সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী প্রথম নারী নবাব। নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনহিতকর কাজের জন্য তিনি ইতিহাসে পরিচিত হয়ে আছেন। তিনি ওয়াকফনামা দলিলে উল্লেখ করেছেন-"ক্ষণভঙ্গুর মানবদেহ কখন যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় তাহার নিশ্চয়তা নাই। সুতরাং আমার অবশিষ্ট জীবন ঈশ্বরের উপাসনায় পর্যবসিত ও আমার সম্পত্তির উপস্বত্ব ধর্ম ও সৎকার্যে ব্যয় হয় ইহাই কায়মনোবাক্যে সংকল্প ও কর্তব্য মনে করিয়াছি।" তিনি আজ দেহগতভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আমাদের হৃদয়ে তিনি আছেন তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে।

  1. ক)

    'সোনার তরী' কবিতায় উল্লিখিত মাঝি কীসের প্রতীক?

    (1)
  2. খ)

    'বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।'-পঙ্ক্তিতে যে আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর 'দেহগতভাবে' বেঁচে না থাকা 'সোনার তরী' কবিতার কোন বিশেষ দিককে ইঙ্গিত করে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "পরিস্থিতির ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাব অভিন্ন।" মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কবো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সোনার তরী' কবিতায় উল্লিখিত মাঝি মহাকালের বা কালের নিয়মের প্রতীক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে'—পঙ্ক্তিটিতে কবির মহাকালের নৌকায় নিজের স্থান করে নেওয়ার তীব্র আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে।

    'সোনার তরী' কবিতায় কৃষক রূপী কবি তাঁর জীবনের সমস্ত সৃষ্টি বা সোনার ধান মহাকালের তরীতে তুলে দেন। তাঁর সমস্ত ফসল নৌকায় গৃহীত হলেও ব্যক্তি-মানুষ হিসেবে কবি নিজে সেখানে স্থান পাননি। কারণ মহাকাল কেবল মানুষের মহৎ সৃষ্টিকেই ধারণ করে, নশ্বর ব্যক্তিসত্তাকে নয়। তাই নিঃসঙ্গ কবি তরী চলে যাওয়ার মুহূর্তে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা ও আশ্রয়ের জন্য মাঝির কাছে ব্যাকুলভাবে কূলে তরী ভিড়ানোর মিনতি জানিয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর 'দেহগতভাবে' বেঁচে না থাকা 'সোনার তরী' কবিতার নশ্বর মানবদেহের অনিবার্য বিলোপ ও ব্যক্তিমানুষের স্থায়িত্বহীনতার দিকটিকে ইঙ্গিত করে।

    'সোনার তরী' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেখিয়েছেন যে, মহাকালের স্রোতে ব্যক্তিমানুষের রক্ত-মাংসের দেহ বা নশ্বর অস্তিত্ব টিকতে পারে না। মহাকালের রূপক-নৌকা কেবল মানুষের মহৎ সৃষ্টি বা কর্মকেই স্থান দেয়, কিন্তু ব্যক্তিমানুষকে গ্রহণ করে না; শূন্য নদীর তীরে তাকে একাকী বিলীন হতে হয়।

    উদ্দীপকে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী উপলব্ধি করেছেন মানবদেহ ক্ষণভঙ্গুর এবং তা নিশ্চিতভাবেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তিনিও আজ দেহগতভাবে বেঁচে নেই। এই নশ্বর দেহের বিনাশ এবং ব্যক্তির শারীরিক অনুপস্থিতির দিকটি 'সোনার তরী' কবিতার সেই চরম সত্যের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে দেখা যায় কৃষক তথা কবির ব্যক্তিদেহের মহাকালের নৌকায় ঠাঁই হয় না, তাকে কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "পরিস্থিতির ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাব অভিন্ন"—মন্তব্যটি যথার্থ।

    'সোনার তরী' কবিতার মূল দর্শন হলো—ব্যক্তিমানুষ নশ্বর, কিন্তু মানুষের সৃষ্টি বা কর্ম শাশ্বত। মহাকাল মানুষের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বা সোনার ধানকে সাদরে গ্রহণ করে অমরত্ব দান করে, কিন্তু সৃষ্টিশীল নশ্বর ব্যক্তিসত্তাকে শূন্য নদীর তীরে পরিত্যাগ করে।

    উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটটি একজন মানবহিতৈষী নারীর আত্মোপলব্ধি ও কর্মভিত্তিক। নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী জানতেন পার্থিব দেহ ক্ষণস্থায়ী, তাই তিনি তাঁর সম্পদ ও জীবন জনহিতকর ও ধর্মীয় কাজে উৎসর্গ করেছেন। ফলস্বরূপ, দেহগতভাবে তিনি বিলীন হয়ে গেলেও তাঁর মহৎ কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে আছেন। অন্যদিকে, 'সোনার তরী' কবিতার রূপক কাহিনীতে কৃষক তাঁর সারা জীবনের উৎপাদিত সোনার ধান মাঝির তরীতে তুলে দিয়ে শূন্য কূলে একাকী পড়ে থাকে; ধান বা সৃষ্টি ঠাঁই পেলেও ব্যক্তির স্থান হয় না।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে ফয়জুন্নেসার মানবসেবা ও ওয়াকফনামার পটভূমি এবং কবিতায় ধান কাটা ও মহাকালের নৌকার পটভূমি বা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু উভয়ের অন্তর্নিহিত মূলভাব এক ও অভিন্ন—রক্ত-মাংসের নশ্বর দেহ ধ্বংস হয়ে গেলেও মানুষের মহৎ কর্ম ও অবদান মহাকালের বুকে চিরন্তন হয়ে বেঁচে থাকে। অতএব মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন