস্পাতের ব্যবহার অপরিহার্য হওয়ায় লৌহকে আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শফিকের পরিদর্শনকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি হলো 'উয়ারী-বটেশ্বর'।

    নরসিংদী জেলার বেলাব থানা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী ও বটেশ্বর নামের দুটি গ্রামজুড়ে প্রাচীন এ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটির অবস্থান। এটি প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দ) একটি দুর্গ-নগর বা নগর সভ্যতার নিদর্শন।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ভৌগোলিক অবস্থান (নরসিংদীর বেলাব থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে) এবং প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শনের বিবরণ সরাসরি উয়ারী-বটেশ্বরকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস রচনায় উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রাচীন নগরায়ণ ও সমাজকাঠামো: উয়ারী-বটেশ্বর আবিষ্কারের ফলে প্রমাণ হয়েছে যে খ্রিষ্টপূর্ব যুগেও বাংলাদেশে উন্নত নগর সভ্যতা ও সুসংগঠিত সমাজব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল।
    ২. বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ইতিহাস: এখান থেকে প্রাপ্ত ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা, বাটখারা, স্বল্পমূল্যবান পাথরের পুঁতি ইত্যাদি প্রমাণ করে যে তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
    ৩. প্রযুক্তি ও শিল্পকলা: লোহা গলানোর প্রযুক্তি, মৃৎপাত্র এবং কাচের পুঁতি তৈরির কারখানা থেকে প্রাচীন বাংলার প্রযুক্তিগত ও সামাজিক দক্ষতার প্রমাণ মেলে।
    ৪. লিখিত ইতিহাসের প্রাচীনত্ব: উয়ারী-বটেশ্বর আবিষ্কারের পূর্বে মনে করা হতো বাংলাদেশে নগর সভ্যতার সূচনা তুলনামূলক পরে হয়েছিল; কিন্তু এই আবিষ্কার বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে আড়াই হাজার বছর পেছনে নিয়ে গেছে।

    সুতরাং, প্রাচীন বাংলার মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্পর্কে জানতে এবং বস্তুনিষ্ঠ সামাজিক ইতিহাস পুনর্নির্মাণে উয়ারী-বটেশ্বর এক অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন