যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
'পর্যাপ্ত বৃষ্টিই সমৃদ্ধির কারণ।'
- ক)(1)
বিশ্লেষণ কাকে বলে?
- খ)(2)
চেতনার মৌলিক অবস্থার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্ভব নয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার কোন রূপটি প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
কার্যকারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি জটিল ও মিশ্র কার্যকে ভেঙে তার পৃথক পৃথক কারণকে আলাদাভাবে প্রদর্শন করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে বিশ্লেষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চেতনার মৌলিক অবস্থা (যেমন—আনন্দ, দুঃখ, বর্ণ বা স্বাদের অনুভূতি) অত্যন্ত সরল ও প্রাথমিক মানসিক বিষয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো জটিল ঘটনাকে ভেঙে সহজ উপাদানে রূপান্তর করা হয় বা কোনো নিয়মের অধীনে আনা হয়। কিন্তু চেতনার মৌলিক অবস্থাকে আর কোনো সরলতর উপাদানে বিশ্লেষণ করা যায় না বা এদের কোনো সাধারণ গাঠনিক নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায় না বলে এদের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বক্তব্যটিতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'শৃঙ্খলীকরণ' (Concatenation / Intermixture) রূপটির কার্যকারণ সম্পর্কগত রূপ প্রকাশিত হয়েছে।
কার্য ও কারণের মধ্যবর্তী কোনো দূরবর্তী সম্পর্ক থাকলে তাদের মধ্যবর্তী সূত্র বা কারণগুলোকে ক্রমানুসারে সাজিয়ে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় শৃঙ্খলীকরণ বলে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে: 'পর্যাপ্ত বৃষ্টিই সমৃদ্ধির কারণ।' বৃষ্টি সরাসরি সমৃদ্ধি আনে না। এর মাঝে রয়েছে একটি ধারাবাহিক শৃঙ্খল: পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত -> মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও ফসলের ভালো ফলন -> অধিক উৎপাদন -> অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি। মধ্যবর্তী এই ধাপগুলোকে শৃঙ্খলিত করার মাধ্যমেই বৃষ্টির সাথে সমৃদ্ধির কার্যকারণ ব্যাখ্যা সম্ভব হয়। তাই এটি শৃঙ্খলীকরণ রূপকে নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কার্যকারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির (শৃঙ্খলীকরণ/মধ্যবর্তী স্তর আবিষ্কার) গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রত্যক্ষ ও দূরবর্তী সম্পর্কের সংযোগ: প্রকৃতিতে অনেক কার্য সরাসরি কোনো প্রত্যক্ষ কারণ দ্বারা ঘটে না; বরং কারণ ও কার্যের মাঝে একাধিক মধ্যবর্তী ধাপ থাকে। বৃষ্টি এবং সমৃদ্ধির মতো ঘটনার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলীকরণ মধ্যবর্তী ধাপগুলো উন্মোচন করে সঠিক কার্যকারণ নিশ্চিত করে।
২. ভ্রান্ত ধারণা ও অনুপপত্তি দূরীকরণ: মধ্যবর্তী কার্যকারণ শৃঙ্খল অনুধাবন না করলে অনেক সময় কাকতালীয় বা অবান্তর বিষয়কে কারণ মনে হতে পারে (যেমন- কাকতালীয় অনুপপত্তি)। শৃঙ্খলীকরণের মাধ্যমে যথার্থ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি উন্মোচিত হয়।
৩. বিজ্ঞানসম্মত পূর্বাভাস ও নিয়ন্ত্রণ: মধ্যবর্তী স্তরগুলো সঠিকভাবে জানা থাকলে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হয়।
৪. নিয়মের ব্যাখ্যা: একটি বৃহৎ নিয়মের সাথে অপর নিয়মের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য মধ্যবর্তী নিয়মকে যুক্ত করার মাধ্যমে বিজ্ঞানের সার্বিক অগ্রগতি সাধিত হয়।সুতরাং, দূরবর্তী কার্য ও কারণের সঠিক সংযোগ নির্ধারণ এবং যথার্থ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদানে মধ্যবর্তী শৃঙ্খল নির্ণয় অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও