ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: রাসুল (স) এর নিকট যখন কোনো ওহি অবতীর্ণ হতো তখন তিনি তা মুখস্থ করে নিতেন এবং সাহাবাদেরকে লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন।দৃশ্যপট-২: রাসুল (স) এর ইন্তিকালের পর অনেক হাফেজে কুরআন শহিদ হলে একজন খলিফা সর্বপ্রথম পবিত্র কুরআনের বিক্ষিপ্ত কপিগুলো একত্র করে গ্রন্থাবন্ধ করেন।দৃশ্যপট-৩: উমাইয়া আমলে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কোনো অনুপ্রবেশ না 'ঘটিয়ে পবিত্র কুরআনে হরকত ও নোকতা সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
পবিত্র কুরআনে কয়টি আয়াত রয়েছে?
- খ)(2)
সুরা আল-বাকারার নামকরণের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-২ এ উল্লেখিত খলিফা কে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অনারবদের কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে দৃশ্যপট-৩ এ উল্লেখিত উদ্যোগের প্রভাব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রচলিত ও সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গণনা অনুযায়ী পবিত্র কুরআনে মোট ৬,২৩৬টি আয়াত রয়েছে (মতান্তরে ৬৬৬৬টি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আল-বাকারা' (البقرة) শব্দের অর্থ 'গাভী'। সুরা আল-বাকারার ৬৭ থেকে ৭৩ নম্বর আয়াতে বনি ইসরাইল জাতির একটি বিশেষ গাভী জবেহ সংক্রান্ত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার নামানুসারেই এই সুরার নাম 'আল-বাকারা' রাখা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-২ এ উল্লেখিত খলিফা হলেন ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর ইয়ামামার যুদ্ধে বহু সংখ্যক হাফেজে কুরআন সাহাবি শাহাদাত বরণ করেন। এতে কুরআনের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে হজরত উমর (রা.) খলিফা আবু বকর (রা.)-কে পবিত্র কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলন করার পরামর্শ দেন। খলিফা আবু বকর (রা.) প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করলেও পরবর্তীতে এর গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং ওহি লেখক যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে বিভিন্ন সাহাবির কাছে সংরক্ষিত লিখিত অংশ এবং হাফেজদের স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে পবিত্র কুরআনের বিক্ষিপ্ত কপিগুলো একত্রিত করে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুসহাফ বা গ্রন্থাকারে সংকলন করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনারবদের জন্য কুরআন শিক্ষার পথ সুগম করার ক্ষেত্রে দৃশ্যপট-৩ এ উল্লেখিত হাজ্জাজ বিন ইউসুফের উদ্যোগের প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরবরা হরকত (যের, যের, পেশ) ও নোকতা ছাড়াই বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারতেন, কারণ আরবি ছিল তাদের মাতৃভাষা। কিন্তু ইসলাম অনারব অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অনারব মুসলমানদের পক্ষে হরকত ও নোকতাহীন কুরআন বিশুদ্ধভাবে পড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং ভুল উচ্চারণের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে উমাইয়া শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ প্রখ্যাত আলেমদের (যেমন আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার ও নাসর ইবনে আসিম প্রমুখের পূর্ববর্তী কাজকে ভিত্তি করে) মাধ্যমে কুরআনে হরকত ও নোকতা সংযোজন করেন। এর ফলে অনারবদের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত প্রভাব পড়ে:
১. তিলাওয়াতের নির্ভুলতা: হরকত ও নোকতা যুক্ত হওয়ায় অনারবরা সহজে সঠিক উচ্চারণে কুরআন পাঠ করতে সক্ষম হন এবং শব্দের অর্থ পরিবর্তনের ঝুঁকি রোধ হয়।
২. কুরআন শিক্ষা সহজীকরণ: অনারব শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য কুরআন তিলাওয়াত শেখা অত্যন্ত সহজ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
৩. সর্বজনীনতা রক্ষা: এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কারণে কুরআন কেবল আরবি ভাষাভাষীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বব্যাপী সকল জাতির মানুষের কাছে সহজেই গ্রহণযোগ্য ও পাঠযোগ্য হয়ে ওঠে।অতএব, অনারবদের সহিহ তিলাওয়াত ও কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটি একটি যুগান্তকারী ও অপরিহার্য পদক্ষেপ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও