ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মধ্যযুগে ধর্মাশ্রিত ইউরোপের চার্চগুলো পুরোহিতদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হতো। চার্চের প্রধানরা রাজনৈতিকভাবে বেশ ক্ষমতাশীল হওয়ায় সাধারণ জনগণ তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ চার্চের ভিতর গচ্ছিত রাখত। চার্চগুলো জমাকৃত সম্পদের কারণে বহিঃশত্র কর্তৃক আক্রান্ত হতো।
- ক)(1)
কিতাব-আল-হিন্দ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
- খ)(2)
ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত চার্চগুলো বহিঃশত্র কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটির সাথে তোমার পঠিত কোন মন্দির অভিযানের মিল। রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উত্ত মন্দির অভিযানের কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কিতাব-আল-হিন্দ' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন আবু রায়হান আল-বিরুনি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতবর্ষে প্রাচীনকাল থেকেই বহু বিচিত্র জাতিগোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ এবং সংস্কৃতির মানুষের আগমন ঘটেছে এবং তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করেছে। এই ভূখণ্ডে নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য ও বিভিন্ন মানবজাতির সংমিশ্রণ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। এই বৈচিত্র্য ও বিভিন্ন জাতির সহাবস্থানের কারণে ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' (Ethnological Museum) বলে অভিহিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত চার্চগুলো বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটির সাথে আমার পঠিত সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানকালে 'সোমনাথ মন্দির' অভিযানের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে ইউরোপের চার্চগুলোতে জনগণের প্রচুর ধনসম্পদ গচ্ছিত থাকার ফলে সেগুলো বহিঃশত্রুর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল বলে উল্লেখ আছে। একইভাবে প্রাচীন ও মধ্যযুগে ভারতবর্ষের সোমনাথ মন্দির কেবল ধর্মীয় উপাসনালয়ই ছিল না, বরং সেখানে ভারতবর্ষের তৎকালীন রাজা ও ভক্তদের দান করা অগাধ ধনরত্ন সঞ্চিত ছিল। সুলতান মাহমুদ এই বিপুল ধনসম্পদের আকর্ষণে ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দিরে অভিযান পরিচালনা করেন এবং মন্দির জয় করে অগাধ ধনসম্পদ হস্তগত করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির অভিযানের প্রধান কারণ ও ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
অভিযানের কারণ:
১. ধনসম্পদ লাভ: সোমনাথ মন্দিরে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত সোনা, রূপা, মণি-মুক্তাসহ বিপুল ধনসম্পদ গচ্ছিত ছিল। সুলতান মাহমুদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই সম্পদ হস্তগত করে তাঁর রাজধানী গজনিকে সমৃদ্ধশালী করা এবং সাম্রাজ্যের সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করা।
২. রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার: সোমনাথ মন্দির ছিল রাজপুত ও হিন্দু রাজাদের রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক। এটি জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় রাজাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।অভিযানের ফলাফল:
১. বিপুল ধনরত্ন লাভ: সুলতান মাহমুদ এ অভিযান থেকে অকল্পনীয় পরিমাণ স্বর্ণমুদ্রা ও রত্নভাণ্ডার নিয়ে গজনিতে প্রত্যাবর্তন করেন, যা তাঁর সাম্রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী করে।
২. রাজপুত শক্তির পতন ও আধিপত্য বিস্তার: সোমনাথ অভিযানের ফলে ভারতীয় শাসকদের রাজনৈতিক সংহতি বিনষ্ট হয় এবং পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের ভারতে স্থায়ী রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও