ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর। গেটিসবার্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দাস প্রথা বিলোপ, নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্র প্রসঙ্গে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তাঁর এ ভাষণের স্থায়িত্বকাল ছিল মাত্র তিন মিনিট। 'গেটিসবার্গ এড্রেস' নামে খ্যাত এ ভাষণ দুনিয়ার ইতিহাসে গণতন্ত্রের মহাজাগরণে এক অনন্য দলিল।
- ক)(1)
ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ভাষণের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে কোন.মহান নেতার ভাষণের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত ভাষণের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে যে বর্বরোচিত ও সুপরিকল্পিত গণহত্যা শুরু করেছিল, তার সামরিক সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। এর মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গেটিসবার্গ ভাষণের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গভীর মিল রয়েছে।
আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালে গেটিসবার্গে দেওয়া মাত্র তিন মিনিটের ভাষণে মানুষের স্বাধীনতা, সমতা এবং গণতন্ত্রের মূল চেতনাকে সংক্ষেপে অথচ অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছিলেন। একইভাবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১৮ মিনিটের এক কালজয়ী ভাষণে শোষিত-নির্যাতিত বাঙালি জাতিকে মুক্তির চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন।
উভয় ভাষণই মুক্তির সনদ, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য এক মহান ডাক। আব্রাহাম লিংকনের ভাষণ যেমন আমেরিকানদের জাতীয় ঐক্য ও মুক্তির পথ দেখিয়েছিল, তেমনি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে চূড়ান্ত প্রেরণা জুগিয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে নির্দেশিত বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বাঙালি জাতির মুক্তির মহাকাব্য।
ঐতিহাসিক এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ তেইশ বছরের শোষণ, নির্যাতন ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে শত্রুর মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। তাঁর সেই অমর বাণী—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম"—বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
বিশ্ব ইতিহাসে ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ভাষণ কোনো লিখিত পাণ্ডুলিপি ছাড়া সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হলেও এতে ছিল অতুলনীয় রাজনৈতিক দর্শন ও দিকনির্দেশনা। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) এই ঐতিহাসিক ভাষণকে 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার'-এ অন্তর্ভুক্ত করে 'বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অতএব, লিংকনের গেটিসবার্গ এড্রেসের মতোই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের মুক্তির অনুপ্রেরণা এবং বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক দলিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও