গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ডাক্তার মিথিলা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তার নিজ গ্রামে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তিনি প্রথম যে রোগী দেখেন তার পায়ের হাড় ধনুকের মতো বাঁকা, দ্বিতীয় যে রোগী দেখেন তার গলার সামনের অংশ কিছুটা ফোলা এবং তৃতীয় যে রোগী দেখেন সে রাতে ভালোভাবে দেখতে পায় না।

  1. ক)

    খাদ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    জীবদেহে প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম রোগী যে রোগে আক্রান্ত তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় ও ৩য় রোগীর রোগীর প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব আহার্য বস্তু গ্রহণ করলে জীবদেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, শক্তি উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তাকে খাদ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবদেহের গঠন উপাদান হিসেবে প্রোটিন অপরিহার্য। প্রোটিন দেহের নতুন কোষ সৃষ্টি, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং শারীরিক বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এটি এনজাইম, হরমোন এবং অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে জৈবিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই জীবদেহের সুস্থতা ও অস্তিত্ব রক্ষায় প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম রোগীর পায়ের হাড় ধনুকের মতো বাঁকা, যা মূলত রিকেটস (Rickets) রোগের লক্ষণ।

    রিকেটস রোগের প্রধান কারণ হলো দেহে ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি। ভিটামিন 'ডি' ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে এবং হাড়ের গঠনে সহায়তা করে। শিশুর খাদ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন 'ডি' না থাকলে অথবা শরীরে পর্যাপ্ত সূর্যালোক না লাগলে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায়। ফলে শরীরের ভার বহন করতে গিয়ে পায়ের হাড়গুলো বেঁকে যায় এবং ধনুকের মতো রূপ নেয়। তাই ভিটামিন 'ডি' ও ক্যালসিয়ামের অভাবেই প্রথম রোগী এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ২য় রোগী গলগণ্ড (Goitre) রোগে এবং ৩য় রোগী রাতকানা (Night blindness) রোগে আক্রান্ত। নিম্নে এদের প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ২য় রোগীর (গলগণ্ড) প্রতিকার ও প্রতিরোধ:

    • কারণ: আয়োডিনের অভাব।
    • করণীয়: আয়োডিনযুক্ত লবণ নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে। সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, সামুদ্রিক শৈবাল, মাছের তেল ইত্যাদি আয়োডিনসমৃদ্ধ খাদ্য খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। রোগ জটিল আকার ধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থাইরয়েড হরমোন রিপ্লেসমেন্ট বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করাতে হবে।

    ২. ৩য় রোগীর (রাতকানা) প্রতিকার ও প্রতিরোধ:

    • কারণ: ভিটামিন 'এ'-এর অভাব।
    • করণীয়: ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন—গাজর, পাকা আম, পাকা পেঁপে, ছোট মাছ (মলা, ঢেলা), ডিমের কুসুম, কলিজা, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে উচ্চমাত্রার ভিটামিন 'এ' সেবনের মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব।

    অতএব, সঠিক পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস এবং সচেতনতার মাধ্যমেই এ দুটি রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন