সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
কেরামত আলী টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না। অধিক মুনাফার আশায় জীবনের জমানো সমস্ত টাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জমা রাখে। সেখান থেকে প্রতি লাখে মাসে দুই হাজার টাকা মুনাফা পায়। একসময় এই টাকাই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে যায়। প্রতারিত হয়ে টাকার শোকে কেরামত আলী পাগল হয়ে পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে অকালে মৃত্যুবরণ করে।
- ক)(1)
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ধনকুবের কে?
- খ)(2)
“সে নবাবি পেলে প্রকারান্তরে আপনারাইতো দেশের মালিক হয়ে বসবেন।" -উক্তিটি বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কেরামত আলীর সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করেনি।" মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ধনকুবের হলেন জগৎশেঠ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি ক্লাইভ রাজা রাজবল্লভকে উদ্দেশ করে বলেছিল, যার দ্বারা বোঝানো হয়েছে মীর জাফর কেবল নামমাত্র নবাব হবেন, মূল ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁদেরই হাতে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত ছিল ইংরেজরা এবং দরবারের স্বার্থান্বেষী অভিজাতরা। তারা মীর জাফরকে মসনদে বসাতে চাইলেও ক্লাইভ রাজবল্লভ ও শেঠদের বোঝাতে চেয়েছিল যে পুতুল নবাব মীর জাফরের পেছনে আসল চালিকাশক্তি ও সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে তাদেরই। অর্থাৎ প্রকারান্তরে অভিজাত ব্যবসায়ী ও ইংরেজরাই হবেন বাংলার প্রকৃত মালিক ও ভাগ্যবিধাতা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কেরামত আলীর সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের স্বার্থপর ও অর্থলোভী উমিচাঁদ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে উমিচাঁদ চরম অর্থলিপ্সু এক সুযোগসন্ধানী বণিক। তার নীতি একটাই—টাকা। দেশের স্বাধীনতা বা নবাবের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে নিজ স্বার্থসিদ্ধি ও অতিরিক্ত টাকাই ছিল তার কাছে মূখ্য। এমনকি নবাব ও ইংরেজ উভয়ের সাথেই সে অর্থের বিনিময়ে ষড়যন্ত্রে অংশ নেয় এবং ক্লাইভের কাছে ত্রিশ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু ক্লাইভের জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে উমিচাঁদ সবকিছু হারিয়ে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বা পাগল হয়ে যায়।
উদ্দীপকের কেরামত আলীও টাকা ছাড়া কিছুই বুঝত না। অধিক মুনাফার আশায় সে সব টাকা একটি প্রতিষ্ঠানে জমা রাখে, যা শেষ পর্যন্ত প্রতারণার শিকার হয়ে উধাও হয়ে যায়। উমিচাঁদের মতো কেরামত আলীও অতিরিক্ত অর্থের লোভে প্রতারিত হয়ে শেষ পর্যন্ত পাগল হয়ে করুণ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অর্থলিপ্সা এবং তার ফলে প্রতারিত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর এই পরিণতির দিক থেকে কেরামত আলীর সাথে উমিচাঁদ চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করেনি।”—মন্তব্যটি যথার্থ।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নাটক। এর মূল উপজীব্য হলো ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি, নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদাবোধ, বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর, ঘসেটি বেগম ও ইংরেজদের কুৎসিত চক্রান্ত এবং বাংলা তথা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অস্তমিত হওয়ার মর্মন্তুদ ইতিহাস। রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও জাতীয় ট্র্যাজেডিই নাটকের মূল সুর।
উদ্দীপকে কেবল কেরামত আলীর ব্যক্তিগত অতিরিক্ত মুনাফার লোভ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতারিত হওয়া এবং পাগল হয়ে মারা যাওয়ার একটি সাধারণ সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রতারণার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। নাটকের একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের (উমিচাঁদ) অর্থলিপ্সা ও প্রতারিত হয়ে পাগল হওয়ার অনুষঙ্গের সাথে কেরামত আলীর ঘটনার আংশিক মিল পাওয়া গেলেও তা নাটকের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের অতি সামান্য একটি অংশ মাত্র। নাটকের কেন্দ্রীয় বিষয় নবাব সিরাজউদ্দৌলার সংগ্রাম, দেশপ্রেম কিংবা দেশের পরাধীনতার বেদনার মতো কোনো জাতীয় ও রাজনৈতিক সংকট উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
অতএব, উদ্দীপকটি কেবল নাটকের একটি গৌণ দিক বা উমিচাঁদের ট্র্যাজিক পরিণতির প্রতিধ্বনি করে, কিন্তু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সুবিশাল ঐতিহাসিক ক্যানভাস ও মূল রাজনৈতিক বিষয়বস্তুকে ধারণ করে না। তাই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও