কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
আজাদ একজন দুগ্ধ খামারি। তিনি শুষ্ক মৌসুমে বাড়ির পাশে উঁচু জায়গায় মাটির নিচে গর্ত করে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাঁচা সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করে রাখেন। পরবর্তীতে বর্ষা মৌসুমে এ সংরক্ষিত ঘাস তিনি কাঁচা সবুজ ঘাসের বিকল্প হিসেবে দুগ্ধবতী গাভীকে খাওয়ান। এতে গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে। গত কয়েকদিন ধরে তিনি লক্ষ্য করলেন খামারে দুটি গাভীর মুখের ভিতরে ও ক্ষুরের মাঝখানে 'ঘা' রয়েছে। এতে গাভী দুটি খুঁড়িয়ে হাঁটছে এবং খাদ্য গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে। ফলে তার খামারে দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়।
- ক)(1)
ল্যাকটোমিটার কী?
- খ)(2)
ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে আজাদের ঘাস সংরক্ষণের বিশেষ প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রোগটি দমনে করণীয় পদক্ষেপ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাকটোমিটার হলো দুধের বিশুদ্ধতা ও আপেক্ষিক গুরুত্ব পরিমাপক একটি বিশেষ যন্ত্র।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্ল্যাক বেঙ্গল বাংলাদেশের একটি উৎকৃষ্ট দেশীয় জাতের ছাগল। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. দেহের আকার ছোট ও আঁটসাঁট, গায়ের রঙ সাধারণত কালো, তবে ধূসর, সাদা বা খয়েরি রঙেরও হতে পারে।
২. এদের প্রজনন ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি; বছরে দুবার বাচ্চা প্রসব করে এবং প্রতিবারে ২ থেকে ৩টি বা তদূর্ধ্ব বাচ্চা দেয়। এদের মাংস সুস্বাদু এবং চামড়া আন্তর্জাতিক মানের। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আজাদ সাহেবের ঘাস সংরক্ষণের বিশেষ প্রক্রিয়াটি হলো 'সাইলেজ' (Silage) তৈরি।
বায়ুনিরোধক অবস্থায় অবাত গাঁজন (Anaerobic fermentation) প্রক্রিয়ায় রসালো সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করে রাখার পদ্ধতিকে সাইলেজ বলা হয়। সাইলেজ তৈরির ধাপগুলো নিম্নরূপ:
১. উপযোগী ঘাস নির্বাচন: ভুট্টা, নেপিয়ার, গিনি ইত্যাদি কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ কাঁচা ঘাস ফুল আসার সময় কেটে নেওয়া হয়।
২. সাইলো পিট তৈরি: আজাদ সাহেব উঁচু জায়গায় মাটির নিচে গর্ত করেছেন, যা 'সাইলো পিট' নামে পরিচিত। এর তলদেশ ও চারপাশ পলিথিন বা পাকা করে বায়ুরোধী করা হয়।
৩. প্রক্রিয়াকরণ: ঘাসগুলো ছোট ছোট টুকরো (২-৩ ইঞ্চি) করে কেটে গর্তে স্তরে স্তরে সাজিয়ে ভালোভাবে চেপে বাতাস বের করে দিতে হয় এবং প্রয়োজনে চিটাগুড় বা লালিগুড় মেশানো হয়।
৪. ঢাকনাবদ্ধকরণ: গর্ত ঘাসে পূর্ণ হলে উপরিভাগ পলিথিন ও মাটি দিয়ে শক্তভাবে বায়ুরোধী করে ঢেকে দেওয়া হয়।
এ প্রক্রিয়ায় ল্যাকটিক এসিড তৈরি হয়ে ঘাস দীর্ঘদিন পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে সংরক্ষিত থাকে, যা বর্ষা মৌসুমে কাঁচা ঘাসের অভাব পূরণ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত লক্ষণগুলো (মুখের ভেতরে ও ক্ষুরের মাঝখানে ঘা, খুঁড়িয়ে হাঁটা, খাবার গ্রহণে অনীহা ও দুধ উৎপাদন হ্রাস) থেকে বোঝা যায় যে গাভীগুলো 'ক্ষুরারোগ' বা 'ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ' (FMD)-এ আক্রান্ত হয়েছে। এটি একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ।
রোগটি নিয়ন্ত্রণে ও দমনে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:
১. আক্রান্ত পশুর পৃথকীকরণ: রোগাক্রান্ত গাভী দুটিকে অবিলম্বে সুস্থ পশুদের থেকে আলাদা স্থানে স্থানান্তর করতে হবে যাতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
২. ক্ষতস্থানের চিকিৎসা: মুখের ক্ষত ২% পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা ফিটকিরি মিশ্রিত হালকা গরম পানি দিয়ে দিনে ২-৩ বার ধুয়ে দিতে হবে এবং বোরাক্স গ্লিসারিন বা মধু লাগানো যেতে পারে। ক্ষুরের ঘা পরিষ্কার করার পর অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ বা সালফার মলম প্রয়োগ করতে হবে।
৩. আরামদায়ক খাবার ও বিশ্রাম: মুখে ঘা থাকায় শক্ত খাবারের পরিবর্তে নরম জাউ, ভাতের মাড় ও কুসুম গরম তরল খাবার দিতে হবে। পশুকে শুষ্ক ও নরম স্থানে রাখতে হবে।
৪. জীবাণুনাশক প্রয়োগ ও স্বাস্থ্যবিধি: খামারের মেঝে, খাবারের পাত্র পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। পরিচর্যাকারীকে জীবাণুমুক্ত হয়ে খামারে ঢুকতে হবে।
৫. প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ: সুস্থ পশুগুলোকে নিয়মিত ক্ষুরারোগের টিকা (FMD Vaccine) প্রদান করতে হবে।
৬. মৃত পশুর নিরাপদ অপসারণ: কোনো পশু মারা গেলে তাকে খামার থেকে দূরে গভীর গর্তে চুন দিয়ে পুঁতে ফেলতে হবে।সঠিক সময়ে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রোগের বিস্তার রোধ ও খামারকে রক্ষা করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও