জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পুষ্টি উপাদান কী?

    (1)
  2. খ)

    গাঁজন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক চিত্র 'P" এর গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক চিত্র 'P' এর 'X' রন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ায় K+ এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ ও শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পরিবেশ থেকে যেসকল অজৈব উপাদান শোষিত হয়, সেগুলোকে পুষ্টি উপাদান (খনিজ পুষ্টি) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে অণুজীবের (যেমন- ঈস্ট, ব্যাকটেরিয়া) ক্ষরিত এনজাইমের প্রভাবে শর্করাজাতীয় খাদ্য অসম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে অ্যালকোহল বা জৈব এসিড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে এবং স্বল্প পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়, তাকে গাঁজন (Fermentation) বলে। যেমন— ঈস্টের উপস্থিতিতে গ্লুকোজ জারিত হয়ে ইথাইল অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'P' হলো একটি পত্ররন্ধ্র (Stoma)। এর গঠন নিম্নরূপ:
    ১. রক্ষীকোষ (Guard cells): পত্ররন্ধ্রের কেন্দ্রস্থলে দুটি অর্ধচন্দ্রাকার বা বৃক্কাকার সজীব কোষ থাকে, এদের রক্ষীকোষ বলে। রক্ষীকোষে সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস, ঘন সাইটোপ্লাজম এবং প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট উপস্থিত থাকে। এর ভেতরের দিকের প্রাচীরটি পুরু ও অস্থিতিস্থাপক এবং বাইরের প্রাচীরটি পাতলা ও স্থিতিস্থাপক।
    ২. রন্ধ্র বা ছিদ্রপথ (Stomatal pore): দুটি রক্ষীকোষের মাঝখানে যে ক্ষুদ্র ছিদ্রপথ বিদ্যমান, তাই হলো পত্ররন্ধ্রীয় ছিদ্র (উদ্দীপকে 'X' চিহ্নিত)।
    ৩. সহকারী কোষ বা সংলগ্ন কোষ (Subsidiary cells): রক্ষীকোষ দুটিকে ঘিরে সাধারণ ত্বকীয় কোষ থেকে কিছুটা ভিন্ন আকারের কিছু কোষ অবস্থান করে, এদের সহকারী কোষ বা সঙ্গীকোষ বলে।
    ৪. উপ-পত্ররন্ধ্রীয় প্রকোষ্ঠ (Sub-stomatal cavity): রন্ধ্রের ঠিক নিচেই একটি বড় বায়ুকুঠুরি বা প্রকোষ্ঠ থাকে, যা উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ গ্যাসীয় বিনিময়ে সাহায্য করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'P'-এর 'X' চিহ্নিত অংশটি হলো পত্ররন্ধ্রের রন্ধ্র বা ছিদ্রপথ। আধুনিক প্রোটন-পটাশিয়াম আয়ন (K+K^+) পাম্প মতবাদ (ইমামুরা ও লেভিট প্রবর্তিত) অনুসারে পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় পটাশিয়াম আয়নের (K+K^+) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

    ১. রন্ধ্র খোলা:

    • দিনের বেলা আলোর উপস্থিতিতে (বিশেষ করে নীল আলোতে) রক্ষীকোষের প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত প্রোটন পাম্প সক্রিয় হয় এবং কোষ থেকে হাইড্রোজেন আয়ন (H+H^+) বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়।
    • এর ফলে রক্ষীকোষে ঋণাত্মক চার্জের সৃষ্টি হয় এবং তা প্রশমিত করতে পার্শ্ববর্তী সহকারী কোষ থেকে সক্রিয়ভাবে পটাশিয়াম আয়ন (K+K^+) ও ক্লোরাইড আয়ন (Cl−Cl^-) রক্ষীকোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
    • রক্ষীকোষের অভ্যন্তরে K+K^+ ও ম্যালিক এসিড সঞ্চিত হয়ে দ্রাব ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, ফলে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে রক্ষীকোষে প্রবেশ করে।
    • পানি প্রবেশের ফলে রক্ষীকোষ স্ফীত হয় এবং এর পাতলা বহিঃপ্রাচীর বাইরের দিকে প্রসারিত হওয়ায় পুরু অন্তঃপ্রাচীর পরস্পরের থেকে দূরে সরে যায়, ফলে 'X' রন্ধ্রটি উন্মুক্ত হয়।

    ২. রন্ধ্র বন্ধ হওয়া:

    • রাতের বেলা আলোর অনুপস্থিতিতে প্রোটন পাম্প নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। রক্ষীকোষে অ্যাবসিসিক এসিডের (ABA) মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
    • এর প্রভাবে রক্ষীকোষ থেকে K+K^+ ও অন্যান্য আয়ন সহকারী কোষে বের হয়ে যায়।
    • ফলে রক্ষীকোষের ভেতরের দ্রাব ঘনত্ব হ্রাস পায় এবং বহিঃঅভিস্রবণের মাধ্যমে পানি বাইরে চলে যায়।
    • জলীয় চাপ কমে যাওয়ায় রক্ষীকোষ শিথিল ও সংকুচিত হয়ে পড়ে, যার ফলে 'X' রন্ধ্রটি বন্ধ হয়ে যায়।

    সুতরাং, পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষের স্ফীতি ও শিথিলতা নিয়ন্ত্রণ করে রন্ধ্রটি খোলা ও বন্ধ করায় K+K^+ আয়নের সঞ্চালন প্রধান ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন